নর্থ জার্সিসহ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থানে আরও বেশি হারে মুসলিম সদস্য পুলিশ বাহিনীতে যোগ দিচ্ছে। এতে মুসলিমদের প্রতি প্রথাগত মন্দ ধারণাগুলো ক্রমান্বয়ে দূর হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। আইনপ্রয়োগকারী সংস্থায় মুসলিম অফিসাররা মুসলিম সমাজের প্রতি নাগরিকদের বিশ্বাস পুনর্গঠনে ভূমিকা রাখছে।
রামি আমির ২০০৭ সালে প্যাটারসন পুলিশ বাহিনীতে যোগদান করেছিলেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পর পুলিশ বাহিনীর সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতেই সে এতে যোগদানের অনুপ্রেরণা পায়। মিসর থেকে তার আগমন উদযাপনের সময় তার পারিবারিক পার্টির সময় পুলিশ অফিসাররা উচ্চৈঃস্বরে গানের অভিযোগ করেন। এ বিষয়ে আমির বলেন, তারা খুব পেশাদার এবং ভদ্র ছিল, তারা আমাকে যুক্তরাষ্ট্রে আসার জন্য অভিনন্দন জানিয়েছিল এবং আরও বলেছিল নিজের সময়কে উপভোগ করতে এবং মজা করতে তবে শুধু সংগীত বন্ধ রাখতে। তাদের চলে যাওয়ার পর আমার বাবা দরজা বন্ধ করে নিম্নস্বরে সংগীত চালিয়েছেন। সেদিন থেকে আমি ভেবেছিলাম যে, আমি তাদের মতো হতে চাই।
বর্তমানে রামি আমির প্যাটারসন বিভাগের প্রায় ৩০ জন মুসলিম পুলিশ অফিসারের মধ্যে একজন। সারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিশেষ করে নর্থ জার্সিতে মুসলিমদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
নিউ জার্সি স্টেট পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগে কর্মরত মুদ্দুসার মালিক বলেন, পুলিশ বিভাগে মুসলিম সমাজের সদস্যরা ক্রমান্বয়ে যোগদান করেছে এবং তাদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে সক্ষম হচ্ছে এবং এতে আরও বেশি মুসলিমকে এই কাজের প্রতি আকৃষ্ট করছে।
পুলিশ বিভাগে যোগদানের মাধ্যমে মুসলিমরা প্রথাগত ধারণাসমূহ ভাঙতে পারে এবং জনসাধারণের কাছে এবং সহকর্মী অফিসারদের কাছে একটি দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করতে পারে। প্রথাগত ধারণা ভাঙার মধ্যে অগ্রগণ্য অফিসারদের মধ্যে একজন হলেন মিসেস হুদা শালাবি, নিউ জার্সি পুলিশে যারা হিজাব পরেন তিনি তাদের একজন। তিনি বলেন, আমার বিভাগের প্রথম মুসলিম হিজাবি অফিসার হিসেবে আমি প্রথমে সবার কাছে অবাক হওয়ার বিষয় ছিলাম, আমার হিজাব সম্পর্কে আমার অনেক সহকর্মী কৌতূহলী ছিল। তারা শিখেছে এবং এখন তারা এটাকে সম্মান করে এবং এতে কোনো অস্বাভাবিকতা খুঁজে পায় না।
নিউ ইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্ট (এনওয়াইপিডি)-এর একজন ডেপুটি ইন্সপেক্টর এবং এনওয়াইপিডি মুসলিম অফিসার সোসাইটির সভাপতি আদিল রানা মনে করেন, পুলিশ বিভাগে মুসলিমদের উপস্থিতি মুসলিমদের প্রতি সুধারণা ও বিশ্বাস পুনর্গঠনের একটি বড় মাধ্যম।
রানা বলেন, আমরা সমাজের সেই গভীর মন্দ ধারণা বা ক্ষতগুলো মেরামত করার জন্যও কাজ করেছি। নাগরিকরা এখন ভালোভাবে জানে যে তারা নিরাপত্তার উদ্বেগে থাকলে তারা একজন মুসলিম অফিসারের সে ঙ্গ যোগাযোগ করতে পারে। এই সুধারণা রাতারাতি হয়নি। আমি বলতে যাচ্ছি না যে এটি ইতিমধ্যে পরিপূর্ণতা লাভ করেছে। একটি গভীর ক্ষত নিরাময় করা খুব কঠিন, বিশেষ করে যদি আপনি নিজেই এটির মধ্যে পড়ে যান। তবে আমরা প্রতিনিয়ত কাজ করছি, নাগরিক মধ্যে থাকা বিষয়গুলো নিয়ে সক্রিয় ভূমিকা রাখার চেষ্টা করছি।
আদিল রানার মতে, অন্তত ১৭০০ মুসলিম অফিসার এনওয়াইপিডিতে কাজ করেন। শিকাগো, ডিয়ারবর্ন, মিশিগান; হিউস্টন এবং বাল্টিমোরের মতো বিশাল মুসলিম জনসংখ্যার আমেরিকান শহরসমূহেও মুসলিম পুলিশ অফিসারদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।