এবার অপেক্ষায় থাকতে হলো না খালেদকে

পোড় খাওয়া ক্রিকেটার বুঝি তাকেই বলা যায়। সাদা পোশাকের ক্রিকেটে অভিষেক ২০১৮ সালে। তার ৫ বছর পর আজ ওয়ানডের জার্সি গায়ে জড়ালেন পেসার খালেদ আহমেদ। তবে এই সংস্করণে আর তাকে টেস্টের মতো দীর্ঘ অপেক্ষায় থাকতে হলো না। অভিষেকটা রাঙালেন উইকেটে।

ঘরের মাঠ মিরপুরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খালেদের অভিষেক হয় ২০১৮ সালে। দুই ইনিংস মিলিয়ে ৩০ ওভার বল ঘুরালেও পাননি কোনো উইকেট। পরের বছর বাংলাদেশ যায় নিউজিল্যান্ড সফরে। ২০১৯-এর ফেব্রুয়ারিতে হ্যামিল্টনে এক ইনিংসেই বল করার সুযোগ হয় তার। সেদিন তিনি করেছিলেন ৩০ ওভার, কিন্তু কঙ্খিত উইকেটের দেখা তিনি পাননি।

তারপর দল থেকেই বাদ পড়েছিলেন। এরপর আসে করোনার থাবা। বন্ধ হয়ে যায় সব। ২০২১ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর পাকিস্তান আসে বাংলাদেশ সফরে। ৪ ডিসেম্বর শুরু হওয়া ম্যাচের ৬৭ ওভারে গিয়ে পান উইকেটের দেখা। সেটাও আবার এ কালের সেরাদের একজন বাবর আজম। তাকে ফিরিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে উইকেটের সূচনা করেন খালেদ। যে উইকেটের জন্য তাকে অপেক্ষা করতে হয়েছে তিন বছর।

কিন্তু ওয়ানডের অভিষেকটা অন্যরকমই হলো তার। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খালেদ রঙিন পোশাকের প্রথম ম্যাচের প্রথম বলেই হজম করলেন চার। কিন্তু একজন বোলারের কাঙ্খিত লক্ষ্য যে উইকেট সেটার জন্য আজ তাকে বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি। চার বল পরেই ফিরিয়েছেন চ্যাড বোওসকে। তার অভিষেক ওভারের পঞ্চম বলটি কবজির মোচড়ে ঘুরিয়ে মারতে চেয়েছিলেন বোওস। তবে মিড উইকেটে দাঁড়িয়ে থাকা তৌহিদ হৃদয় ক্যাচ লুফে নেন দ্রুতই।

নিজের সপ্তম ওভারে এসে পেয়েছেন দ্বিতীয় উইকেটের দেখা। অফ স্টাম্পের বাইরের লেংথ বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন নিকোলস। অতি-আত্মবিশ্বাসী শট বলা যায়, যেটি হয়ে গেছে আলগা শট। নিকোলসকে তিনি বঞ্চিত করেছেন ফিফটি থেকে।

যে পেসারের টেস্ট অভিষেকের পর উইকেটের জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে তিন বছর, সেই খালেদই আজ অভিষেক ম্যাচে পেলেন ২ উইকেটের দেখা। যেন এক ক্রিকেটারের দুই রকম অভিষেক অভিজ্ঞতা এটা।