রাতে জেগে ওঠে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে

ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নিয়ে মানুষের আগ্রহের কমতি নেই। দিন যত যাচ্ছে মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে এই এক্সপ্রেসওয়ে। তারই ধারাবাহিকতায় দিনের বেলায় শহরের যানজট এড়িয়ে রাতে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে ঘুরতে আসছেন অনেক দর্শনার্থী।

এ বিষয়ে রাতে ঘুরতে আসা একাধিক দর্শনার্থী দেশ রূপান্তরকে বলেন, দিনের বেলায় শহরে তীব্র যানজট থাকে। সে সময় এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে ঘুরার মতো অবস্থা থাকে না। তাই রাতে যানজট কম থাকায় এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে ঘুরতে আসা অনেকটাই স্বস্তির।

সরেজমিন ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে গেলে দেখা যায়, বিমানবন্দর থেকে ফার্মগেট পর্যন্ত ১০ থেকে ১২ মিনিটে যাওয়া-আসা করছে গাড়িগুলো। রাতে গাড়ি কম থাকায় অনেকে রাতে এলিভেটেড এক্সপ্রেওয়েতে গাড়ি থামিয়ে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে দেখছে। যদিও নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মীরা এক্সপ্রেসওয়ের সামনে গাড়ি থামাতে দেখলে দ্রুত সেখান থেকে গাড়ি সরিয়ে নিতে বলছেন।

একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করা রাজ্জাক মিয়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, দিনের বেলায় এক্সপ্রেসওয়ের আশেপাশে গাড়ির জটলা থাকে। সে সময় পরিবার নিয়ে দেখার মতো কিছু থাকে না। তাই রাত ১২টার পর বাসার সবাইকে নিয়ে আসলাম; গাড়ি দিয়ে পুরো এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে দেখানোর জন্য।

পরিবারের সঙ্গে রাত বারোটার পর ঘুরতে এসেছে মো. সিফাত নামের এক শিক্ষার্থী। তিনি বলেন, রাতে ঘুরতে খুব ভালো লাগে। মাঝেমধ্যেই পরিবারের সঙ্গে রাতে হাতিরঝিলে ঘুরা হতো। আজ আসলাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে। খুব ভালো লাগছে রাতে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে ঘুরতে।

এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নিরাপত্তা কাজে নিয়োজিত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, রাতে গাড়ি কম থাকায় অনেকে গাড়ি নিয়ে এসে এখানে আড্ডা দিতে চায়। তবে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে যারাই মাঝপথে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে আমরা তাদের সেখান থেকে সরিয়ে দিই।

এদিকে প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, ঢাকা শহরের যানজট নিরসনসহ ভ্রমণে সময় ও ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে বাংলাদেশ সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প। পুরো প্রকল্প শেষ হলে ঢাকা শহরের উত্তর-দক্ষিণ করিডরের সড়কপথের ধারণক্ষমতা বাড়বে। যে উদ্দেশ্যে এটি করা হচ্ছে তার সুফল তখন মিলবে।

এ প্রকল্পের সংযোগ সড়কসহ দৈর্ঘ্য ৪৬ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার। এতে ১১টি টোল প্লাজা থাকবে পাঁচটি এক্সপ্রেসওয়ের ওপরে। এর ওপর দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৮০ হাজার যান চলাচল করতে পারবে। সরকারি-বেসরকারি যৌথ বিনিয়োগে (পিপিপি) তিন ধাপে এটি নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রথম ধাপ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের দক্ষিণে কাওলা থেকে বনানী রেলস্টেশন পর্যন্ত। দ্বিতীয় ধাপ বনানী রেলস্টেশন থেকে মগবাজার রেলক্রসিং পর্যন্ত। তৃতীয় ধাপ মগবাজার রেলক্রসিং থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুতুবখালী পর্যন্ত।