আলোচনায় নাকি সব সমস্যার সমাধান হয়; কাল কোচ চ-িকা হাথুরুসিংহের সঙ্গে বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটাররা একান্ত আলোচনা করেছিলেন। নাহ, এটা তাদের ব্যক্তিগত সমস্যার কোনো সেশন নয় বরং দলগত সমস্যার সেশন। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এশিয়া কাপ সুপার ফোরের ম্যাচ না জিতে বেকায়দায় পড়েছে বাংলাদেশ। এই পর্বে ভারত পাকিস্তানের চেয়ে শ্রীলঙ্কা সহজ প্রতিপক্ষ ছিল। এই ম্যাচে তাই বাংলাদেশ দলের শুধু জয়ের চিন্তাই ছিল। এমনটা না হওয়ায় বেশ চাপে পড়েছে দল। ভারতের বিপক্ষে শেষ ম্যাচটিতে ভালো কিছুর চিন্তায় ক্রিকেটারদের সঙ্গে তাই একান্ত আলোচনা করেছেন হাথুরু। আলাদা সময় নিয়ে প্রতি ক্রিকেটারের সমস্যা বোঝার চেষ্টা করেছেন বলে জানালেন বিসিবির ক্রিকেট অপারেশন্স প্রধান জালাল ইউনুস। এই সেশনের পর তাহলে কি ভালো কিছু হবে!
ভারতের সঙ্গে এমনিতেই একটু তেতে থাকে বাংলাদেশ। দলটির সঙ্গে সবশেষ সিরিজ জয়ের সুখস্মৃতি আছে। ওই সিরিজে প্রায় হেরে যাওয়া ম্যাচ জয়ের উদাহরণ তৈরি করেছে বাংলাদেশ। এশিয়া কাপের ফাইনালে ওঠা এখন বেশ দূরের পথ মনে হলেও ভারতের সঙ্গে জয় বাংলাদেশকে বিশ্বকাপের আগে অনেকটা আত্মবিশ্বাসী করে তুলতে পারে। সেই চেষ্টায় ভারত ম্যাচ সামনে রেখে ক্রিকেটারদের নিয়ে আলাদা সেশন করেছেন কোচ হাথুরু। মাঠের অনুশীলন না থাকলেও মানসিকতার অনুশীলনটা সেরে নিয়েছেন তিনি। কাল নিজেদের প্রস্তুতির ব্যাপারে জালাল ইউনুস জানান, ‘আজ কোচের সঙ্গে ওয়ান টু ওয়ান সেশন ছিল। প্রতিটা ক্রিকেটারের কী সমস্যা, তা নিয়ে কথা হয়েছে। হয়তো ওরাও মন খুলে বলেছে কোথায় আটকাচ্ছে। যার যে সমস্যা আছে সেসব নিয়ে কাজ করা হবে অনুশীলনে। এটার রিফ্লেকশন হয়তো আমরা আগামী ম্যাচে দেখতে পারব।’
টুর্নামেন্ট শুরুর আগে রুদ্ধদ্বার প্রস্তুতিতে সর্বোচ্চ তৈরি হয়ে শ্রীলঙ্কা গিয়েছিল বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচ হারলেও আফগানিস্তানের সঙ্গে দারুণ জয়ে ফিরে আসায় আশার ভেলায় দোলা লাগে। অথচ সুপার ফোরে টানা দুই বাজে হার ফাইনাল স্বপ্ন ধূসর করে দিয়েছে। ওই দুই হারে বাংলাদেশ দলও একটু হতোদ্যম হয়ে উঠেছে হয়তো। পাশাপাশি দলের হারের পরদিন অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের ব্যক্তিগত কাজে বাংলাদেশে চলে আসা মোটেও ভালো বার্তা নয়। তবুও সবকিছু ঢেকে রাখতে চাইলেন জালাল ইউনুস। দল ‘ডিমোটিভেটেড’ কি না এমন প্রশ্নে সরাসরি নাকচ করেছেন। পাশাপাশি দলের সবাইকে পাশে থেকে উদ্যমী রাখার কাজ করছেন বলেও জানান।
এমনিতে তিনদিনের বিশ্রাম থাকায় বাংলাদেশ ক্রিকেটাররা ব্যাট-বল থেকে দূরে আছেন। ক্রিকেট চিন্তা বাদ দিয়ে হালকা সময় পার করে ক্রিকেটারদের ফুরফুরে মেজাজে ফেরার চেষ্টা। এই সময় হোটেলে টিম মিটিং-ই দলের একমাত্র কার্যক্রম। জালাল ইউনুসের মতে দল নিজেদের মধ্যে সংঘবদ্ধ থাকার চেষ্টা করছে। নিজেদের মধ্যে কথা বলে করণীয় সম্পর্কে বুঝছে ক্রিকেটাররা। তার ভাষায়, ‘কী কারণে ডিমোটিভেটেড, কোন দিক থেকে... তারা যে কষ্ট করেছে ঢাকাতে। আয়ারল্যান্ড থেকে আসার পর যেভাবে অনুশীলন করেছে। আফগান সিরিজের পর যেভাবে অনুশীলন করেছে সেটাও দেখেছে সবাই। সবাই তো অনুশীলনে ছিল, হাইলি মোটিভেটেড দল। এখানে ডিমোটিভেটেড হওয়ার কোনো কারণ নেই। খেলায় হারজিত আছে, হয়তো আমাদের যে টার্গেট অর্জন করার কথা ছিল সেটা আমরা অর্জন করতে পারিনি। এটা ঠিক আছে। কিন্তু সবাই শতভাগ দিয়েই কিন্তু খেলেছে, চেষ্টা করেছে।’
তবে আত্মবিশ্বাসের দিকে যে বড় আঘাত লেগেছে তা স্বীকার করেছেন জালাল, ‘এটা ঠিক যে আমাদের শ্রীলঙ্কার সঙ্গে জেতার কথা ছিল। শ্রীলঙ্কা অবশ্যই ভালো দল কিন্তু আমরা ওদের হারাতে পারি। পুরো দলই এই ভাবনা রেখেছিল যে এই ম্যাচ জিতবে, এটা না হওয়ায় আমাদের ফাইনালের যাত্রাটায় বড় বাধা পড়েছে। আমরা সবাই ভেবেছিলাম আর কি এই ম্যাচটা জিতব।’
শ্রীলঙ্কার সঙ্গে হারের কারণ হিসেবে মাঝ ইনিংসে জুটি না হওয়ার দিকে আঙুল তুললেন জালাল। এই সমস্যা তো বাংলাদেশ ব্যাটারদের সবসময়ের। পুরনো সমস্যা ভারতের সঙ্গে আবার ফিরবে না এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। একমাত্র হাথুরু আলাদা সেশনের টোটকা যদি এখন কোনো কাজে দেয়, সেই ভরসায় থাকা ছাড়া উপায় নেই।