মিঠে-কড়া

তখন বয়স ছিল ৩১ বছর। এত অল্প বয়সে ‘ভীমরুল’ ছদ্মনামে দৈনিক ইত্তেফাকে কলাম লিখে প্রবল জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। তার লেখনী শক্তিতে পাকিস্তানি সামরিক স্বৈরাচার আইয়ুব খানের ভিত নড়ে ওঠে। কিন্তু ২০ মে, ১৯৬৫ সালে ৩২ বছর বয়সে কায়রোতে বিমান দুর্ঘটনায় মারা যান তিনি। অতীতের সঙ্গে অধুনার সংযোগ ঘটানোর উদ্দেশ্যে ছাপা হচ্ছে ভীমরুলের সেই উপসম্পাদকীয়

জনাব জেড, এ, সুলেরী একজন কৃতবিদ্য ব্যক্তি। কর্তার ইচ্ছার কীর্তন গাহিবার আর্টে তিনি বহু পূর্বেই সিদ্ধি লাভ করিয়াছেন। সত্য-বাস্তব-ন্যায়বিচার, এমনকি সম্ভবত: নিজের বিবেকের বালাইও তিনি অনেক আগেই ঘুচাইয়া ফেলিয়াছেন। প্রাপ্তিযোগই এখন তাহার পরমারাধ্য এবং এই পরমারাধ্য বিষয়টির যোগাযোগ ঘটিলে হেন কথা নাই, যাহা তিনি বলিতে বা লিখিতে পারেন না। এদেশের সংবাদপত্র পাঠক এই প্রতিথযশা মোসাহেবের কীর্তিকলাপ সম্পর্কে সম্যকভাবেই অবহিত। সুতরাং, অধিক ভূমিকা ছাড়াই সুলেরী সাহেবের সর্বাধুনিক কীর্তি সম্পর্কে আলোচনার অবতারণা করা যায়। 

জনাব সুলেরী গত ১২ই নভেম্বরে পশ্চিম পাকিস্তানের একটি ইংরেজী দৈনিকে এক দীর্ঘ প্রবন্ধ লিখিয়াছেন। তাহার প্রবন্ধের দৃশ্যতঃ দুইটি প্রতিপাদ্যের একটি হইতেছে গণতান্ত্রিক নেতৃত্ব ও সম্মিলিত বিরোধী দলের মনোনীত প্রার্থী মিস ফাতেমা জিন্নাহর বিরুদ্ধে অপপ্রচার এবং অন্যটি হইতেছে বিগত ছয় বৎসরের স্বৈরতান্ত্রিক শাসন ও জনাব আইয়ুব খানের প্রশংসা কীর্তন। এই দুই প্রতিপাদ্যের পটভূমিতে প্রচ্ছন্নভাবে আরো একটি প্রতিপাদ্য ছিল, পূর্ব পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা। সত্য-মিথ্যার জগাখিচুড়ি পাকাইয়া এবং ঐতিহাসিক তথ্যের বিকৃতি ঘটাইয়া তিনি বেশ দক্ষতার সহিতই তাঁহার দায়িত্ব সম্পাদন করিয়াছেন। জাতীয় প্রতিরক্ষা বাহিনীতে পূর্ব পাকিস্তানের প্রতিনিধিত্বহীনতার হেতু বর্ণনা করিয়া এবং ১৯৪৭ সালে ‘বাউন্ডারী ফোর্সে’ নিযুক্ত থাকাকালে জনাব আইয়ুবের আচরণ সম্পর্কে মিস জিন্নাহ সম্প্রতি যে বিবৃতি প্রদান করেন, তার বিরুদ্ধে এবং জনাব আাইয়ুবের পক্ষে সাফাই গাহিবার পবিত্র দায়িত্ব পালনের ব্রত লইয়াই তিনি কলম ধারণ করেন। প্রথমেই তিনি অভিযোগ করেন যে, মিস জিন্নাহ উপরোক্ত বিবৃতি প্রদান করিয়া একটি অত্যন্ত অন্যায় কাজ করিয়াছেন। কারণ, তাঁহার এই বিবৃতিতে পূর্ব পাকিস্তানের ‘চরমপন্থী’, ‘কম্যুনিষ্ট’ ও ‘ভারতীয় এজেন্টরা’ উৎসাহিত হইয়া নূতন উদ্যমে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ প্রচারে লিপ্ত হইবে। জনাব সুলেরী সেখানেই ক্ষান্ত হন নাই। মিস জিন্নাহর উদ্দেশ্যের প্রতি কটাক্ষ করিয়া তিনি আরো অভিযোগ করিয়াছেন যে, পূর্ব পাকিস্তানীদের প্রাদেশিকতাপূর্ণ মনোভাবকে উস্কাইয়া দিয়া একটা অনর্থ ঘটাইবার মতলবেই মিস জিন্নাহ উপরোক্ত বিবৃতি প্রচার করিয়াছেন। এ প্রসঙ্গে মিস জিন্নাহর সহিত সুলেরী সাহেবের এক ব্যক্তিগত সাক্ষাৎকারের কথাও উল্লেখ করা হয়। জনাব সুলেরী জানান যে, সম্মিলিত বিরোধী দল কর্তৃক মিস জিন্নাহকে প্রেসিডেন্ট পদে মনোনয়ন দানের কিছুদিন পূর্বে তাঁহার সহিত তিনি সাক্ষাৎ করেন। সেই সাক্ষাৎকারে অনেক কথাবার্তার পর নাকি এক সময়ে মিস জিন্নাহ বলিয়া বসেন যে, দেশে যদি ‘রক্তপাত হয় ত হোক’ (‘লেট দ্যায়ার বি ব্লাডশেড’)। মিস জিন্নাহর সাম্প্রতিক বিবৃতির পর নাকি সেই উক্তির কথা সুলেরী সাহেবের নতুনভাবে মনে পড়িয়াছে। এবং ফলে তিনি এই সিদ্ধান্তে উপনীত হইয়াছেন যে, দেশকে রক্তগঙ্গায় ডুবাইয়া দিতেও তাহার আপত্তি নাই।

