ভারতে হুমকি পেয়ে কিছু কূটনীতিক ফিরিয়ে নিচ্ছে কানাডা

কানাডায় শিখ নেতা হরদীপ সিং নিজ্জার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অটোয়া ও দিল্লির কূটনৈতিক সম্পর্ক তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। এর মধ্যেই ভারত থেকে কয়েকজন কূটনীতিককে দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কানাডা সরকার। গতকাল বুধবার (২০ সেপ্টেম্বর) কানাডীয় সংবাদমাধ্যম ন্যাশনাল পোস্টের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

এদিন সন্ধ্যায় কানাডার আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক দপ্তরের মুখপাত্র জ্যঁ-পিয়েরা গডবাউট বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এক ইমেলে জ্যঁ-পিয়েরা গডবাউট লেখেন, বর্তমানে যে পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে তাতে আমরা আমাদের কূটনীতিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নিচ্ছি। আমাদের কিছু কূটনীতিক সোশ্যাল মিডিয়ায় হুমকি পাচ্ছেন।

তিনি আরও লেখেন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও অন্যান্য কার্যক্রম চালিয়ে যেতে ভারতের বিভিন্ন স্থানে কানাডীয় কূটনীতিক ও স্থানীয় কর্মীরা চাকরি করছেন। সতর্কতা হিসেবে এই কূটনীতিকদের উপস্থিতির বিষয়টি সাময়িক সময়ের জন্য সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এদিকে কিছু কূটনীতিককে ফিরিয়ে নেওয়া হলেও ভারতে কানাডার কূটনৈতিক কার্যালয়গুলো খোলা থাকবে বলে জানিয়েছেন জ্যঁ-পিয়েরা গডবাউট। কাকে কাকে ফিরিয়ে নেওয়া হবে, সে বিষয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

গডবাউট বলেন, কর্মীদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা রক্ষা করতে এবং ভারতে কার্যক্রম চালিয়ে যেতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেবে কানাডা।

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে কানাডার একটি হাইকমিশন রয়েছে। এ ছাড়া বেঙ্গালুরু, চণ্ডীগড় ও মুম্বাইয়ে দেশটির কনস্যুলেট রয়েছে। জ্যঁ-পিয়েরা গডবাউট বলেন, যেসব কানাডীয় কূটনীতিক ভারতে থেকে যাবেন, ভিয়েনা কনভেনশনের বাধ্যবাধকতার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দিল্লি তাদের সুরক্ষা দেবে বলে আশা প্রকাশ করছে কানাডা সরকার।

উল্লেখ্য, শিখ নেতা হরদীপ সিং নিজ্জার হত্যাকাণ্ডের পেছনে ভারতীয় গোয়েন্দাদের হাত রয়েছে বলে চলতি সপ্তাহে অভিযোগ করেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। এরপর থেকেই ভারত ও কানাডার মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। কূটনৈতিক ভাবে পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপ নেওয়া শুরু করে দুই দেশ।