ব্রিটেনে সব ধর্মের লোকদের মসজিদে আমন্ত্রণ

সামাজিক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যবোধ তৈরি করতে ব্রিটেনে এবারও পালন করা হবে ‘ভিজিট মাই মস্ক’ (আমাদের মসজিদে আসুন) দিবস। মুসলিম কাউন্সিল অব ব্রিটেনের (এমসিবি) তত্ত্বাবধানে দেশটির আড়াই শর বেশি মসজিদে পালিত হবে দিবসটি। আগামী ২৩-২৪ সেপ্টেম্বর দুই দিন মসজিদগুলো সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। ওই দিন মসজিদ প্রাঙ্গণে থাকবে বিভিন্ন ইসলামি প্রদর্শনী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন।

আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, ইসলাম সম্পর্কে ভুল ধারণা খণ্ডন, ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের প্রতি সম্প্রীতির বার্তা দেওয়া; মুসলিমদের প্রতি অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের অহেতুক আতঙ্ক দূর এবং ইসলাম সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দিতে পালন করা এই কর্মসূচি ইতিমধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। ‘আমাদের মসজিদে আসুন’ কর্মসূচি মুসলমানদের জন্য তাদের স্থানীয় প্রতিবেশীদের খুব কাছে পৌঁছানোর একটা বিশেষ সুযোগ। ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের অধিকাংশ মসজিদ প্রতিবছর এই আয়োজনে অংশ নেয়।

এক বিবৃতিতে এমসিবি জানিয়েছে, ‘প্রতিবছরের মতো এবারও ভিজিট মাই মস্ক দিবসটি পালিত হবে। মুসলিম কাউন্সিল অব ব্রিটেনের নেওয়া এই উদ্যোগে আড়াই শর বেশি মসজিদ অংশ নেবে। এই সময় মসজিদগুলো সব ধর্মের লোকদের জন্য সার্বক্ষণিক উন্মুক্ত থাকবে।

এতে স্থানীয় সব সম্প্রদায়ের সঙ্গে মসজিদগুলোর সেতুবন্ধ তৈরি হবে।’ এই আয়োজনে অংশ নিতে মসজিদ কর্র্তৃপক্ষকে ওয়েবসাইটে নিবন্ধন করতে বলা হয়। ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘হ্যাশট্যাগ ভিজিট মাই মস্ক’ লিখে চলছে প্রচার। এমসিবি এক পরিসংখ্যানে জানিয়েছে, ব্রিটেনের ৭০ শতাংশ মানুষ অন্য ধর্মের উপাসনাস্থলের ভেতরের অংশ কখনো দেখেনি।

আর প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ কখনো মসজিদের ভেতরের অংশ দেখেনি। তাই সব ধর্মের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক জানাশোনা ও সুসম্পর্ক গড়তে মসজিদ পরিদর্শনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। যেন ইসলাম ও মুসলিমদের জীবনযাপন সম্পর্কে অন্য ধর্মের মানুষও ধারণা লাভের সুযোগ পান।

ব্রিটেনে কমপক্ষে ৩০ লাখ মুসলমান বাস করেন। এদের মধ্যে অর্ধেক ব্রিটিশ মুসলিমের জন্ম হয়েছে যুক্তরাজ্যে। যেকোনো ধর্মাবলম্বী এবং যেকোনো বিশ্বাসের মানুষই মসজিদে প্রবেশের অনুমতি পাবে। সেখানে যেকোনো প্রশ্ন করার জন্য তাদের সাদরে আমন্ত্রণ জানানো হবে।

২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রথমবার ভিজিট মাই মস্ক দিবসটি অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম বছরই সবার মধ্যে মসজিদভিত্তিক ব্যতিক্রমী এ কর্মসূচি ব্যাপক সাড়া ফেলে। ওই বছর যুক্তরাজ্যের ২০টি মসজিদ এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করলেও বর্তমানে এ সংখ্যা বেড়ে তিন শর কাছাকাছি পৌঁছে। দিনটিতে প্রধানমন্ত্রী, সংসদ সদস্য, বিরোধীদলীয় নেতা, জ্যেষ্ঠ রাজনীতিবিদসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা স্থানীয় মসজিদ পরিদর্শন করেন।