জনাব সুলেরীর মস্তিষ্কের উর্বরতা সম্পর্কে কোনদিন কাহারো মনে কোন সংশয় ছিল না। এই প্রবন্ধ লিখিয়া তিনি সে বিষয়ে সকলকে আরো সুনিশ্চিত করিয়াছেন। মিস জিন্নাহ দেশে রক্তস্রোত বহাইতে চান অর্থাৎ অন্য কথায় দেশকে ধ্বংসের পথে নিয়া যাইতে চান, এই তত্ত্ব আবিষ্কারের জন্য মস্তিষ্কের উর্বরতা দরকার। সেই উর্বরতা একমাত্র সুলেরী সাহেবদের নিকট ছাড়া অন্য কাহারো নিকট হইতে আশা করা যায় না। ক্ষমতাসীন কনভেনশন লীগের ছোট-বড় সকল মুখে এ যাবৎ কম অপপ্রচার চালানো হয় নাই। ধর্মের দোহাই, বয়সের দোহাই, রাজনীতিতে অনভিজ্ঞতার দোহাই, মেজাজের দোহাই ইত্যাদি কোন কিছুই বাদ রাখা হয় নাই। মিস জিন্নাহ সত্তর বৎসরের বৃদ্ধা, রাজনীতিক্ষেত্রে তার কোন অভিজ্ঞতা নাই, তাহার মেজাজ খারাপ, কায়েদে আজম সময়ে সময়ে তাহাকে ঘরে তালাবদ্ধ করিয়া রাখিতেন, তিনি ‘বিকৃত রাজনীতিক’দের দ্বারা পরিবৃত ইত্যাদি অকল্পনীয় কুৎসা তাঁহার বিরুদ্ধে রটনা করা হইয়াছে। আর এক শ্রেণীর ধর্মব্যবসায়ীর ক্রমাগত ফতোয়া ত আছেই। রাষ্ট্রপ্রধানের পদে কোন নারী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করিতে পারেন না বলিয়া এমনকি আল- আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের নামেও এক অসত্য ফতোয়া জারি করা হইয়াছিল। কিন্তু ক্ষমতাসীনদের বল্গাহীন অপপ্রচার ও যাবতীয় কলাকৌশল একেবারেই ব্যর্থ হইয়াছে। পরিশেষে কনভেনশনপন্থীদের ভাড়াটিয়া প্রচারকরা মিস জিন্নাহর বিবৃতির বিকৃতি ও কদর্থ সাধনে লিপ্ত হইয়াছেন।

