আল্লাহতায়ালা মানুষকে সৃষ্টির সেরা বানিয়ে কিছু স্বভাবজাত গুণ দিয়েছেন। সেসব গুণের অন্যতম হলো, লজ্জা-শরম, শ্লীলতা ও শালীনতা। অপরদিকে উত্তম চরিত্র মানব জীবনের অতি মূল্যবান সম্পদ, যাকে মানব জীবনের ভূষণ বলে অভিহিত করা যায়। আর উত্তম চরিত্রের ভূষণ হলো শালীনতা বা লজ্জা-শরম ও লাজুকতা। যে কাজের কারণে জনসম্মুখে মস্তক অবনত হতে পারে সেই ভয়ে তা পরিহার করা বা তা থেকে বিরত থাকার নাম লজ্জা।
লজ্জা মানুষকে নানাবিধ অশ্লীল ও খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখে। যার ফলে মানুষ উত্তম চরিত্রের সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছতে সক্ষম হয়। পক্ষান্তরে যার লজ্জা নেই, তার কোনো কাজ করতে বিবেক বাধা দেয় না। ফলে সে ভালো-মন্দ সবকিছু করা তার জন্য অতি সহজ হয়ে যায়। মন যা চায়, সবই সে করতে পারে বাধাহীনভাবে। ফলে হয়ে যায় সে সমাজের চোখে নিন্দিত ও ঘৃণিত।
বিখ্যাত ইসলামি স্কলার আল্লামা কাসেম আল জুনায়েদ বলেন, লজ্জা বলা হয় মানবীয় এমন চরিত্রকে; যা নিকৃষ্ট কদর্য কথা-কর্ম পরিহারে অনুপ্রাণিত করে এবং যথাযোগ্য হকদারকে উপেক্ষা করতে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
লজ্জাশীলতা ও শালীনতার গুরুত্ব : লজ্জা আল্লাহর দেওয়া বান্দার প্রতি মানব চরিত্রের এক মহা গুরুত্বপূর্ণ গুণ। এটা মানুষকে অশোভন নানাবিধ কর্ম পরিহার এবং শোভনীয় কার্যসম্পাদনে অসম্ভব ভূমিকা রাখে। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘আর আল্লাহ অশ্লীলতা, মন্দ কাজ ও জুলুম থেকে নিষেধ করেন। তিনি তোমাদের উপদেশ দিচ্ছেন যেন তোমরা স্মরণ রাখতে পার।’ -সুরা নাহাল : ৯০
এমনিভাবে অপর এক আয়াতে মৌলিক কয়েকটি হারাম বিষয়ের আলোচনায় প্রথমে অশ্লীলতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেন, ‘বলুন, নিশ্চয়ই আমার প্রতিপালক অশ্লীল কাজ হারাম করেছেন। চাই তা প্রকাশ্যে হোক বা গোপনে।’ -সুরা আরাফ : ৩৩
বর্ণিত দুই আয়াতে অশ্লীল সব আচরণ উচ্চারণ থেকে নিষেধ করা হয়েছে, এটা নিষেধের ভঙ্গিতে শ্লীলতা ও লজ্জাশীলতা অবলম্বনের আদেশও বটে। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, একদা হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক আনসার ব্যক্তির পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলেন। তখন সে তার ভাইকে লজ্জা করার ব্যাপারে আদেশ দিচ্ছিল। এ সময় রাসুল (সা.) বলেন তাকে ছেড়ে দাও। কেননা লজ্জা ইমানের অঙ্গ।’ -জামে তিরমিজি : ২৬১৫
অপর এক বর্ণনায় আছে, হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ইমানের ৭০ এর অধিক শাখা-প্রশাখা রয়েছে। এর মধ্যে সর্বোত্তম হলো ‘আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই’ এ কথা বলা ও সর্বনিম্ন হলো রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরে ফেলা। আর লজ্জা হলো ইমানের অঙ্গ। -সহিহ মুসলিম : ৩৫
শালীনতার সুফল : হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, কোনো কিছুতে অশ্লীলতা তাকে শুধু কলুষিত করে। আর কোনো কিছুতে লজ্জা তাকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করে। -মুসনাদে আহমদ : ১২৬৮৯
এ প্রসঙ্গে উল্লেখ করা যেতে পারে, নবী হজরত ইউসুফ (আ.) লজ্জা ও শালীনতার কারণে শুধু জেল থেকে মুক্তি পাননি, তিনি হয়েছিলেন তৎকালীন সময়ে ক্ষমতার অধিকারী। কারণ তিনি সর্বদা লজ্জাশীলতা ও লাজুকতার পরিচয় দিয়েছিলেন।
করণীয় : আমরাও যদি নবী হজরত ইউসুফ (আ.)-এর মতো ইজ্জত-আব্রুর হেফাজত করতে পারি, পাপাচার থেকে বেঁচে থাকতে পারি, জীবনে লজ্জা-শরম রক্ষা করে অশ্লীলতার এড়িয়ে সব ধরনের কুপ্রবৃত্তি থেকে নিজেকে সংযত রাখতে পারি। তাহলে আমাদেরও আল্লাহতায়ালা ইজ্জত ও সম্মানের মুকুট পরাবেন- ইনশাআল্লাহ।