চাকরি স্থায়ীকরণ প্রভৃতি দাবিতে ঢাকায় বাংলাদেশ রেলওয়ের অস্থায়ী (টিএলআর) শ্রমিকদের অবরোধ কর্মসূচির কারণে প্রায় সাড়ে ৫ ঘণ্টা সারা দেশের সঙ্গে রেল যোগাযোগ বন্ধ ছিল গতকাল সোমবার। ফলে ঢাকা থেকে বিভিন্ন গন্তব্যের এবং ঢাকামুখী ট্রেনযাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েন।
তাদের অন্য দাবিগুলো হলো, রেলওয়েতে আউটসোর্সিং প্রথা বাতিল ও নিয়োগবিধি ২০২০ সংশোধন করে আগের মতো চতুথ শ্রেণির কর্মচারীদের যোগ্যতা অষ্টম শ্রেণি পাস বহাল রাখা।
এসব দাবিতে রাজধানীর মালিবাগ রেলগেট এলাকায় সকাল ১০টার দিকে রেলপথ অবরোধ করেন রেলের অস্থায়ী শ্রমিকরা। সে সময় কমলাপুর থেকে কিশোরগঞ্জগামী এগারোসিন্ধুর ট্রেনটি আটকে দেওয়া হয়। এতে ঢাকার সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা রেললাইন ছাড়বেন না বলে হুঁশিয়ারি দেন। দুপুরের দিকে সেখানে পুলিশ উপস্থিত হয়ে তাদের লাঠিপেটা করে ও ধাওয়া দিয়ে সরিয়ে দেয়। প্রায় সাড়ে ৫ ঘণ্টা পর ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের ম্যানেজার মোহাম্মদ মাসুদ সারওয়ার দেশ রূপান্তরকে জানান, ‘এ কারণে সাতটি ট্রেন ঢাকা থেকে দেরিতে ছেড়েছে। রংপুর এক্সপ্রেস সকাল ৯টা ১০ মিনিটে ছাড়ার কথা থাকলেও ছেড়েছে দুপুর আড়াইটায়। একতা এক্সপ্রেস প্ল্যাটফরম ছাড়ে সকাল ১০টা ১০ মিনিটে। কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস, জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস, অগ্নিবীণা এক্সপ্রেস, রাজশাহী কমিউটার, চট্টলা এক্সপ্রেস ও মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ঢাকা ছেড়েছে দেরিতে।’ একই দাবিতে গত ১৬ জুলাই রাজধানীর এফডিসি রেলগেট এলাকায় রেললাইন অবরোধ করেছিলেন অস্থায়ী শ্রমিকরা। পরে পুলিশের উপস্থিতিতে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক জাহাঙ্গীর হোসেনের আশ্বাসে প্রায় ৫ ঘণ্টা পর তারা সরে গিয়ে রেলভবনে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনায় বসে।
চাকরি স্থায়ীকরণের জন্য কর্তৃপক্ষকে গত আগস্ট মাসের ২৪ তারিখ পর্যন্ত আলটিমেটাম দিয়েছিল অস্থায়ী শ্রমিকরা। গত মাসে রেলওয়ের মহাপরিচালক তাদের জানিয়েছেন, চাকরি স্থায়ীকরণের ব্যবস্থা করা রেলওয়ের পক্ষে সম্ভব নয়। সরকার চাইলে হতে পারে। তাই তারা আন্দোলন করছে।
রেলওয়ের একাধিক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে জানান, অস্থায়ী শ্রমিক হিসেবে দৈনিক হাজিরার ভিত্তিতে তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এটা মেনেই তারা কাজ করছে। তাদের চাকরি স্থায়ী করার কোনো সুযোগ নেই। এরপরও যাত্রীদের জিম্মি করে তারা প্রায়ই রেলপথ অবরোধ করে। এটা দুঃখজনক।
রেলওয়ের অস্থায়ী শ্রমিকদের প্রতিনিধি মোহাম্মদ হোসেন বলেন, ‘সরকারি গেজেট বাস্তবায়নের মাধ্যমে চাকরি স্থায়ী করার দাবিতে রেলমন্ত্রী, রেলসচিব ও রেল কর্র্তৃপক্ষের কাছে গিয়েও সমাধান না পাওয়ায় অস্থায়ী শ্রমিকরা অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছে।’
সূত্রমতে, যত ঘণ্টা কাজ তত ঘণ্টার মজুরির ভিত্তিতে এসব অস্থায়ী শ্রমিককে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাদের অনেকে প্রায় ১০ বছর ধরে চাকরি করছে। ২০২০ সালের নিয়োগবিধিতে তাদের বেসরকারিভাবে কাজ করতে বলা হয়। এ নিয়ে শঙ্কায় পড়ে প্রায় সাত হাজার টিএলআর শ্রমিক। গত জুনে তাদের অস্থায়ী নিয়োগ বাতিল হয়ে গেছে। গত ৭ আগস্ট রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন সংশ্লিষ্ট নেতারা। আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত তাদের চাকরি থাকবে বলে আশ্বাস দেন মন্ত্রী।
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত তাদের বেতন ঠিকমতো দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। এরপর কী হবে তা নিয়ে রেলমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আলোচনা করবেন। নির্বাচনের আগে আন্দোলনে না যেতে আহ্বান জানিয়েছেন রেলমন্ত্রী।