২০২২-২৩ অর্থবছরে আমাদের হিসেবে ৮৫ লক্ষ মেট্রিক টনের বেশী আলু উৎপন্ন হয় নাই। অথচ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে ১ কোটি ১২ লক্ষ টন। রবিবার বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ এসোসিয়েশনের কার্যালয়ে আলুর বর্তমান সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির পক্ষ থেকে বিষয়টি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশে আলুর চাহিদা ৯০ লক্ষ টন। তাহলে এ বছর ২২ লক্ষ টন আলু উদ্বৃত্ত থাকার কথা। যদিও বাংলাবাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ এসোসিয়েশনে সদস্যদের নিকট থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী হিমাগারের ২০% সংরক্ষণ জায়গা ফাকা রয়েছে। তাহলে আমাদের প্রশ্ন হলো, আলু যদি বেশী উৎপন্ন হয়ে থাকে তাহলে আমাদের ক্যাপাসিটি আনুমানিক ২০% কেন অব্যবহৃত অবস্থায় রয়েছে ?
তিনি বলেন, ২০২৩ সনের মে মাসের ২০ তারিখের পর হতে যখন আলু খালাস হওয়া শুরু হয় তখন হিমাগার শেডে কাঁচা আলুর মূল্য ছিল প্রতিকেজি ২৬-২৭ টাকা। এই দরেই আপুর প্রকারভেদে বিক্রয় শুরু হয়েছিল। যা আজ হিমাগার শেষে ৩৪-৩৬ টাকা প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে। যে মাসের শেষ সপ্তাহ হতে সেপ্টেম্বর মাসের ১ম সপ্তাহ পর্যন্ত মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে প্রতিকেজিতে ১০ টাকা যা কাঙ্খিত নয়।
তিনি বলেন, আমরা মনে করি মূল্যবৃদ্ধির কারণ হিসেবে যারা আলু সংরক্ষণ করেছে তারা মনে করছে আলুর মজুদ কম রয়েছে। সে জন্য তারা আলুর দাম বৃদ্ধি করে চলেছে। ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩ সনের সদস্যদের প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী আলু গত বছরের তুলনায় কম সংরক্ষিত রয়েছে।
এসময় সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ এসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী ২০২৩ সনে ২৩,১২,০০০ মেট্রিক টন আলু বিভিন্ন হিমাগারে সংরক্ষিত হয়েছে। যেখানে ২০২২ সনে ২৪,১৯,৭৬০ মেট্রিক টন আলু সংরক্ষিত হয়েছিল। ফলে ২০২২ সনের তুলনায় ২০২৩ সনে ১,০৭,২৩৪ মেট্রিক টন আলু কম সংরক্ষিত হয়েছে। কৃষি বিপণন অদিধপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সনে ২৪,৯২,০৮২ মেট্রিক টন আলু হিমাগারগুলিতে সংরক্ষিত হয়েছে এবং ২০২২ সনে ২৭,০৮,৫৯৫ মেট্রিক টন আলু বিভিন্ন হিমাগারে সংরক্ষিত হয়েছিল। পরিচালক, কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী ২০২৩ সনে ২,১৬,৫১৩ মেট্রিক টন আলু বিভিন্ন হিমাগারে কম সংরক্ষিত হয়েছে।