১৯ বছর আগে চট্টগ্রামে নগরের হাজারি গলির ‘নাথ জুয়েলার্স’ থেকে জেলা টাস্কফোর্সের জব্দ করা ১০৪ কেজি স্বর্ণ উচ্চ আদালতের নির্দেশে ফেরত দেওয়া হচ্ছে বন্ধকদাতা ৬১ জন দোকানিকে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গুদাম থেকে এসব স্বর্ণ ফিরিয়ে দিচ্ছে চট্টগ্রামের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। ইতিমধ্যে ১৩ কেজি স্বর্ণ ফেরত দেওয়া হয়েছে বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে। এর আগে ২০২১ সালের ২৬ জানুয়ারি জব্দ করা সব স্বর্ণ নাথ জুয়েলার্সের উত্তরাধিকারীদের ফেরত দিতে নির্দেশ দেয় আপিল বিভাগ। ২০০৪ সালের ১১ আগস্ট চট্টগ্রাম জেলা টাস্কফোর্স নাথ জুয়েলার্সে অভিযান চালিয়ে ১০৪ কেজি স্বর্ণ, সাড়ে ৩ কেজি রৌপ্য ও ২৫ লাখ নগদ টাকা জব্দ করে।
এ ঘটনায় নগরের কোতোয়ালি থানায় জুয়েলার্সের মালিক রামকৃষ্ণ নাথকে আসামি করে বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫(বি) ধারায় মামলা করা হয়। আদালতে মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়ে বলা হয়, পণ্য মানিলন্ডারিং ব্যবসার আওতায় নিজের এবং ২৩৪ জন বন্ধকদাতার স্বর্ণ নাথ জুয়েলার্সে রক্ষিত ছিল। এই প্রতিবেদন গ্রহণ করে রামকৃষ্ণ নাথকে অব্যাহতি দিয়ে জব্দ করা স্বর্ণ তাকে ফেরত দিতে নির্দেশ দেন চট্টগ্রমের বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক। এ সময় ৪৬ জন বন্ধকদাতা তাদের স্বর্ণ ফেরত চেয়ে আদালতে আবেদন করেন। পরে নাথ জুয়েলার্সের মালিকের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং আইনে আরেকটি মামলা করা হয়। হাইকোর্ট এই মামলা বাতিল করে ২০০৮ সালের ৩০ জানুয়ারি জব্দ করা ১০৪ কেজি স্বর্ণ থেকে নিজের স্বর্ণ রেখে বন্ধকদাতা ২৩৪ জনকে স্বর্ণ ও রৌপ্য ফেরত দেওয়ার রায় দেয়। এই রায়ের বিরুদ্ধে ২০০৯ সালে আপিল করা হয়। আপিল বিচারাধীন থাকাবস্থায় মারা যান রামকৃষ্ণ নাথ।
পরে তার স্ত্রী পারুল নাথ এবং দুই পুত্র সঞ্জয় নাথ ও পলাশ নাথ মামলায় পক্ষভুক্ত হন। ২০১১ সালের ১২ অক্টোবর হাইকোর্টের রায় বহাল রাখে আপিল বিভাগ। রায়ে ম্যাজিস্ট্রেটকে জব্দ করা স্বর্ণ বণ্টনের আদেশ দেওয়া হয়। আপিল বিভাগের এ রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে আবেদন করেন নাথ জুয়েলার্সের ওয়ারিশরা। শুনানি শেষে ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল আপিল বিভাগ আগের রায় সংশোধন করে নাথ জুয়েলার্সের মালিকদের জব্দ করা স্বর্ণ ৬১ বন্ধকদাতার মধ্যে বণ্টনের আদেশ দেওয়া হয়। কিন্তু আপিল বিভাগের এ আদেশের বিরুদ্ধে রিভিউ আবেদন দাখিল করেন কয়েকজন দাবিদার। পরে ওই রিভিউ আবেদন খারিজ করে দেয় আপিল বিভাগ। স্বর্ণ বন্ধক রেখে ধার নেওয়া অর্থ সুদ- আসলে পরিশোধের শর্তে জব্দ স্বর্ণগুলো ৬১ জন দোকানিকে বুঝিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেয় আপিল বিভাগ