সরকার পুলিশকে ব্যক্তিগত চাকরে পরিণত করেছে: ছাত্র অধিকার

ছাত্র অধিকার পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তরিকুল ইসলাম বলেছেন, ‘সরকার পুলিশকে ব্যক্তিগত চাকরে পরিণত করেছে। নিজেদের এজেন্ডা বাস্তবায়নে তারা পুলিশকে ব্যবহার করে যাচ্ছে, নিজেদের পেটোয়া বাহিনীতে পরিণত করেছে। তাই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে নিরপেক্ষ পুলিশ তৈরির বিকল্প নেই’।

সোমবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে ‘পুলিশি নির্যাতন বন্ধ এবং খাদিজা ও বিন ইয়ামিন মোল্লাসহ অন্যায়ভাবে আটক ছাত্রনেতাদের মুক্তি’র দাবিতে ছাত্র অধিকার পরিষদ আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এসব বলেন।

তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘পুলিশ সারাদেশে বিভিন্ন ইস্যুতে শিক্ষার্থী বা সাধারণ মানুষের ওপর হামলা করছে। প্রতি বছর অসংখ্য মানুষ পুলিশের নির্যাতনের শিকার হয়ে মৃত্যুবরণ করছে। পুলিশ যে বেপরোয়া হয়েছে, প্রশ্ন তাদের বেপরোয়া বানালো কে? আওয়ামী সরকার নিজের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে গত ১৪ বছর ধরে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করেছে পুলিশকে, তাদের আগ্রাসী করেছে।

তিনি বলেন, ‘গত শনিবারের পুলিশি হামলা নতুন ঘটনা নয়। ২০১৮ সালের ৮ এপ্রিলে পুলিশ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যে অমানবিক নির্যাতনের করেছিল সেটা আমরা ভুলিনি। পুলিশ বিজয় একাত্তর হলের রুমে রুমে গিয়ে শিক্ষার্থীদের হেনস্থা করেছিল। আমরা দেখেছি নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে, মোদিবিরোধী আন্দোলনে, চাকরির বয়স বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলনকারীদের ওপর নৃশংস হামলা চালিয়েছে পুলিশ। তা ছাড়া সময়ে-অসময়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন আন্দোলনে পুলিশ বাহিনী সবসময় বর্বরোচিত হামলা করেছে।’

পুলিশকে জনগণের পক্ষে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এই সেই এডিসি হারুন, যিনি কি-না শাহবাগ থানায় রিমান্ডরত ছাত্রনেতার মুখে মরিচ ঢেলেছিল। এরপর গত শনিবার ছাত্রলীগের দুই নেতাকে নির্মমভাবে পিটিয়ে আহত করেছে। আজ দেশে রুল অফ ল নেই, আছে ‘রুল অফ ফ্যাসিজম’, আছে ‘রুল অব শেখ হাসিনা’, আছে ‘রুল অফ আওয়ামী লীগ’। আজকে আমরা বলতে চাই আমরা পুলিশের বিপক্ষে না। আপনারাও কোনো দল বা ব্যাক্তির পক্ষে থাকবেন না। আপনারা জনগণের ট্যাক্সে চলছেন, তাই আমরা চাই আপনারা জনগণের কল্যাণে কাজ করবেন।’

বিক্ষোভ সমাবেশে অন্যদের মাঝে বিন ইয়ামিন মোল্লার বাবা মাওলানা রফিকুল ইসলাম মোল্লা, কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম আদিব, তিতুমীর কলেজ সাধারণ সম্পাদক আবু রায়হান প্রমুখ বক্তব্য দেন।