মিস জিন্নাহর যে বিবৃতি সম্পর্কে বিভ্রান্তির ধূম্রজাল সৃষ্টি করা জনাব সুলেরীর প্রবন্ধ ফাঁদার উদ্দেশ্য, সেই বিবৃতির বক্তব্য পূর্ব পাকিস্তানের আপামর জনসাধারণের নিকটই নয়, পশ্চিম পাকিস্তানের সচেতন মানুষের নিকটও বিপুলভাবে আদৃত হইয়াছে। পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, শিক্ষা এবং অন্যান্য সকল পর্যায়ে যে অবিচার করা হইয়াছে, তাহা দিবালোকের ন্যায় পরিষ্কার। গত ছয় বৎসর যাবৎ যাঁহারা ক্ষমতাসীন আছেন, তাঁহারাও এই বাস্তব সত্যকে অস্বীকার করিতে পারেন নাই। উপরন্তু, বর্তমান শাসকগোষ্ঠী পূর্ব পাকিস্তানের অভাব-অভিযোগের প্রতিকারকল্পে এ-যাবৎ যতসব লম্বা-চওড়া প্রতিশ্রুতিই দিয়া থাকুন না কেন, কার্যক্ষেত্রে তার কোনটাই ফলপ্রসূ হয় নাই। উন্নয়নের নামে গত কয়েক বৎসরে বিপুল অর্থ ব্যয়িত হইলেও এবং ১৯৫৮ সালের পূর্ববর্তী সময়ের তুলনায় তৎপরবর্তী ছয় বৎসরে তেত্রিশগুণ অধিক বৈদেশিক ঋণ গ্রহণ করা হইলেও জনসাধারণের কিছু মাত্র ভাগ্যোন্নতি ঘটে নাই; পোয়াবারো ঘটিয়াছে এক শ্রেণীর ধনিক-বণিক ও কায়েমী স্বার্থবাদীদেরই। ঘটনাক্রমে উহাদের অধিকাংশই পশ্চিম পাকিস্তানের অধিবাসী। পূর্ব পাকিস্তানবাসীগণ তাহাদের প্রতি অন্যায়ের প্রতিবাদ করিতে গিয়া বরাবর সেই কায়েমী স্বার্থবাদীগোষ্ঠী ও উহার পৃষ্ঠপোষকদের প্রতিই অঙ্গুলি নির্দেশ করিয়াছে। পশ্চিম পাকিস্তানের সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে পূর্ব-পাকিস্তানীদের কোন অভিযোগ আগেও যেমন ছিল না, আজো তেমনি নাই। কারণ, তাহারা ইহা ভালোভাবেই জানে যে, পূর্ব পাকিস্তানের জনসাধারণের মতই পশ্চিম পাকিস্তানের জনসাধারণও নিপীড়িত এবং বঞ্চিত। সুতরাং, পশ্চিম পাকিস্তানের জনসাধারণের বিরুদ্ধে কোন প্রকার অভিযোগ উত্থাপনের প্রশ্নই কখনো উঠে নাই। বস্তুতঃ মিস জিন্নাহ এই বিষয়টির প্রতি সম্পূর্ণ সচেতন থাকিয়াই প্রকৃতপক্ষে কাহারা পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি অন্যায় করিয়াছে, তাহা নির্দেশ করিবার প্রয়াস পান। অথচ, জনাব সুলেরী উহাকেই বিকৃত করিয়া দেখাইতে চাহিয়াছেন যে, মিস জিন্নাহ পূর্ব পাকিস্তানীদের প্রাদেশিকতাপূর্ণ মনোভাবকে উস্কাইয়া দেশের সংহতি বিপন্ন করিবার চেষ্টা করিয়াছেন। আর সেই বিকৃতি সাধনের উদ্দেশ্যে তিনি তাঁহার সহিত মিস জিন্নাহর ব্যক্তিগত সাক্ষাৎকারের প্রসঙ্গ হাজির করিতেও দ্বিধাবোধ করেন নাই।

অসততা কোন্ পর্যায়ে পৌঁছালে এরূপ কাজ করা যায়, তাহা সত্যি ভাবিবার বিষয়। সুলেরী সাহেবের সহিত আলোচনা প্রসংগে মিস জিন্নাহ দেশে রক্তপাত ঘটাইবার কথা বলিয়াছিলেন ইহা অবিশ্বাস্য। কিন্তু, তর্কের খাতিরে যদি ধরিয়াও লওয়া যায় যে, সেই ব্যক্তিগত সাক্ষাৎকারে ঐরকম কথা উচ্চারিত হইয়াছিল, তাহা হইলেও উহাকে প্রবন্ধের বিষয়বস্তুতে পরিণত করার মত অন্যায় কাজ আর কিছুই হইতে পারে না। ব্যক্তিগত আলোচনায় অনেক সময় অনেক কথাই হয় কথার পিঠেই কথা আসে। সুতরাং, মিস জিন্নাহর উক্তি বলিয়া সুলেরী সাহেব যে কথাটা চালাইতে চাহিতেছেন, সে কথা আদৌ বলা হইয়া থাকিলে সুলেরী সাহেবের কোন্ কথার পিঠে বলা হইয়াছিল, তাহাও প্রকাশ করা তাঁহার উচিত ছিল। কিন্তু সুলেরী সাহেবদের মত ব্যক্তিদের নিকট হইতে কোন উচিত কাজ আশা করা বাতুলতা মাত্র। কাজেই জনাব সুলেরীর মত একটি চেনামুখের অপপ্রচারে দেশের একটি প্রাণীও বিভ্রান্ত হইবে না এ বিষয়ে আমাদের কোন সন্দেহ নাই।

