সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সংসদকে জানিয়েছেন, বর্তমানে দেশে নিবন্ধিত মোটরযানের সংখ্যা ৫৭ লাখ ৫২ হাজার ১৯৭টি এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স ইস্যুর সংখ্যা ৫৯ লাখ ৪৬ হাজার ৫২৩টি।
গতকাল সোমবার আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য (এমপি) এম আবদুল লতিফের এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে তিনি এসব তথ্য জানান। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন। এদিন প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপিত হয়।
সেতুমন্ত্রী বলেন, দেশে অদক্ষ ও লাইসেন্সবিহীন গাড়িচালকের সংখ্যা ২৪ লাখ, তথ্যটি বস্তুনিষ্ঠ নয়। বর্তমানে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্র্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) কর্র্তৃক নিবন্ধিত মোটরযানের সংখ্যা ৫৭ লাখ ৫২ হাজার ১৯৭ এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স (মোটরযানের শ্রেণি অনুযায়ী) ইস্যুর সংখ্যা ৫৯ লাখ ৪৬ হাজার ৫২৩।
তিনি জানান, সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাসকল্পে দক্ষ ও মানবিক গুণসম্পন্ন গাড়িচালক তৈরির লক্ষ্যে বিআরটিএ কর্র্তৃক পেশাজীবী গাড়িচালকদের নিয়মিতভাবে রিফ্রেসার্স প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। পেশাজীবী গাড়িচালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়নকালে ড্রাইভার প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক। ২০০৮ থেকে চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত সারা দেশে ৮ লাখ ১৫ হাজার ১৪২ জন পেশাজীবী গাড়িচালককে সড়ক নিরাপত্তা, ট্রাফিক আইন ও সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘নতুন চালক তৈরির বিভিন্ন প্রকল্প এবং কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের আওতায় এসইআইপি প্রকল্পের মাধ্যমে আগামী পাঁচ বছরে এক লাখ চালক তৈরির লক্ষ্যে একটি কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে। ওই প্রকল্পের আওতায় বিআরটিসির মাধ্যমে পাঁচ বছরে ৪ হাজার ৭০ জনকে দক্ষ চালক হিসেবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
রেলস্টেশনে প্ল্যাটফর্মের উচ্চতা বাড়ছে : রেলমন্ত্রী
রেলযাত্রীদের ট্রেনে আরোহণ ও অবতরণের সুবিধার জন্য প্ল্যাটফর্মের উচ্চতা বাড়ানোর কার্যক্রম চলছে বলে সংসদকে জানিয়েছেন রেলমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন। তিনি জানান, প্ল্যাটফর্মের উচ্চতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রতিবন্ধীদের জন্য স্টেশনগুলোতে হুইলচেয়ার ও র্যাম্প রাখা হচ্ছে। বিনা টিকিটের যাত্রী যাতে স্টেশন বা ট্রেনে প্রবেশ করতে না পারে, সেজন্য বড় স্টেশনগুলোতে ফেন্সিং নির্মাণ করা হয়েছে।
গতকাল সংসদ অধিবেশনে লিখিত প্রশ্নোত্তরে তিনি এসব তথ্য জানান। সরকারি দলের সংসদ সদস্য এম আবদুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী আরও জানান, পরিকল্পনা অনুযায়ী সব জেলা স্টেশনগুলো পর্যায়ক্রমে রিমডেলিং করা হবে। স্টেশনে ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার স্থাপন করা হয়েছে। নারীদের জন্য আলাদা কাউন্টার, কোচ সংরক্ষণ ও স্বতন্ত্র টয়লেট স্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়া ট্রেনের অভ্যন্তরে মানসম্মত খাবার সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে ও ট্রেনে যাত্রীদের অনবোর্ড সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। ফলে যাত্রীদের ভ্রমণ আরামদায়ক ও নিরাপদ হচ্ছে।
একই প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ রেলওয়েতে বর্তমানে বিভিন্ন শ্রেণিতে প্রায় ২০ হাজার শূন্য পদ রয়েছে। রেলওয়েতে গত ৯ মাসে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ২ হাজার ৮৮০ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।