হাদিসের শিক্ষা

ভুল ধরিয়ে দিলে করণীয়

কেউ আপনার ভুল ধরিয়ে দিলে, ‘আমি এমনই’ বলে নিজের পক্ষে সাফাই গাইছেন, এটা কিন্তু ভালো গুণ নয়। আবার অনেককে বলতে শোনা যায়, ‘হ্যাঁ, আমি এমনই বেয়াদব, ঘাড় ত্যাড়া, রাগ বেশি, বদমেজাজি।’ কিংবা ‘জানেনই তো আমি খারাপ।’ এভাবে নিজের খারাপ দোষ-গুণ না লুকিয়ে বরং গর্বের সঙ্গে বলতে পছন্দ করে। তাহলে বুঝে নিন, আপনার মধ্যে সুপ্ত অহংবোধ রয়েছে। দুঃখের বিষয় হলো ইসলামপন্থিদের মধ্যেও এই অভ্যাস দেখা যায়। অনেক ভাবসাব নিয়ে নিজেকে খারাপ বলে। এটা হেদায়েতের পথের অন্তরায়। সত্যকে অবজ্ঞা করার শামিল। ইসলামের শিক্ষা হলো কোনো ভুল করলে স্বীকার করে নেওয়া। ভুল গোপনে করে থাকলে গোপনে আর প্রকাশ্যে করে থাকলে প্রকাশ্যে ভুলের স্বীকৃতি দিয়ে সঠিক বিষয়ের ঘোষণা দেওয়া। পরবর্তী সময়ে ওই ভুল আর না করা। যে ভুল ধরিয়ে দিলে তার প্রতি কৃতজ্ঞতা আদায় করা।

ভুল সংশোধনের পদ্ধতি

মানুষের ভুল হওয়া খুব স্বাভাবিক বিষয়। ভুল যেমন রয়েছে, তেমনি সংশোধনও রয়েছে। ইসলামে ভুল ধরিয়ে দেওয়ার সুন্নাহসম্মত পদ্ধতি রয়েছে। কেউ কেউ অন্যের ভুল দেখলে সুন্দরভাবে বুঝিয়ে সংশোধন করে দেওয়ার পরিবর্তে ধমক ও তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে কথাও বলে ফেলেন। খুব বড় কিংবা জঘন্য কোনো ভুল নিয়ে বলছি না, নিত্যনৈমিত্তিক সূচিত হওয়া ছোট ছোট ভুলের কথা।

বর্তমান সময়ে দেখা যায়, পরিবার থেকে শুরু করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন অফিস-আদালত ও দোকানের কর্মচারীর ভুলের দরুন মালিক অত্যন্ত কটুবাক্য ব্যবহার করে থাকে, ধমক দিয়ে থাকে এবং প্রহার করে বসে ইত্যাদি। এমনটা করা কোনোভাবেই সমীচীন নয়। কাউকে সরাসরি আঘাত দিয়ে কথা বললে কিংবা ভুল সংশোধনের উদ্দেশে বললেও মাঝেমধ্যে তা হিতে বিপরীত ঘটে। তাই রাসুল (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণের মাধ্যমে ভুলকে সংশোধন করার চেষ্টাতে রয়েছে সাফল্য।