কনভেনশন দলীয় মনোনীত প্রার্থী জনাব আইয়ুব খানের প্রশংসা কীর্তন করিতে গিয়া জনাব সুলেরী বহু অবান্তর কথাই বলিয়াছেন। তন্মধ্যে একটি কথা ভারী মজাদার। নির্বাচনী প্রচারে অবতীর্ণ হইয়া জনাব আইয়ুব প্রায় সমস্ত বিরোধী দলকেই দেশানুগত্যহীন প্রতিষ্ঠানরূপে চিত্রিত করিতেছেন এবং প্রায় সকল রাজনৈতিক নেতাকেই ইঁদুর-বিড়াল ইত্যাদি নামে গালাগালি করিতেছেন। এমনকি একজন প্রবীণ নেতার দাড়ি কামাইয়া ফেলিবার মত অচিন্তিতপূর্ব অশোভন উক্তিও তাঁহার মুখ হইতে নির্গত হইয়াছে। এমতাবস্থায় স্বভাবতই জাতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামে আইয়ুব সাহেবের অবদানের প্রশ্ন উঠিয়াছে। আইয়ুব সাহেব এবং তাঁহার পোষ্যরা যদিও এই বেকায়দা প্রশ্নে নিতান্তই নাচার, তবু সে সম্পর্কে এক সাফাই গাহিয়াছেন সুলেরী সাহেব। তিনি বলিয়াছেন, ‘জনাব আইয়ুব তখন সশস্ত্র বাহিনীতে নিযুক্ত।’ এই পর্যন্ত বলিয়াই তিনি থামিয়া গিয়াছেন; বাকী অংশটা তিনি পূরণ করিতে চাহিয়াছেন কিছু না বলিয়া। অর্থাৎ আইয়ুব সাহেব তখন সশস্ত্র বাহিনীতে নিযুক্ত ছিলেন বলিয়াই স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশ গ্রহণ করিতে পারে নাই; নিযুক্ত না থাকিলে তিনি নিশ্চয়ই স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশ গ্রহণ করিতেন! কিন্তু প্রশ্ন হইতেছে, বৃটিশের বেতনভুক তদানীন্তন সশস্ত্র বাহিনী হইতে পদত্যাগ করিতে তাঁহাকে কে বারণ করিয়াছিল? দেশে তখন কোটি কোটি মানুষ বৃটিশ শাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রাম-লিপ্ত; হাজার হাজার মানুষ বিদেশি শাসকদের হাতে নির্যাতিত; দেশের এক প্রান্ত হইতে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত স্বাধীনতা সংগ্রামের তরঙ্গ। ইচ্ছা করিলেই জনাব আইয়ুব বিদেশিদের বেতনভুক সশস্ত্র বাহিনী হইতে পদত্যাগ করিয়া সেই জাতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশ গ্রহণ করিতে পারিতেন। এরূপ দৃষ্টান্ত সেকালে হাজারে হাজারেই দেখা গিয়াছে। আইয়ুব সাহেবই বা কেন একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারিলেন না? পক্ষান্তরে, বিদেশি শাসকদের বেতনভুক সশস্ত্র বাহিনীর অন্তর্ভুক্ত থাকিয়া তিনি কি স্বাধীনতা সংগ্রামের দমনকার্যেই সহায়ক হন নাই? অথচ, আজ তিনি এবং তাঁহার চাটুকারবৃন্দই দেশপ্রেমের মনোপলি দাবী করিতেছেন; আর যাঁহারা ত্যাগ, তিতিক্ষা ও নির্যাতনের বিনিময়ে স্বাধীনতা সংগ্রামকে সফল করিয়া তুলিয়াছিলেন, তাঁহাদেরই দেশপ্রেমের প্রতি করা হইতেছে কটাক্ষ। এমনকি দেশ-ধ্বংসের অপবাদ মাদারে মিল্লাতের বিরুদ্ধে উত্থাপন করিতেও ইহাদের রসনা অবশ এবং কলম অচল হইতেছে না। প্রকৃতির রাজ্যে ইহারা কি ক্ষমা পাইতে পারেন?

লেখক: আহমেদুর রহমান

দৈনিক ইত্তেফাক, ১৫ নভেম্বর ১৯৬৪