প্রায় ১৮ মাস আগে সরকারি হাসপাতালে সিজারিয়ানের মাধ্যমে সন্তান জন্ম দিয়েছিলেন এক নারী। কিন্তু সেলাই করার আগে তার পেটে একটি অস্ত্রোপচারের যন্ত্র রেখে দেন চিকিৎসকরা। এরপর প্রচণ্ড ব্যথায় ভুগছিলেন তিনি।
সম্প্রতি পেটের পরীক্ষা করাতে গেলে এক্স রে’তে কোনও কিছু ধরা পড়েনি। তবে সিটি স্ক্যানে দেখা যায় ‘খাবার থালা’র মতো দেখতে ওই যন্ত্রটি নারীর পেটের মধ্যে আটকে রয়েছে।
এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ড সিটি হাসপাতালে। ভুক্তভোগীর স্বজনরা হাসপাতালের চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগ তুলেছেন।
বিবিসিসহ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ওই যন্ত্রের সাহায্যে অস্ত্রোপচারের সময় কাটা জায়গা ধরে রাখা হয়। ১৮ মাস আগে সন্তানের জন্ম দেওয়ার সময় যন্ত্রটি ওই নারীর পেটে থেকে যায়। তবে যন্ত্র কীভাবে পেটের মধ্যে থেকে গেল, তা নিয়ে কোনও ব্যাখ্যা দিতে পারেনি অকল্যান্ড হাসপাতালের চিকিৎসকরা।
নিউজিল্যান্ডের স্বাস্থ্য এবং প্রতিবন্ধী কমিশনার মোরাগ ম্যাকডয়েলের প্রকাশিত রিপোর্টে বলা হয়েছে, চিকিৎসকদের অসাবধানতার কারণেই যন্ত্রটি রোগীর পেটে থেকে যায়।
ওই নারীর অপারেশনে এক জন সার্জনসহ নয়জন উপস্থিত ছিলেন। তবে এটি ‘বিরল ঘটনা’ উল্লেখ করে জেলা স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের পরিচালক ভুক্তভোগীর কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। এ বিষয়ে আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
প্রসঙ্গত, দুই বছর আগেও অকল্যান্ডের ওই হাসপাতালে এক জন রোগীর পেটের ভেতরে ভুলবশত একটি অস্ত্রোপচারের যন্ত্র রেখে দিয়েছিলেন চিকিৎসকরা।