জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় নবনির্মিত পৌর ভবন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আলোচনাসভায় জেলা প্রশাসক মো. ইমরান আহমেদ বলেন, যে সরকার এ উন্নয়ন করেছে, এই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে সেই সরকারকে পুনরায় নির্বাচিত করে আবার ক্ষমতায় আনতে হবে। এটা হবে আমাদের প্রত্যেকের অঙ্গীকার।
তিনি প্রকাশ্যে মাইকে পুনরায় এ সরকারকে ক্ষমতায় রাখতে অঙ্গীকার করেন। এ সময় তিনি সামনের নির্বাচনের পরে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজমকে মন্ত্রী হিসেবে এ জেলার ব্যাপক উন্নয়নের আশাও ব্যক্ত করেন।
তিনি এ সময় জামালপুরের ব্যপক উন্নয়নের জন্য মির্জা আজম এর প্রশংসা করেন। মাদারগঞ্জ পৌরসভার নবনির্মিত ভবন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের বক্তব্যের একটি ভিডিওতে এসব কথা শোনা যায়। সরকারি ঊর্ধ্বতন পদে কর্মরত থেকে প্রকাশ্যে সরকারকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় রাখার অঙ্গীকার করায় স্থানীয়দের মাঝে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল সোমবার (১১ সেপ্টম্বর) বিকালে মাদারগঞ্জ উপজেলার খরকা বিলের পাশে পৌরসভার নবনির্মিত ভবন উদ্বোধন করা হয়। পৌরসভার নবনির্মিত ভবন উদ্বোধন অনুষ্ঠানের আলোচনাসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও মেলান্দহ-মাদারগঞ্জের সাংসদ আলহাজ মির্জা আজম। মাদারগঞ্জ পৌরসভার মেয়র গোলাম কিবরিয়া কবিরের সভাপতিত্বে ও প্যানেল মেয়র সৈকত আলীর সঞ্চালনায় আলোচনাসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক মো. ইমরান আহমেদ, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ বাকি বিল্লাহ, পুলিশ সুপার মো. কামরুজ্জামান, জামালপুর স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক সরকার আব্দুল্লাহ আল মামুন বাবু, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মির্জা সাখাওয়াতুল আলম মনি, সাধারণ সম্পাদক বিজন কুমার চন্দ প্রমুখ।
আলোচনাসভায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, সাংবাদিক, সুধি সমাজসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ অংশ নেন।
মাদারগঞ্জ পৌরসভার নব নির্মিত ভবন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আলোচনাসভার ৩ মিনিট ৩৮ সেকেন্ডের ভিডিওতে জেলা প্রশাসক ইমরান আহমেদ তার বক্তব্যে বলেন, 'আমার পড়াশুনা করে যতুটুকু মনে হয়েছিল যে, আমি ঢাকা থেকে দূরে, আমার নিজ জেলা খুলনা থেকে পাঁচশ কিলোমিটার দূরে একটি অনুন্নত জেলায় যাচ্ছি। কিন্তু যোগদানের পরে এসে আমি দেখলাম এই অনুন্নত জেলাটাকে জাস্ট সোজাসুজি পরিবর্তিত করে দিয়েছে আমাদের আজকের প্রিয় প্রধান অতিথি। এটাকে একটা আধুনিক উন্নত জেলায় রূপান্তরিত করেছেন উনার দীর্ঘ কর্মজীবনে। আমরা তার জন্য একটা করতালি দিতে পারি। আমি এ জেলা নিয়ে স্টাডি করে যতটুকু বুঝেছি, একসময় এ জেলাটি যমুনা, ব্রহ্মপুত্র ও ঝিনাই নদী দ্বারা খণ্ডবিখণ্ডিত ছিল। প্রায় প্রতিদিনের বন্যা আর নদী ভাঙনে দেশের তৃতীয়তম দরিদ্র জেলা হিসেবে পরিচিত ছিল। সেই অবস্থা থেকে একজন মানুষ তার একজীবনে দীর্ঘ অক্লান্ত পরিশ্রম এত পরিবর্তন করতে পারে তাকে কাছ থেকে না দেখলে এবং এই জেলাকে না দেখলে বুঝতাম না। আপনাদের সৌভাগ্য যে, আপনারা এমন একজন নেতা পেয়েছেন। আপনাদের সৌভাগ্য, সাভারের মেয়র মহোদয় বললেন, উনারাও উনাকে চান। অন্য এলাকার মানুষও তাকে চায়। আপনাদের কতটুকু তাকে ভালোবাসা উচিত।'
