রাবি ছাত্রলীগের সম্মেলন

সান্ধ্য কোর্সের শিক্ষার্থীরা হতে চান সভাপতি-সেক্রেটারি 

অর্ধযুগ পর আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা ছাত্রলীগের ২৬ তম বার্ষিক সম্মেলন। ইতিমধ্যে সম্মেলনকে ঘিরে পদ প্রত্যাশীদের নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা।

ইতিমধ্যে সভাপতি-সেক্রেটারি প্রার্থী অনেকেরই শেষ হয়েছে ছাত্রত্ব। তবে ছাত্রত্ব ধরে রাখতে তারা সান্ধ্যকালীন কোর্সকে অবলম্বন হিসেবে নিয়েছেন। তাদের অধিকাংশই ভর্তি হয়েছেন ইনস্টিটিউট অব ইংরেজি অ্যান্ড আদার ল্যাংগুয়েজ এবং গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে।

ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, পদ প্রত্যাশীদের মধ্যে আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন বর্তমান কমিটির সহ-সভাপতি কাজী আমিনুল হক লিংকন, জাকিরুল ইসলাম জ্যাক ও মেজবাহুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহিনুল ইসলাম সরকার ডন, ফয়েজ আহমেদ ও শেখ মামুন সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান মিশু, গণযোগাযোগ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বাবু, প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক আসাদুল্লা-হিল-গালিব, উপ-ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক তাওহীদ দূর্জয়, বঙ্গবন্ধু হল শাখার সভাপতি কাব্বিরুজ্জামান রুহুল, সোহরাওয়ার্দী হল শাখার সভাপতি নিয়াজ মোর্শেদ প্রমুখ। এ ছাড়াও আলোচনায় রয়েছেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য সাকিবুল হাসান বাকী।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি কাজী আমিনুল ইসলাম লিংকন এবারের সম্মেলনে সভাপতি পদ প্রত্যাশী। তিনি মার্কেটিং বিভাগের ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি ২০১৮ সালে অনার্স এবং ২০২১ সালে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। ফলে তিনি আর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত ছাত্র নয়। বর্তমানে তিনি ভর্তি আছেন মার্কেটিং বিভাগের সান্ধ্যকালীন কোর্সে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে লিংকন বলেন, আমাদের বর্তমান যে কমিটি সেটা ২০১৬ সালের। দীর্ঘসময় ধরে সম্মেলন না হওয়ায় এই সাংগঠনিক জটে অনেকেরই পড়ালেখা শেষ হয়ে গেছে। এখন অনেকে অন্য কোর্সগুলোতে ভর্তি হয়েছেন। আমারও পড়ালেখা শেষ হয়ে গেছে। আমি এখনও আমার বিভাগে ভর্তি হয়ে আছি। এখন এটাকে সাবেকও বলতে পারেন আবার বর্তমান শিক্ষার্থীও বলতে পারেন।

সহ-সভাপতি মেসবাহুল ইসলাম রাবির ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি ২০১৯ সালে অনার্স এবং পরের বছর মাস্টার্স শেষ করেন। নিয়মিত পড়াশোনা শেষ হয়ে যাওয়ায় মেসবাহুল ইংলিশ অ্যান্ড আদার ল্যাংগুয়েজ কোর্সে ভর্তি আছেন। তিনি সভাপতি পদ প্রার্থী।

একই শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহিনুল ইসলাম সরকার ডন। তিনিও সভাপতি পদ প্রত্যাশী। সরকার ডন ফাইন্যান্স বিভাগ থেকে ২০১৬ সালে অনার্স এবং ২০১৮ সালে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। বর্তমানের তিনি ইংলিশ অ্যান্ড আদার ল্যাংগুয়েজের জার্মান ভাষার শর্ট কোর্সে ভর্তি রয়েছেন।

এ বিষয়ে সরকার ডন বলেন, লেখাপড়া শেষ হওয়ার পর প্রথমে ফ্রেঞ্চ ল্যাংগুয়েজে ভর্তি হয়েছিলাম। সেটা শেষ হওয়ার পর এখন জার্মান ভাষা শিক্ষা কোর্সে ভর্তি হয়েছি। আমার লেখাপড়া শেষ হলেও এখানে একটা বয়সের বিষয় আছে। ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী আমার বয়স এখনও এক মাস আছে। আর আমিতো ড্রপ আউট না বা ইন্টার পাশ না। বিবিএ এবং এমবিএ শেষ করেছি নিয়মিতভাবে। আমার ছাত্রত্ব এখনও আছে।

