বেসরকারি স্বাস্থ্য খাত বাংলাদেশে স্বাস্থ্যসেবায় ভালো অবদান রাখছে। এই খাতের পরিধি অনেক বেড়েছে। এখানে তারা অনেক ভালো হাসপাতাল তৈরি করেছে। যেখানে মানুষ উন্নত চিকিৎসাও পাচ্ছে। বাইপাস সার্জারিসহ অনেক কঠিন সার্জারিও তারা করছে। যে সেবাটা মানুষ দেশের বাইরে থেকে নেয়, এখন সেটা দেশেই পাচ্ছে।
বেসরকারি খাত শুধু বড় হাসপাতালই তৈরি করেনি; তারা এই হাসপাতালের মাধ্যমে সারা দেশে স্বাস্থ্যসেবা ছড়িয়ে দিয়েছে। জেলা, উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছে তারা।
সব চিকিৎসা সরকার দিতে পারে না। কারণ ১৭ কোটি মানুষের চিকিৎসা দিতে সরকারকে অনেক বেগ পেতে হয়। এই বেসরকারি খাতের মাধ্যমে তারা সরকারের স্বাস্থ্যসেবার কাজকেও অনেকটা লাঘব করে দিচ্ছে।
আরেকটা দিক হলো, তারা অনেক মেডিকেল কলেজও স্থাপন করেছে। সেখানে অনেক চিকিৎসক তৈরি হচ্ছেন। যারা দেশের সেবা করছেন, বিদেশেও যাচ্ছেন, চাকরি করছেন। তারা নার্সিং ইনস্টিটিউট তৈরি করেছে। সেখানে নার্স তৈরি হচ্ছেন।
বেসরকারি স্বাস্থ্য খাত কর্মসংস্থানেরও ব্যবস্থা করেছে। ৬০-৭০টি মেডিকেল কলেজ, শত শত ডায়াগনস্টিক সেন্টার করেছে, কয়েক হাজার হাসপাতাল করেছে। সেখানে মানুষ সেবা পাচ্ছে। অসংখ্য মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও হয়েছে।
করোনার সময়ও তারা ভালো ভূমিকা রেখেছে। করোনা পরীক্ষার জন্য তারা অসংখ্য ল্যাব তৈরি করেছিল। সেসব ল্যাবে লোকজন টেস্ট করতে পারছেন। তারা করোনার চিকিৎসা দিয়েছে। অনেক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) প্রয়োজন ছিল। তারা সেটারও ব্যবস্থা করেছে।
আবার অন্যদিকও আছে। সেখানটায় তাদের শোধরাতে হবে। যেমন তারা চার্জটা বেশি রাখে। আমি মনে করি যেন চার্জটা অতিরিক্ত না রাখা হয়, সেটা তাদের দেখা প্রয়োজন। অনেক সময় ভুল চিকিৎসাও হয়। সেটাও আমাদের শোধরাতে হবে, ঠিক করতে হবে। অনেক সময় অতিরিক্ত টেস্ট দেয় ও তাতে মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যে টেস্টের হয়তো প্রয়োজন নেই, তারপরও টেস্ট দিয়ে দিল। ওষুধ বেশি দিল, অত ওষুধের হয়তো দরকার নেই। আমি মনে করি এদিকে তাদের অনেকটা ইমপ্রুভ করতে হবে।
এ ছাড়া অনেক জায়গায় অপারেশন করে, হয়তো সেখানে অপারেশনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপনা নেই। এদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।
দেশের জিডিপিতে বেসরকারি স্বাস্থ্য খাতের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ দুভাবেই অবদান আছে। তারা আয় করে। সে আয় থেকে ট্যাক্স দেয়। সেই ট্যাক্স সরাসরি জিডিপিতে অবদান রাখে। আরেকটা হলো, আপনি যদি ভালো স্বাস্থ্যসেবা দেন, মানুষ সুস্থ থাকে, তাহলে মানুষের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায় ও তারা বেশি উৎপাদনশীল হয়। এতে যে যেখানেই থাকুক না কেন, দেশের জন্য ভালো ভূমিকা রাখতে পারে। যেমন অফিসে কাজকর্ম দ্রুতগতিতে হবে, শিল্পের উৎপাদন ভালো হবে, কৃষিতে উৎপাদন ভালো হবে। অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটবে। এসব তো সরাসরি জিডিপিতে অবদান রাখে। আর যদি জাতি অসুস্থ থাকে, বেশি লোক অসুস্থ থাকে, চিকিৎসা না পায়, তখন তো অর্থনৈতিক উন্নয়ন কমে যাবে।
ভালো হাসপাতাল তৈরি হলে বিদেশে চিকিৎসার জন্য মানুষ কম যাবে। সেই টাকা দেশেই থাকবে। এসব বেসরকারি মেডিকেল কলেজে আমাদের দেশের ছাত্রছাত্রীরা তো পড়াশোনা করে ও ডাক্তার হয়। আবার বিদেশ থেকেও অনেক ছাত্রছাত্রী আসে। তারা এসব প্রাইভেট মেডিকেল কলেজে পড়াশোনা করে। তাতে দেশ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারে। সেটাও দেশের জিডিপির জন্য একটা ভালো ভূমিকা রাখে। জিডিপির প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে। আমি মনে করি সবমিলে বেসরকারি স্বাস্থ্য খাত ভালো।
সরকার বেসরকারি স্বাস্থ্য খাতে বিভিন্ন পর্যায়ে যে ট্যাক্স (কর) নির্ধারণ করে, সেটা সরকারি নিয়ম অনুযায়ী করে। ব্যবসা-বাণিজ্য করতে হলে সরকারের যেসব সার্ভিস গ্রহণ করবে, সেসবের জন্য তো পয়সা দিতে হবে। প্রতিষ্ঠান স্থাপনের সময় যন্ত্রপাতির ওপর ট্যাক্স কমানো হয়েছে। চিকিৎসা-সংক্রান্ত যন্ত্রপাতির ওপর তো ট্যাক্স কম ধরা হয়েছে। কাজেই সরকার তো তাদের সাহায্য করছেই।