জামালপুরের মেলান্দহে আন্তঃস্কুল ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র খেলোয়াড়দের ওপর হামলার প্রতিবাদ ও বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে মালঞ্চ আব্দুল গফুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার (৫সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টায় জামালপুর-দেওয়ানগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কে অরোধর করে বিক্ষোভ করেন শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা। এ সময় শিক্ষার্থীরা আগুন জ্বালিয়ে ও গাছের গুঁড়ি ফেলে সড়ক অবরোধ করেন। এতে ওই এলাকার প্রায় তিন কিলোমিটার জুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়। প্রায় তিন ঘণ্টা পরে উপজেলা প্রশাসনের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের সূত্রে জানা যায়, গতকাল সোমবার (৪ সেপ্টেম্বর) মালঞ্চ আব্দুল গফুর উচ্চ বিদ্যালয় ও সাধুপুর হুমায়ুন কবির টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের মধ্যে ফুটবল খেলা উমির উদ্দিন পাইলট স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। খেলার শেষের দিকে টাইব্রেকারে গোল দেওয়াকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক হয়। এক পর্যায়ে সাধুপুর হুমায়ুর কবির টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ ফুটবল দলের খেলোয়াড় ও সমর্থকরা মালঞ্চ আব্দুল গফুর উচ্চ বিদ্যালয় ফুটবল দলের খেলোয়াড়দের ওপর হামলা করে। এতে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ও মালঞ্চ আব্দুল গফুর উচ্চ বিদ্যালয়ের খেলোয়াড় রমজান এবং জাকিরুলসহ প্রায় ৫জন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়। পরে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এই ঘটনার প্রতিবাদে ও সুষ্ঠু বিচার দাবিতে সড়ক অবরোধ করে মানববন্ধন করেন শিক্ষার্থীরা।
এ বিষয়ে মালঞ্চ আব্দুল গফুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কফিল উদ্দিন মোল্লা বলেন, ‘আন্তঃস্কুল ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে আমার স্কুলের খেলোয়াড়দের মারধর করা হয়েছে। আমি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই’।
এ প্রসঙ্গে সাধুপুর হুমায়ুন কবির টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হুমায়ুন কবির বলেন, ‘এ বিষয়ে স্কুলের শিক্ষক শাকিল স্যার সব জানেন। আমি কিছু জানি না।’
শাকিল নামের ওই শিক্ষক বলেন, ‘আমি এই স্কুলের খণ্ডকালীন শিক্ষক, আমি কিছু জানিনা।’
এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আজাদুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, ‘আজ শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে মানববন্ধন করেছিল। আমি ও ইউএনও স্যার ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করি। এই ঘটনা নিয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছি। সেই সাথে উপজেলায় আন্তঃস্কুল ফুটবল টুর্নামেন্ট বন্ধ করা হয়েছে।
মেলান্দহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সেলিম মিঞা বলেন, ‘এ ঘটনায় শিক্ষক ও অভিভাবকেরা যে দাবিগুলো তুলেছেন তা তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।