আট বছর আগে হবিগঞ্জ জেলা কারাগারে বসে সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবুল মুহিত ও হবিগঞ্জ-৩ আসনের এমপি আবু জাহিরকে হত্যার ষড়যন্ত্রের মামলায় হবিগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র ও জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জি কে গউছকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
মামলার বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা সদর থানার ওসি মো. বদিউজ্জামের আবেদনের প্রেক্ষিতে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইন মঙ্গলবার এ আদেশ দেন।
২০১৫ সালের ২৮ আগস্ট হবিগঞ্জ সদর থানার এসআই সানাউল হক জিকে গউছসহ পাঁচজনের নামোল্লেখ করে অঞ্জাতনামা আরো কয়েকজনের বিরুদ্ধে ওই মামলা করেন।
মামলার এজাহারে তিনি বলেন, ২০১৫ সালের ২৭ জুলাই কারাগারে অন্তরীণ ইলিয়াছ মিয়া ওরফে ছোটন নামে এক আসামি একটি পৃথক মামলায় ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিতে বলেন, ২০১৪ সালের ২৮ ডিসেম্বর মেয়র জি কে গউছ সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া হত্যার উদ্দেশ্যে কারাগারে অন্তরীণ থাকা অবস্থায় আসামি গোলাম কাওছার ঝলক ও সফিকুল ইসলাম সেতুর মাধ্যমে কারাগারে থাকা অপর এক মামলার আসামি ইলিয়াছকে দেখা করার জন্য সংবাদ পাঠান।
অভিযোগে বলা হয়, ইলিয়াছ বিএনপি নেতা জিকে গউছের সঙ্গে দেখা করেন। ওই সময় জিকে গউছ ১০ কোটি টাকায় সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবুল মুহিতকে ও দুই কোটি টাকায় এমপি আবু জাহিরকে হত্যার জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়। অগ্রিম হিসেবে ১০ লাখ টাকা কারাগারের পিসিতে জমা দেওয়ার কথাও বলা হয়। জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর এ কাজ করবে বলে তাদের মধ্যে একাধিকবার কথাবার্তা হয়। গত ২০১৫ সালের ১৭ জুলাই কারা অভ্যন্তরে থাকা অপর আসামি আব্দুর রউফের সঙ্গে কেন চুক্তি অনুযায়ী কাজ করছে না, এ নিয়ে গউছের সঙ্গে তর্কবিতর্ক হয়। এর জের ধরে পরদিন ১৮ জুলাই ঈদুল ফিতরের নামাজ শেষে বালতির হাতলের সুচালো অংশ দিয়ে জি কে গউছকে আঘাত করেন ইলিয়াছ। এতে তিনি রক্তাক্ত জখম হন।
এ মামলায় ২০১৫ সালের ২৮ আগস্ট হবিগঞ্জ সদর থানায় দায়ের করা এ মামলায় জি কে গউছকে প্রথম গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
সর্বশেষ গত মঙ্গলবার (২৯ আগস্ট) রাতে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ তাকে অন্য মামলায় গ্রেপ্তার করে। দু দিন রিমান্ডের পর সোমবার তাকে ঢাকা থেকে হবিগঞ্জ কারাগারে প্রেরণ করা হয় গউছকে।
জিকে গউছকে কারাগারে আহত করার ঘটনায় দায়ের মামলায় গত ২০ জুলাই আদালতের রায়ে ইলিয়াছের দেড় বছরের কারাদণ্ড হয়। তবে বর্তমানে তিনি পলাতক রয়েছেন।