আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর সরকার পতনের এক দফা দাবি আদায়ে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করবে বিএনপি। গতকাল শুক্রবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
এ সময় বিএনপি মহাসচিব দাবি করে বলেন, ‘ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার সবকিছুকেই একটা অক্টোপাসের মতো ঘিরে ফেলেছে। চেপে ধরেছে। দমবন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এই দমবন্ধ পরিবেশ থেকে শ্বাস নেওয়ার ও মুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে সবাই মিলে। আমরা তো বলছি না, বিএনপিকে ক্ষমতায় বসান। তবে দেশকে মুক্ত করেন।’
মোহাম্মদপুরের কৃষি মার্কেটে আগুন লাগা প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ঢাকার পুরানো মার্কেটগুলোয় আগুন লাগছে। বঙ্গবাজার, নিউমার্কেট, এখন কৃষি মার্কেট দেখলাম। এই মার্কেটগুলো এখন আবার নতুন করে তৈরি করার সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। সেগুলো তৈরি করে নিজস্ব লোকদের বরাদ্দ দেওয়া হবে। আমরা আগুনে ক্ষতিগ্রস্তদের পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’
মানবাধিকার সংগঠন অধিকারের সাধারণ সম্পাদক আদিলুর রহমান খান শুভ্র ও পরিচালক এএসএম নাসির উদ্দিন এলানের সাজা বাতিল করে তাদের মুক্তির দাবি জানান মির্জা ফখরুল।
২০১৮ সালের নির্বাচন-সংক্রান্ত মামলাগুলোর কোনো আদেশ এখন পর্যন্ত হাইকোর্ট দেয়নি উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘তাহলে গোটা ব্যবস্থাটা কী? সেটা হচ্ছে একটা দলকে নির্বাচিত করার সুব্যবস্থাগুলো করে দেওয়া। যাতে তারা আবার ক্ষমতায় থাকতে পারে। এ অবস্থায় সামনে আবার নির্বাচন আসছে।’
জামালপুরের জেলা প্রশাসককে (ডিসি) প্রত্যাহার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এটা আইওয়াশ। এ ছাড়া কিছুই নয়।’
ভারতে বিরোধী জোটের ১৪টি মিডিয়া বয়কটের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘আমরা এখন সেই রকম কিছু করি নাই। শুধু বলেছি, দয়া করে নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশন করুন। সত্যকে সত্য, কালোকে কালো বলুন। এগুলো না বললে আমরা কীভাবে দায়িত্ব পালন করব। একজন সাংবাদিক তার দায়িত্ব পালন করবেন। একইভাবে শিক্ষক, অর্থনীতিবিদ, রাজনীতিবিদ তার দায়িত্ব পালন করবেন। না হলে রাষ্ট্রকে টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে না।’
এ সময় বিএনপি নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন খায়রুল কবির খোকন, আব্দুস সালাম, শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স প্রমুখ।