সরকারি-বেসরকারি কর্মস্থলসহ জনসমাগমে ব্রেস্ট ফিডিং (মাতৃদুগ্ধ দান) কর্নার স্থাপনে হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়েছে। পাঁচ মাসের বেশি সময় আগে বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ও বিচারপতি কাজী ইবাদত হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চের দেওয়া এই রায়ের অনুলিপি পাওয়ার বিষয়টি গতকাল মঙ্গলবার সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা নিশ্চিত করেছেন।
রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে. শিশুদের মাতৃদুগ্ধ পানের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সংবেদনশীল। অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায়, মায়েরা সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সেক্টরে কাজ করে যাচ্ছেন। তাই সব ধরনের প্রতিষ্ঠানে ব্রেস্ট ফিডিং রুমের ব্যবস্থা থাকা আবশ্যক।
আদালত আরও বলে, ‘ব্রেস্ট ফিডিং রুমগুলো আলো-বাতাসের সুব্যবস্থাসহ নিরাপদ ও সুসজ্জিত হতে হবে এবং মায়েরা যেন স্বাচ্ছন্দ্যে এগুলো ব্যবহার করতে পারেন।’
রায়ের পর্যাবেক্ষণে এ ধরনের জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয় আদালতে উপস্থাপনের জন্য আইনজীবী ইশরাত হাসানকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে আদালত বলে, ‘এর আগে কখনোই ৯ মাস বয়সী শিশু রিট আবেদন করেনি। এই শিশু ইতিহাস সৃষ্টি করল।’
জনসমাগম হয় এমন সব স্থানে মাতৃদুগ্ধ কর্নার স্থাপনের নির্দেশনা চেয়ে ২০১৯ সালের অক্টোবরে ৯ মাস বয়সী শিশু উমাইর বিন সাদীর পক্ষে তার মা আইনজীবী ইশরাত হাসান এ রিট আবেদনটি করেছিলেন। প্রায় চার বছর আগের এ রিট আবেদনের ওপর প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ওই বছরের ২৭ অক্টোবর অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশনায় পাবলিক প্লেসে মাতৃদুগ্ধ কর্নার স্থাপনসহ এ বিষয়ে রুল দেয় হাইকোর্ট। রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে গত ২ এপ্রিল হাইকোর্ট এ রায় দেয়।