সর্বশক্তি নিয়ে মাঠে নামতে হবে এই সরকারের বিরুদ্ধে: ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘কালবিলম্ব নয়, এখনই সবাইকে সর্বশক্তি নিয়ে মাঠে নামতে হবে এই দানবীয় সরকারের হাত থেকে মুক্তি পেতে।’

"আমি ভালো এবং সুষ্ঠু নির্বাচন করি এটি বিদেশিরা বলে না" প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের জবাবে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, তার এ বক্তব্য এ বছরের সেরা জোক (কৌতুক)। উনার এ কথা শুনে ঘোড়াও হাসে।

শুক্রবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নয়াপল্টন দলীয় কার্যালয়ের সামনে আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস ও সরকার পতনের একদফা দাবিতে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহবায়ক আব্দুস সালাম। সমাবেশে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, গত ১৫ বছর এ ভয়াবহ ফ্যাসিস্ট সরকার গোটা রাষ্ট্রকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে। ডিসি এসপিদের নিজেদের মতো সাজিয়েছে, নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যত পারো মামলা দাও। আজকে মামলাকে উপেক্ষা করে মানুষ রাজপথে নেমেছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের নামে হাজার কোটি টাকা লুট হচ্ছে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও বিচার বিভাগ ধ্বংস হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, সাইবার সিকিউরিটি নামে আইন করে দেশের গণমাধ্যমের মুখ স্তব্ধ করতে পারলেও বিদেশি গণমাধ্যমের মুখ কীভাবে বন্ধ করবেন। গতকাল নিউইয়র্ক টাইমস বলেছে বাংলাদেশের গণতন্ত্র বিলীনের পথে। লণ্ডনের একটি গণমাধ্যমে বলেছে বাংলাদেশের গণতন্ত্র এখন তলানীতে ঠেকেছে। দেশের গণমাধ্যমের টুটি চেপে ধরলেও সাংবাদিকরাও গণতন্ত্র ও জনগণের পক্ষে লেখার চেষ্টা করছেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, সরকার জনগণকে বোকা বানাতে চায়। আজকে দ্রব্যমূল্যের এত ঊর্ধ্বগতি মানুষের ঘরের চাল নাই ডাল নাই তেল নাই। এই দিকে সরকারের কোন খেয়াল নাই। সরকারের খেয়াল একটাই কিভাবে ক্ষমতায় যেতে হবে, কিভাবে দেশকে শোষণ করা যায়।

তিনি বলেন, অবিলম্বে এই সরকারকে বলব সংসদকে বিলুপ্ত করে দিন। নিরপেক্ষ নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দিন। কিন্তু তারা জানেন নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিলে তারা দশটি আসন ও পাবেন না। এ কারণে তারা দলীয় সরকারের অধীনে অবৈধভাবে আবারও নির্বাচন করতে চায়।

ফখরুল বলেন, দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা শিক্ষা ব্যবস্থা, বিচার বিভাগসহ রাষ্ট্রের সকল স্তম্ভ ফ্যাসিস্ট সরকার ধ্বংস করেছে। এটাই পরিষ্কার সরকার রাষ্ট্র চালাতে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ।

তিনি বলেন, আজকে তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে। ৭১ সালে যখন মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিলো তখন কোনো ভয় না পেয়ে যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছিলো তরুণরা। আজও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে সবাইকে ঝাপিয়ে পড়তে হবে। এখনই সময়, ভয়াবহ সরকার সরিয়ে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আজকে এই গণতন্ত্র দিবসে বলতে চাই এ সরকারের অধীনে আমরা নির্বাচনে যাব না।

বিএনপি মহাসচিব তার বক্তব্যে আদিলুর রহমানকে সাজা দেওয়ার নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান।

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব আমিনুল হকের সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য রাখেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ড. আব্দুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভূঁইয়া, হাবিবুর রহমান হাবিব, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, বিএনপি চেয়ারপার্সনের বিশেষ সহকারী, শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, প্রচার সম্পাদক শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসান, যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শফিকুল মিল্টন, মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাস, বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন, ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল প্রমুখ।