চক্রটির নাম ‘রয়েল চিটিং ডিপার্টমেন্ট (আরসিডি)’। মালয়েশিয়া থেকে ফিরে আব্দুল বারী নামের এক ব্যক্তি এ চক্রটি গড়ে তোলে। ব্যবসায় অংশীদার করার ফাঁদে ফেলে টাকা হাতিয়ে নেয় এ চক্র। সম্প্রতি তিন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের পর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এ তথ্য জানিয়েছে।
পিবিআই বলছে, আরসিডির অন্যতম হোতা বারী কখনো ফার্নিচার, কখনো কেমিক্যাল ব্যবসায়ী, কখনো ঘড়ির বড় কারবারি পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করে আসছিলেন। মালয়েশিয়া থেকে ফিরে তিনি ২০১৩ সালে প্রতারণায় নামেন।
গতকাল রবিবার রাজধানীর আগারগাঁও পিবিআই ঢাকা মেট্রো-উত্তর কার্যালয়ে বিশেষ পুলিশ সুপার মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, বারীসহ চক্রের তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে গত শনিবার। বারী নিজেকে আফসার উদ্দিন খান ও বজলুর রহমান (৬৬) নামে পরিচয় দিতেন। অন্য দুজন হলেন মো. রাশেদ ওরফে রাসেল (৩৭) ও মো. নাঈম (৪৩)। তাদের কাছ থেকে জব্দ করা হয়েছে বিভিন্ন দামি ব্র্যান্ডের হাতঘড়ির ক্যাটালগ।
তিনি বলেন, সম্পতি প্রতারণার একটি অভিযোগ পেয়ে এই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলাটির বাদী আব্দুল মান্নান। তিনি অভিযোগ করেছেন, তার ছোট ভায়রা সাইফুল ইসলাম (৩২) চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে ২৬ শতক জমি বিক্রির জন্য অনলাইনে বিজ্ঞাপন দেন। বারী ওরফে আফসার উদ্দিন জমি কিনবেন বলে ইঞ্জিনিয়ার শরীফ পরিচয় দেওয়ার পর এক ব্যক্তি তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। তাদের জমির কাগজপত্র নিয়ে উত্তরার একটি বাড়িতে যেতে বলেন। গত ১৭ জুলাই তারা ওই বাড়িতে যান এবং জমির দরদাম ঠিক হয়। ১৯ জুলাই জমি রেজিস্ট্রি করার জন্য হাজীগঞ্জ যাওয়ার কথা ছিল। এর মধ্যে আফসার উদ্দিন এক ভারতীয় নাগরিককে দামি ঘড়ি সরবরাহের অর্ডার পাওয়ার কথা বলে তাদের সঙ্গে অংশীদার হওয়ার প্রস্তাব দেন। সেই সুবাদে তারা আফসার ওরফে বারীকে ১৮ জুলাই উত্তরার ওই বাসায় গিয়ে ২০ লাখ টাকা দেন। বাদীর অভিযোগ, টাকা দেওয়ার পর তাদের আপ্যায়নের ব্যবস্থা করে আসামিরা সটকে পড়ার চেষ্টা করে। এ সময় একজনকে আটকে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।
জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বারীর বিরুদ্ধে ৬টি প্রতারণা মামলার তথ্য মিলেছে। তিনি গত মাসেও আদালত থেকে জামিনে বেরিয়ে একই প্রতারণায় জড়িয়েছেন।