তিনি আরো বলেন, 'মেলান্দহ থেকে এখানে আমি ৩০/৪০ মিনিটে এসেছি। আমি শুনেছি এখান থেকে ৩/৪ ঘণ্টায় যাওয়া যেত না। কোর্টে যেতে একবেলা সময় করে যেতে হতো। শুকনো খাবার ও আপনাদের প্রিয় মিল্লি ভাত নিয়ে যেতেন। একবেলা আগে আপনারা রওনা হতেন। কোর্ট যেতেন, পরে গিয়ে থাকতেন। পরের দিন আসতেন। আর এখন ৩০ মিনিটে যাচ্ছেন আবার ৩০ মিনিটেই চলে আসছেন। এটি সম্ভব হয়েছে শুধুমাত্র বর্তমান সরকারের জন্য, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কারণে, আমাদের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতীর পিতা বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবুর রহমানের কারণে। সমস্ত জীবন, মাত্র ৫৫ বছরের জীবন। এ পুরো জীবনটাই এ দেশের মানুষের জন্য, এ দেশের মাটির জন্য, স্বাধীনতার জন্য দান করেছেন। আমরা তার প্রতি শ্রদ্ধা জানাই, শ্রদ্ধা জানাই বঙ্গমাতাসহ সকল শহীদদের প্রতি। শ্রদ্ধা জানাই মহান মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লাখ শহীদদের প্রতি। যারা বেঁচে আছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা যারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জীবনের মায়া ত্যাগ করে দেশকে স্বাধীন করেছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও সালাম জানাই। আমি শ্রদ্ধা জানাই ২ লাখ মা-বোনের প্রতি যারা তাদের সম্ভ্রমের বিনিময়ে আমাদের স্বাধীনাতা এনে দিয়েছেন। আমাদের একটা জিনিস মনে রাখতে হবে, আমাদের স্বাধীনতা অনেক কষ্ট অর্জিত হয়েছে। এ স্বাধীনতা ও স্বাধীনতার সুফল আজকের যোগাযোগ উন্নয়ন, এই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে হবে। যে সরকার এই উন্নয়ন করেছে এই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার জন্য সেই সরকারকে আবার পুনরায় নির্বাচিত করে, আবার ক্ষমতায় আনতে হবে। এটা হবে আমাদের প্রত্যেকের অঙ্গীকার। আমি এটা মনে করি, আপনারা নিজের চোখে দেখে সরকারের প্রতি অকৃতজ্ঞতা করবেন না। আমি এটি বিশ্বাস করি। উন্নয়ন অব্যাহত থাকবে, উন্নয়ন হতে থাকবে। একসময় অবশ্যই আমার জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলায় পরিণত হবে, এই আশাবাদ ব্যক্ত করি। আমি আরও আশা করি, সামনের নির্বাচনে পরে আমাদের সম্মানিত প্রধান অতিথি অবশ্যই একজন মন্ত্রী হিসেবে এই জেলাকে আরও ব্যাপক উন্নয়ন করবে। এটা আশা করি ও বিশ্বাস করি এটা হবে ইনশা আল্লাহ।
এ বিষয়ে কথা বলেতে জেলা প্রশাসক মো. ইমরান আহমেদ এর ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন ধরেননি।
উল্লেক্ষ্য, তিনি গত ২৩ জুলাই জামালপুরে জেলা প্রশাসক হিসেবে যোগদান করেন। এর আগে তিনি পরিসংখ্যান ও তথ্য বিভাগের উপসচিব ছিলেন।