গাজীপুরের শ্রীপুরে ১ বছর আগে পুকুর থেকে এক অজ্ঞাতনামা এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহ উদ্ধারের ১ বছর পর আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ওই নারীর হত্যা রহস্য উদঘাটনের কথা জানায় জেলা পিবিআই (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন)। তবে তারা ওই নারীর পরিচয় জানাতে পারেননি।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গাজীপুর জেলা পিবিআই জানায়, আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে ওই নারীকে ভাড়া করে নিয়ে আসেন। পরে ওই নারী সহ আসামিরা ইয়াবা সেবন করে এবং অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে। এক পর্যায়ে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ওই নারীর সাথে দ্বন্দ্ব তৈরি হলে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করা হয়। পরে নিহতের শরীরের সঙ্গে তিনটি ইট বেঁধে পানিতে ডুবিয়ে দেন আসামিরা।
পরিচয় ছাড়া কীভাবে হত্যা রহস্য উদঘাটন হলো জানতে চাইলে, পিবিআই গাজীপুর (জেলা) পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাকছুদের রহমান বলেন, আসামিদের স্বীকারোক্তি থেকে হত্যা বিষয়ে জানা যায়। আসামিরা আদালতে অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দী দিয়েছেন। গাজীপুর শহরে অনেক ভাসমান মানুষের বসবাস। তাই আসামিরা ওই নারীকে ভাড়া করে নিয়ে গেলেও পরিচয় জানতো না। তা ছাড়া পুলিশ মরদেহ উদ্ধারের সময় তার দেহ গলিত ও বিকৃত হয়ে গিয়েছিল। ফলে ফিংগার প্রিন্ট বা অন্য কোন উপায়েও তার পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি।
জানা যায়, এক বছরের বেশি সময় আগে শ্রীপুরের তেলিহাটি ইউনিয়নের টেপিরবাড়ি গ্রামের সুমন মিয়ার পরিত্যক্ত পুকুর থেকে ওই অজ্ঞাত নারীর গলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুকুরের পানিতে 'ইট বাধা ডুবন্ত অবস্থায়' তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
মরদেহ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়। দুই মাস তদন্ত করেও মামলাটির রহস্য উদঘাটন কারতে পারেনি শ্রীপুর থানা পুলিশ। পরে হেডকোয়ার্টারের নির্দেশে মামলার দায়িত্ব ভার দেওয়া হয় পিবিআইকে।
তদন্ত শেষে হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, শ্রীপুরের টেপিরবাড়ি গ্রামের মোখলেসুর রহমান (৩০), একই গ্রামের খোকন মিয়া (২৭) ও রাজীব মোড়ল (২৬)।