খুলনায় ৬ কোটি টাকার ব্রীজ নির্মাণে অনিশ্চয়তা

প্রকল্প মেয়াদ শেষ হলেও কাজ আরম্ভ করেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তবে এবার জমি জটিলতায় বাতিল হচ্ছে এই প্রকল্প। এ প্রেক্ষাপটে ডুমুরিয়ার চুকনগরে ভদ্রা নদীতে ব্রীজ নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে ক্ষুব্দ স্থানীয় বাসিন্দারা।

ব্রীজটি ঝুকিপূর্ণ হলে প্রায় ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে সেখানে প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। প্রকল্পটি নেয় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি )খুলনা।

জানা গেছে, খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলা ও যশোরের কেশবপুর উপজেলার সীমান্তে চুকনগর ভদ্রা নদীতে ৮০-এর দশকে একটি ব্রীজ নির্মিত হয়। ব্রীজটি নির্মাণে খুলনা, যশোর ও সাতক্ষীরা জেলার মধ্যে একটি সেতুবন্ধন তৈরী করে। সে সময়ে খুলনা-সাতক্ষীরা যাওয়া-আসায় এটিই ছিল একমাত্র সড়ক। এখনও তিন জেলাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত হাজারো ছোট-বড় যানবাহন, মালবাহী গাড়ি এবং সাধারণ পথচারী পারাপারে ব্রীজটি ব্যবহার করে। অনেক সময় সাতক্ষীরার ভোমরা স্থল বন্দরের মালবাহী পরিবহনও রুটটি ব্যবহার করে। তাছাড়া ব্রীজটি নির্মিত হওয়ার পর ওই অঞ্চলে ব্যবসা-বাণিজ্য ও কৃষিজীবী মানুষের ভাগ্যেরও উন্নয়ন ঘটেছে। চুকনাগরে সৃষ্টি হয়েছে বড় বাণিজ্যিক কেন্দ্র।

সরেজমিন দেখা গেছে, সম্প্রতি ব্রীজটির নানা জায়গায় ফাঁটল দেখা দিয়েছে। ঢালাই ভেঙে ভেঙে পড়ছে। ভেতরের রডগুলো বের হয়ে পড়েছে। ছাদে দুটি বড় অংশ ভেঙে পড়েছে। সেখানে লোহার পাত দিয়ে সাময়িক চলাচলের উপযোগী রাখা হয়েছে। এ বেহাল অবস্থায় যানবাহন ও মানুষ ঝুঁকিপূর্ণভাবে চলাচল করছে।

ব্রীজের পশ্চিম পাশে চায়ের দোকানি আকবর হোসেন ও গাড়ি চালক লতিফ শেখ জানান, ৪৩-৪৪ বছর আগে এই ব্রীজটি নির্মিত হয়। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ এ অঞ্চলের মানুষ প্রতিনিয়ত ব্রীজটি ব্যবহার করে। প্রতিদিন ১৫ হাজার ছোট-বড় যানবাহন, ব্যবসায়ীদের পণ্যবাহী গাড়ি চলাচল করে। কিন্তু ব্রীজটির নাজুক দশা মানুষের চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এছাড়া মধ্যে ভাঙা পাশ এড়াতে গাড়িগুলো অন্য পাশ দিয়ে চলাচল করছে। এতে গাড়ির সারি সারি দীর্ঘ লাইন পড়ে যায়। যা সবাইকে দুভোর্গে ফেলছে।

এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, ভোগান্তি ও চলাচলে ঝুঁকি কমাতে সাপোটিং রুলাল ব্রীজ প্রকল্পের আওতায় ব্রীজটি পুনরায় নির্মাণে উদ্যোগ নেয় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। মিকশিমিল আরএন্ডএইচ-শোলগাতিয়া চুকনগর জিসি সড়কে চেইনেজ ২৩শ ৭৭ মিটারে ৬০ দশমিক ৬ মিটার দৈর্ঘের ব্রীজটি নির্মাণে ৫ কোটি ৯১ লাখ ৬৪ হাজার ৪৪৬ দশমিক ৪২৯ কোটি টাকা ব্যয় নির্ধারণ হয়। টেন্ডারে কাজটি পায় খুলনার দক্ষিণ টুটপাড়ার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এসএ জেডটি (জেভি)। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ২০২২ সালের ৫ জুলাই কার্যাদেশ প্রদান করা হয়। কার্যাদেশ অনুযাযী, ঠিকাদারের প্রকল্প সমাপ্তে মেয়াদ ছিল চলতি বছর ১৭ আগস্ট। তবে প্রকল্পের মেয়াদ উত্তীর্ণ হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি কাজ আরম্ভ করেনি।

চুকনগর বাজারের কারিমুল ইসলাম ও স্বপন রায় জানান, ব্রীজ নির্মাণের খবরে সবাই খুশি হয়েছিল। কিন্তু বাতিলের খবর সবাইকে হতাশ ও ক্ষুব্দ করেছে। কিছু স্বার্থপর মানুষের কারণেই আজ এ পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের। তবে ব্রীজটি নির্মাণের দাবি জানান তারা।

ডুমুরিয়া এলজিইডি অফিসের উপ সহকারী প্রকৌশলী মো.ফেরদাউস বলেন, জায়গা নিয়ে সৃষ্ট জটিলতায় ব্রীজ নির্মাণের কার্যাদেশ বাতিল করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বাতিলের জন্য খুলনা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে চিঠিও পাঠানো হয়েছে।

খুলনা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী এ কে এম আনিসুজ্জামান বলেন, ব্রীজটি নির্মাণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। ঠিকাদার কাজ করতে গেলে খুলনা-৫ আসন (ডুমুরিয়া-ফুলতলা)-এর এমপি নারায়ণ চন্দ্র চন্দ ব্রীজটি পাশে স্থানান্তরের সুপারিশ করেন। এখন জায়গা নিয়ে জটিলতা তৈরী হয়েছে। যা নিষ্পত্তি হয়নি। কার্যাদেশ বাতিলের বিষয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তবে জায়গা না পেলে দ্রুতই বাতিল হবে।

খুলনা-৫ আসন (ডুমুরিয়া-ফুলতলা)-এর এমপি এমপি নারায়ণ চন্দ্র চন্দ বলেন, ব্রীজটি হওয়া জরুরি। ব্রীজটি নির্মিত হলে এবং সড়কটি বড় করা গেলে সাতক্ষীরা, ডুমুরিয়া ও শাহাপুর আঞ্চলের মানুষে কালনা সেতুতে যেতে ৪০ কিলোমিটার পথ কমবে। কিন্তু ওখানে নিজের জমির মালিকানা দাবি করে একজন সিভিল মামলা করেছে। সেকারণেই কিছুটা সরে গিয়ে করতে বলা হয়েছে।

বাতিলের বিষয়ে তিনি বলেন, বাতিল করলে কিছু করার নেই। কেউ করতে না দিলে সেখানে জোর করে ব্রিজ করা যাবে না। তবে ব্রীজটি না হলে উন্নয়ন ব্যাহত হবে বলে দাবি করেন তিনি।