মেঘনা লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানীর টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর জোনাল অফিসের হিসাব রক্ষক মো. আলমগীর তালুকদার (৫৫) কে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে রাজু আহমেদ (২৫) ও রাকিব (১৫) নামের দুই অপহরণকারীকে আটক করেছে পুলিশ।
অপহরণকারীরা হলেন- টাঙ্গাইলের কালীহাতি উপজেলার সিলিমপুর গ্রামের রাজু আহমেদ ও একই গ্রামের রাকিব।
মেঘনা লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানীর ভূঞাপুর জোনাল অফিসের ম্যানেজার তারিকুল ইসলাম তুহিন জানান, আলমগীরকে অজ্ঞাত মোবাইল ফোন থেকে এক ব্যক্তি জানান,তার আমেরিকা প্রবাসী এক আত্মীয় মেঘনা লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানীতে একটি বীমা করবে। পরবর্তীতে অফিস শেষে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে আমি ও আলমগীর মোবাইল ফোনে জানানো ঠিকানা অনুযায়ী ভূঞাপুরস্থ শিয়ালকোল ভূঞাপুর ফিলিং স্টেশনে যাই। সেখানে গিয়ে তাদের দু’জনকে দেখতে পাই এবং তারা আমাদের জানায়, যে ব্যক্তি বীমা করবে সে তার আত্মীয়, এখানে আসতে একটু দেরি হবে।
পরবর্তীতে তাদেরকে সঙ্গে নিয়ে আমরা ভূঞাপুর চলে আসি। বীমা করার জন্য তারা দুজন আলমগীরকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেল যোগে আলমগীরের বাড়ি ছয়ানী বকশিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয় এবং ছয়ানী বকশিয়া না গিয়ে আলমগীরের বুকে ছুরি ঠেকিয়ে কালীহাতি উপজেলার বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন একটি বয়েল মিলে নিয়ে জিম্মি করে রাখে তাকে।
ভুক্তভোগী আলমগীর তালুকদারের স্ত্রী হাসিনা বেগম জানান, আমার স্বামী রবিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে বাড়ি থেকে অফিসে যায়। বিকেলে তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরে রাত সাড়ে ৭টার দিকে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন থেকে কল করে আমাকে বলে, আমি সমস্যায় আছি কারোর কাছ থেকে টাকা নিয়ে আমাকে তাড়াতাড়ি ২ লাখ টাকা পাঠাও। এছাড়া ওই মোবাইল থেকে আত্মীয়-স্বজনদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে আমার স্বামী সর্বমোট ওই নম্বরে ৩৫ হাজার ৫শ টাকা পাঠায়। পরে তারা আমার স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে মোবাইলের দোকান থেকে টাকা তুলতে গেলে আমার স্বামীর চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে রাকিবকে হাতেনাতে ধরে ভূঞাপুর থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করে এবং রাজু পালিয়ে যায়।
এমতাবস্থায় আলমগীরের কোনো সন্ধান না পেয়ে তার ভাই মাহমুদুল হাসান তালুকদার (লাল মিয়া) ভূঞাপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় রবিবার রাতে ঢাকা থেকে রাজুকে আটক করে।
ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আহসান উল্লাহ জানান, এ বিষয়ে ভূঞাপুর থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করা হয়েছে। আটককৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধারণা করা হচ্ছে, এই চক্রের সঙ্গে আরও একাধিক ব্যক্তি জড়িত আছে। তাই আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া আটককৃতদের টাঙ্গাইল জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।