ঢালিউডের জনপ্রিয় দুই তারকা শাকিব খান ও শবনম বুবলীর সম্পর্ক নিয়ে তো জল কম ঘোলা হলো না! গত কয়েক মাসে তাদের সম্পর্ক কেবল খারাপের দিকেই গেছে। একে অন্যের বিরুদ্ধে এনেছেন একাধিক অভিযোগও। একইসঙ্গে শাকিবের সঙ্গে প্রথম স্ত্রী চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাসের আন্তরিক সম্পর্ক সেই পরিস্থিতিকে আরও নাটকীয় করে তোলে। ফলে শাকিব-বুবলীর মধ্যে বৈবাহিক সম্পর্ক আছে নাকি নেই, এই রহস্য পরিষ্কার হয়নি। তার মধ্যেই প্রাক্তন স্ত্রী অপু বিশ্বাস ও বড় ছেলে আব্রাহাম খান জয়কে নিয়ে আমেরিকা সফর সেরে এসেছেন নায়ক। সেসব নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে বিস্তর। প্রশ্ন উঠছিল, শাকিবের সব আদর-স্নেহ-দায়িত্ব কি শুধু জয়ের জন্যই? এ প্রশ্নের উত্তর শাকিব দেশে ফিরেই দিয়েছিলেন। জানান, জয়ের মতো ছোট ছেলে বীরকেও সুন্দর স্মৃতি উপহার দেবেন তিনি। দুই ছেলের প্রতিই তার সমান ভালোবাসা। সেটার নজিরই পাওয়া গেল গতকাল দুপুরে। শেহজাদ খান বীরকে স্কুলে ভর্তি করিয়েছেন শাকিব খান ও বুবলী। অভিভাবক হিসেবে দুজনেই স্কুলে গেছেন, পুত্রের ‘ফার্স্ট ডে অ্যাট স্কুল’ স্বচক্ষে উপভোগ করেছেন। আনন্দঘন মুহূর্তগুলো ক্যামেরাবন্দি করে ভক্তদের সঙ্গে শেয়ার করে নিয়েছেন নায়িকা বুবলী। সঙ্গে বললেন, ‘আজকের (৭ সেপ্টেম্বর) দিনটি আমার জন্য অনেক আবেগ, ভালোবাসা এবং মায়ার। কারণ আজ আমাদের শেহজাদ বাপজানের স্কুলের প্রথম দিন। এখনো মনে হয় এইতো সেদিন তুমি পৃথিবীতে এলে বাবা, হাঁটি হাঁটি পা-পা করে আস্তে আস্তে বড় হচ্ছো। আজ থেকে তুমি স্কুলে পড়ো, তোমার আবার একটি ক্লাস আইডি নাম্বারও আছে। আলহামদুলিল্লাহ!’
পুত্রের জন্য দোয়া চেয়ে বুবলী লিখেছেন, ‘অনেক বড় হও বাবা, ভীষণ ভালোবাসি তোমাকে! সবাই আমার শেহজাদ বাবার জন্য দোয়া করবেন এবং আপনাদের ভালোবাসায় রাখবেন।’ ছবিগুলো পরখ করলে দেখা যায়, পুত্রের সাদা পোশাকের সঙ্গে মিল রেখে শাকিব-বুবলীও সাদা রঙের পোশাক পরে স্কুলে গেছেন। জানা গেছে, আব্রাহাম খান জয় যে স্কুলে পড়ে, সেখানেই বীরকে ভর্তি করানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, অপু বিশ্বাসের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর ২০১৮ সালে বুবলীকে বিয়ে করেন শাকিব খান। এরপর ২০২০ সালের মার্চে তাদের কোলজুড়ে আসে শেহজাদ খান বীর। এদিকে, চুক্তিভঙ্গের অভিযোগ এনে এসএমসি এন্টারপ্রাইজের কাছে চার কোটি টাকা দাবি করে আইনি নোটিস পাঠিয়েছেন চিত্রনায়ক শাকিব খান। এসএমসি এন্টারপ্রাইজের এমডি আব্দুল হক ও জিএম খন্দকার শামীম রহমানকে এই নোটিস পাঠানো হয়েছে। গত ৬ সেপ্টেম্বর নোটিস পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শাকিব খানের আইনজীবী ওলোরা আফরিন। তিনি বলেন, গত ৫ সেপ্টেম্বর রেজিস্ট্রি ডাক এবং ই-মেইলে এই নোটিস পাঠানো হয়েছে। নোটিসে বলা হয়েছে, এসএমসি এন্টারপ্রাইজের সঙ্গে চিত্রনায়ক শাকিব খানের এক বছরের চুক্তি হয়। ২০২২ সালের ৩০ জুন সেই চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়। এরপর চুক্তির মেয়াদ না বাড়িয়ে কিংবা বাতিল না করে শাকিব খানের ছবি ও ব্র্যান্ড ইমেজ ব্যবহার করছে প্রতিষ্ঠানটি। চুক্তি বাতিল না করায় অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করা সম্ভব হচ্ছে না। যে কারণে শাকিব খানের অনেক ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে। শাকিব খানের অনুমতি ছাড়া ছয় মাস এই বিজ্ঞাপনটি প্রচার করায় চার কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়। ২০১৯ সালের মার্চ থেকে শাকিব খান এসএমসি এন্টারপ্রাইজের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হন। ২০২২ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত এর মেয়াদ ছিল বলে উল্লেখ করা হয়। নোটিস প্রদানকারী আইনজীবী বলেন, এসএমসি এন্টারপ্রাইজের সঙ্গে নায়ক শাকিব খানের এক বছরের একটি চুক্তি ছিল। কিন্তু সেই চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও সেটি নবায়ন বা বাতিল না করে তারা প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ কারণে কপিরাইট আইনের ৩৫ ধারায় চুক্তিভঙ্গের কারণে চার কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে নোটিস পাঠিয়েছি। সাত দিনের মধ্যে নোটিস অনুযায়ী পদক্ষেপ নিতে বলেছি। অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।