এদিকে সাধারণ সম্পাদক পদ প্রত্যাশী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন গণযোগাযোগ ও উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বাবু। তিনি গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তিনিও ছাত্রত্ব ধরে রাখতে ইনস্টিটিউট অব ইংলিশ অ্যান্ড আদার ল্যাংগুয়েজ এর একটি কোর্সে ভর্তি হয়েছেন।

মোস্তাফিজুর রহমান বাবু বলেন, আমিতো অছাত্র না আমি আদার ল্যাংগুয়েজ কোর্সে ভর্তি আছি। বিশ^বিদ্যালয়ের নিয়মে এখানে যারা অনার্স শেষ করে তারা যেকোনো কোর্সে ভর্তি হতে পারে। এখানে যারা গবেষণা করে, পিএইচডি করে তারাও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

সহ-সভাপতি জাকিরুল ইসলাম জ্যাক ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। অনেক আগেই পড়াশোনা শেষ হলেও তিনি ক্যাম্পাস ছাড়েন নি। বর্তমানে তিনি ইংলিশ লিটারেচারে সান্ধ্যকালীন মাস্টার্স কোর্সে ভর্তি রয়েছেন। যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শেখ মামুন ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষে ছাত্র। বর্তমানে তিনি ল্যাংগুয়েজ ইনস্টিটিউটে সান্ধ্যকালীন মাস্টার্স কোর্সে ভর্তি আছেন। তারাও আসন্ন সম্মেলনে আলোচনায় রয়েছেন।

রাবি ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া বলেন, অছাত্র কিংবা ড্রপ আউটের বিষয়টি সংগঠনের গঠনতন্ত্রের সম্পূর্ণ বিরোধী। অবশ্যই তাকে নিয়মিত শিক্ষার্থী হতে হবে। গঠনতন্ত্রের যে নিয়ম-নীতিগুলো আছে সেগুলো পূর্ণ না করে কেউ যদি প্রার্থী হতে চায় সেটা তার বিষয়। তবে প্রার্থী নির্বাচন করবে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি-সম্পাদক ও আলোচনা সাপেক্ষে প্রেসিডিয়াম সদস্য ও রাজশাহী সিটি মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন।

তিনি বলেন, তাদের প্রতি আমাদের বিশ্বাস আছে যে, তারা এমন নেতৃত্ব নির্বাচন করবে, যাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি করার পূর্ব অভিজ্ঞতা আছে, আগামী দিনের প্রতিকুল সময়ে সংগঠনকে গতিশীল করতে পারবে, সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবি আদায়ের যে ঐতিহ্য সেটাকে বজায় রাখবে তাদেরই তারা নেতৃত্বে নিয়ে আসবেন।

সার্বিক বিষয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান বলেন, আমাদের কাছে জমা পড়া জীবনবৃত্তান্ত বিশ্লেষণ করে, পর্যালোচনা করে, পর্যবেক্ষণ করে আমরা কমিটি গঠন করব। একটি সুন্দর, সৃজনশীল, শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে স্মার্ট রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় গড়ার লক্ষে যারা সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখতে পারবেন শিক্ষা, শান্তি, প্রগতির ধারক বাহক হবেন তারাই।

কোনো শর্ট কোর্সে ভর্তি, সান্ধ্য বা ড্রপআউট শিক্ষার্থীরা নেতৃত্বে আসবে কি না? এমন প্রশ্নের জাবাবে তিনি বলেন, দেখুন আমি আপনার কথা বুঝতে পারছি না। তবে জীবন বৃত্তান্ত বিচার বিশ্লেষণ করেই রাবি শাখার কমিটি করা হবে। কমিটি হওয়ার পর যদি কোনো অসংগতি পান তখন আপনি আপনার সংবাদ পত্রের মাধ্যমে বিষয়টি তুলে ধরবেন।