নরসিংদীতে নদীর ঘাটের ইজারা ও নৌকার সিরিয়াল নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে এক স্কুলছাত্রকে প্রকাশ্যে হত্যা করা হয়েছে। এ সময় প্রতিপক্ষের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আরও পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
শুক্রবার দুপুর পৌনে ১টার দিকে কাউরিয়াপাড়া প্রধান সড়কে এ হত্যার ঘটনা ঘটে।
হত্যায় জড়িত সন্দেহে ১ নারীসহ তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ। ঘটনার পর এলাকায় থমথমে পরিস্থতি বিরাজ করছে। খবর পেয়ে পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমানসহ পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। সহিংসতা এড়াতে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
নিহত সাজিন মিয়া (১৪) কাউরিয়াপাড়া এলাকার আমির হোসেনের ছেলে। সে শহরের আলীজান জে এম অ্যাকাডেমির ৮ম শ্রেণির ছাত্র।
পুলিশ ও নিহতের স্বজনরা জানিয়েছেন, নরসিংদীর কাউরিয়াপাড়ায় নতুন লঞ্চ ঘাটের ইজারাদার ছিলেন মতিন মিয়া। গত জুন মাসে আলমাস কমিশনারসহ আরও কয়েকজন নতুন করে ইজারা নেন। ইজারাদার পরিবর্তন হওয়ার পরও মতিন ও তার সমর্থকরা ঘাটের নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। সেখানে মতিন মিয়ার বোটগুলো বিনা সিরিয়ালে চলতো। এই নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল।
শুক্রবার দুপুর পৌনে ১টার দিকে মতিন মিয়ার ছেলে রাব্বিসহ কয়েকজন লঞ্চ ঘাটে গিয়ে হট্টগোল করেন। এতে বাধা দিলে বর্তমান ইজারাদার আলমাস কমিশনারের সমর্থকদের মারপিট করেন তারা। পরে লঞ্চ ঘাট থেকে ইজারাদারের পক্ষের ৭ থেকে ৮ জন মতিনের বাড়িতে নালিশ জানাতে যায়।
তখন মতিন তার ছেলেসহ ২০ থেকে ২৫ জন সমর্থক গরু কাটার ছুরি, রাম দাসহ ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। ওই সময় প্রতিপক্ষের এলোপাথারী ছুরির আঘাতে সাজিনসহ ৬ জন গুরুতর আহত হন। পরে তাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে গেলে মতিন সমর্থকরা চলে যায়। পরে তাদের উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকায় নেওয়ার পথে সাজিনের মৃত্যু হয়।
নিহতের স্বজন তাহিনুর জানায়, মতিন ও তার ছেলেরা ঘাটের কর্তৃত্ব ছাড়তে নারাজ। তাদের টাকা-পয়সা না দিতে চাইলে প্রায়ই ঘাটের লোকজনকে মারপিট করে। আজকেও তারা ঘাটের লোকজনকে মারপিট করেছে। তাই মতিন মিয়ার কাছে নালিশ দিতে গিয়েছিল নিহত সাজিন সহ ৭ থেকে ৮ জন। ওই সময় ছুরি দিয়ে কুপিয়ে সাজিনকে হত্যা করে তারা।
নরসিংদী সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাইয়াদুর রহমান জানান, ঘাটের ইজারা ও বোটের সিরিয়াল নিয়ে দ্বন্দ্বের জের ধরে এ হতাহতের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে হত্যার নেপথ্যের কারণ অনুসন্ধান ও অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে মাঠে নেমেছে।