বিএসএমএমইউতে আলাদা হলো জোড়া লাগানো যমজ শিশু

গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়া পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা চায়না বেগম এবং তার স্বামী আল আমিন শেখের ঘরে গত ৪ জুলাই জন্ম নেয় পেটে জোড়া লাগা দুই জমজ শিশু আবু বকর ও ওমর ফারুক। জন্মের পর শরীরে জটিলতা দেখা দিলে গত ৫ জুলাই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে (বিএসএমএমইউ) ভর্তি করা হয় তাদের। প্রায় আড়াই মাস পর্যবেক্ষণে থাকার পর গতকাল বুধবার সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পেটে ও বুকে জোড়া লাগা ওই দুই শিশুকে আলাদা করা হয়েছে।

চিকিৎসকরা জানান, বিএসএমএমইউয়ের শিশু সার্জারি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এ কে এম জাহিদ হোসেনের অধীনে ২০১ নম্বর কেবিনে ভর্তি ছিল শিশু দুটি। তাদের চিকিৎসার সব দায়িত্বভার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গ্রহণ করেন এবং প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা দেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল আবু বকর ও ওমর ফারুকের নানান পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষে গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ৮টায় অস্ত্রোপচার শুরু করে। অস্ত্রোপচারে শিশু সার্জারি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এ কে এম জাহিদ হোসেনের নেতৃত্বে শিশু সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা. রুহুল আমিন, সহকারী অধ্যাপক ডা. কে এম সাইফুল ইসলাম, মেডিকেল অফিসার ডা. উম্মে হাবিবা দিলশান মুনমুন এবং নার্সিং অনুষদের ডিন ও অ্যানেস্থেশিয়া বিভাগের অধ্যাপক ডা. দেবব্রত বণিক, অ্যানেস্থেশিয়া বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. দেবাশীষ বণিক এবং নার্সিং ইনচার্জ মেহেরুন্নেসাসহ অন্যান্য চিকিৎসকরা অংশ নেন।

চিকিৎসকরা জানান, অস্ত্রোপচারটি জটিল ছিল। কারণ শিশু দুটির লিভার ও বুকের হাড় সংযুক্ত ছিল। অস্ত্রোপচারের পর শিশুরা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে রয়েছে। তাদের শারীরিক অবস্থা গতকাল পর্যন্ত সংকটমুক্ত ছিল। শিশু দুটির পূর্ণ সুস্থতার জন্য বাবা-মা ও চিকিৎসকরা দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।

সফল অস্ত্রোপচারের জন্য চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান বিএসএমএমইউ উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অর্থায়নে এই অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। আমাদের দেশের সার্জনরা এ ধরনের জটিল রোগের চিকিৎসা সেবা প্রদান করতে সক্ষম এবং এ রকম জটিল রোগের চিকিৎসার জন্য বিদেশ গমনের কোনো প্রয়োজনীয়তা নেই। স্বল্প খরচে দেশের প্রাপ্ত সুযোগ সুবিধাতেই বিশ্বমানের চিকিৎসা সেবা দেওয়া সম্ভব।