সৌদি আরবের মসজিদে হারাম ও মসজিদে নববিতে আগত ওমরাহযাত্রীসহ মুসল্লিদের জন্য জমজমের পানি পান করার ক্ষেত্রে কয়েকটি নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে কর্র্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার গালফ নিউজের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, জমজমের পানি পান করার ক্ষেত্রে নতুন নির্দেশিকাটি সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা হয়েছে।
নতুন নির্দেশিকায় জমজমের পানি পান করার সময় ওমরাহ পালনকারী ও মুসল্লিদের ধাক্কাধাক্কি এড়িয়ে চলার পরামর্শ ছাড়াও অন্যকে সহযোগিতার কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া পানি পান করার সময় বয়স্কদের আগে সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
আরও বলা হয়েছে, জমজমের পানি পান করার পর একবার ব্যবহারযোগ্য কাপগুলো নির্ধারিত স্থানে ফেলতে হবে। আর পান করার সময় তা সতর্কতার সঙ্গে করতে হবে, যেন মেঝেতে পানি না পড়ে। কারণ মেঝেতে পানি পড়লে খুব দ্রুত পরিবেশ নোংরা হয়ে যায়। নতুন ওমরাহ মৌসুম সামনে রেখে এসব নির্দেশনা জারি করা হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জমজমের জীবাণুমুক্ত পানি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় ইসলামের দুই পবিত্র স্থান মক্কার মসজিদে হারাম এবং মদিনার মসজিদে নববিতে বিতরণ করা হয়।
জমজমের পানি আল্লাহর কুদরতের বিস্ময়কর নিদর্শন। পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ও সর্বোত্তম পানির কূপ। এ পানি হাজার বছর ধরে কোটি তৃষ্ণার্ত মানুষের পিপাসা মিটিয়ে আসছে। হাদিসে বলা হয়েছে, জমজমের পানিতে আছে খাদ্যের উপাদান। মুসলিমদের কাছে জমজমের পানি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। হজ ও ওমরাহ পালনকারীরা সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরার সময় জমজমের পানি সংগ্রহ করে আনেন। জমজমের পানি বিশেষ বরকতময় ও রোগ নিরাময়কারী। হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘নিশ্চয়ই তা সুখাদ্য খাবার এবং রোগের শিফা।’ সহিহ মুসলিম : ২৪৭৩
জমজমের পানি যে উদ্দেশ্যে পান করা হয়, তা পূর্ণ হয়। হজরত জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘জমজমের পানি যে উদ্দেশ্যেই পান করা হয়, তা সাধিত হবে।’ ইবনে মাজাহ : ৩০৬২
জমজমের পানি উৎকৃষ্ট হাদিয়া। তাই প্রাচীন যুগ থেকে হজ ও ওমরাহর যাত্রীরা জমজমের পানি বহন করে বাড়ি ফেরেন।