মাগুরায় স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রলীগের মধ্যে সংঘর্ষের সময় অস্ত্র প্রদর্শনকারী সেই যুবককে এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। তার রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে একে অন্যকে দোষারোপ করছে জেলা বিএনপি ও ছাত্রলীগ। বিএনপি তাকে ছাত্রলীগ নেতা হিসেবে গতকাল শনিবার সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। অন্যদিকে ছাত্রলীগ নেতারা বলছেন এক সময় মাগুরা আদর্শ কলেজ ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল সে। ২০১৯ সালে ওই কমিটি বিলুপ্ত হয়। তারপর তাকে ছাত্রলীগের কোনো কর্মকান্ডে দেখা যায়নি। গত বুধবার উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে স্বেচ্ছাসেবক দলের সঙ্গে এসে সে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ওই অস্ত্র প্রদর্শন করে ছাত্রলীগের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার অপচেষ্টা করেছেন।
এদিকে এ ঘটনায় জেলা ছাত্রলীগ সহসভাপতি শেখ বারিউল ইসলাম রিয়াদ সংঘর্ষের ঘটনায় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের ১০৫ নেতাকর্মীর নামে মামলা করেছেন।
মামলায় বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ভীতি সৃষ্টি ও হত্যার উদ্দেশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাতসহ গুলিবর্ষণের অভিযোগ আনা হয়েছে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। মামলায় অন্যদের পাশাপাশি আসামি করা হয়েছে অস্ত্রধারী সেই যুবককে। যাকে এখনো আটক করতে পারেনি পুলিশ। পাশাপাশি জেলা বিএনপি অস্ত্রধারী সেই যুবককে ছাত্রলীগ নেতা হিসেবে দাবি করে গতকাল দুপুরে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ছাত্রলীগ নেতার করা ওই মামলায় আসামি হিসেবে ১০৫ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অজ্ঞাতনামা আসামি আছেন ১৫০ থেকে ২০০ জন।
গতকাল শনিবার দেওয়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলী আহমেদ ও সদস্য সচিব আকতার হোসেন স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ৬ সেপ্টেম্বর অস্ত্র হাতে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ মাগুরা আদর্শ কলেজ শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক এবং বর্তমান জেলা ছাত্রলীগ নেতা শাহিন হোসেনকে গুলি করতে দেখা যায়।
অন্যদিকে শাহিনের বিষয়ে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নাহিদ খান বলেন, শাহিন জেলা ছাত্রলীগের কেউ নয়। আমি সভাপতি হওয়ার গত ১ বছরে তাকে কোনো মিছিল-সমাবেশে পাইনি। শুনেছি এক সময় সে কলেজ রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল। একাধিক অভিযোগে ২০১৯ সালে মাগুরা আদর্শ কলেজের কমিটি বিলুপ্ত হয়। শাহিন বিলুপ্ত ওই কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ছিল বলে শুনেছি। তারপর থেকে তাকে আমাদের দলীয় আর কোনো রাজনৈতিক কর্মকান্ডে দেখা যায়নি।
মাগুরা সদর থানার ওসি শেখ সেকেন্দার আলী বলেন, ‘বৃহস্পতিবার বিকেলে বুধবারের সংঘর্ষে আহত ছাত্রলীগ নেতা বারিউল ইসলাম রিয়াদ বাদী হয়ে মামলা করেছেন। এ মামলায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। পাশাপাশি ভাইরাল হওয়া ছবির ওই যুবকের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আশা করছি দ্রুতই তাকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করে প্রকৃত রহস্য উন্মোচিত হবে’।