এশিয়ান গেমসে অংশ নিতে চীনে যাচ্ছেন বাগেরহাটের নাঈম

আসন্ন ১৯তম এশিয়ান গেমসে ভারোত্তোলন পর্বে অংশ নিতে চীনে যাচ্ছেন বাগেরহাটের শেখ নাঈম হোসেন। বাংলাদেশ থেকে যে তিনজন ভারোত্তোলন পর্বে অংশ নিতে যাচ্ছেন তাদেরই একজন নাঈম। আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর নাঈম চীনে যাবেন। এশিয়ান গেমসে বাগেরহাটের ছেলে নাঈম হোসেন ভালো কিছু করবে সেই প্রত্যাশা প্রশিক্ষক ও এলাকাবাসীর।

বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার প্রত্যন্ত সাতশৈয়া গ্রামের তরুণ জাতীয় স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত সাবেক ভারোত্তোলক প্রশিক্ষক বিশ্বাস আনিছুর রহমান বিপ্লব এক দশক আগে গড়ে তোলেন সাতশৈয়া ভারোত্তোলন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি। এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে জাতীয় স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত সাবেক খেলোয়াড় ও প্রশিক্ষক বিপ্লবের হাত ধরে গড়ে ওঠে এখনকার স্বর্ণপদক জয়ী শেখ নাঈম হোসেন। তার বাড়ি জেলার ফকিরহাট উপজেলার জাড়িয়া গ্রামে। জাতীয় পর্যায়ে একাধিকবার স্বর্ণপদক জয়ী এবং শ্রেষ্ঠ খেলোয়াড় নির্বাচিত হওয়ার রেকর্ড নাঈমের ঝুলিতে।

ফকিরহাট উপজেলার সাতশৈয়া গ্রামের কামরুল ইসলাম গোরাসহ অনেকে বলেন, বাগেরহাটের ফকিরহাটের ছেলে নাঈম ভারোত্তোলন প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে চীনে যাচ্ছেন। গ্রামের ক্লাবে সে দীর্ঘদিন ধরে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। সে দেশের হয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খেলতে যাবে এতে আমরা গর্বিত। এটি দেশ ও জেলার জন্য গর্বের ও আনন্দের।

জাতীয় দলের খেলোয়াড় বাগেরহাটের শেখ নাঈম হোসেন বলেন, চীনে হতে যাওয়া এশিয়ান গেমসের মতো বড় আসরে বাংলাদেশের হয়ে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার জন্য প্রথমে ধন্যবাদ দিচ্ছি ভারোত্তোলন ফেডারেশনকে। বাগেরহাটের মতো একটা মফস্বল শহরে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিধিদের উদ্যোগে একটি ভারোত্তোলন কেন্দ্র গড়ে উঠেছে। এজন্য অলিম্পিক ফেডারেশন এখানে ভারোত্তোলন ক্যাম্প দিয়েছে। বাংলাদেশের জাতীয় ভারোত্তোলক চ্যাম্পিয়ন, ন্যাশনাল রেকর্ড হোল্ডার, গেল ন্যাশনাল গেমসে শ্রেষ্ঠ খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছি। এশিয়ান গেমসের মতো বড় আসরে বাংলাদেশের হয়ে পদক আনা স্বপ্নের ব্যাপার। ভালো করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি, যেন একটা ভাল পারফরমেন্স করে আগের যে রেকর্ড রয়েছে তা ভাঙতে পারি।

তিনি বলেন, আমার চেষ্টা থাকবে যেন ভাল র‌্যাঙ্কিং করতে পারি। আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর চীনের উদ্দেশ্যে রওনা করব। আমি যেন দেশের হয়ে ভালো কিছু করতে পারি সেজন্য বাগেরহাটবাসীর কাছে দোয়া চাইছি। দেশের বাইরের খেলোয়াড়দের যেভাবে বড় আসরের জন্য পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রস্তুত করা হয়, তা বাংলাদেশে করা হয় না। বড় ইভেন্ট আসলে খেলোয়াড় বাছাই করে সীমিতভাবে ক্যাম্পের অধীনে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এতে অনেক ভালো করা সম্ভব না। বাইরের দেশের মতো বাংলাদেশেও যদি পারিকল্পনা মাফিক দীর্ঘ সময় নিয়ে খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা যেত তাহলে হয়ত প্রথম-দ্বিতীয়-তৃতীয় হওয়া সম্ভব হতো। আমি প্রশিক্ষণ নিয়েছি দেশের জন্য ভালো কিছু করতে পারব বলে আশা করছি।

প্রশিক্ষক বিশ্বাস আনিছুর রহমান বিপ্লব বলেন, ১৯তম এশিয়ান গেমস চীনে অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে ভারোত্তোলনে দেশের প্রতিনিধিত্ব করা জন্য শেখ নাঈম হোসেন সেভেন্টি থ্রি ক্যাটাগরিতে অংশগ্রহণ করবে। সে অনুশীলনে অনেক ভালো করেছে সে প্রতিযোগিতায় আশানুরূপ ভালো কিছু করবে। এশিয়ান গেমস একটা বড় আসর, সেখানে পদক নিশ্চিত করা কঠিন। দেশের অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন এসব বড় আসরের জন্য প্রশিক্ষণ যদি দীর্ঘমেয়াদি করে তাহলে খেলোয়াড় তৈরিতে আরও ভালো হবে। সবকিছুর পরেও নাঈম দেশের সম্মান যাতে থাকে সেজন্য প্রস্তুতি নিয়েছে। বাংলাদেশ থেকে তিনজন অংশ নিচ্ছে। এরমধ্যে নাঈম বাগেরহাটের সন্তান। নাঈম আমার ছাত্র। ২০১৪ সাল থেকে ভারোত্তোলনে প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছি। সে জাতীয় পর্যায়ে অংশ নিয়ে একাধিকবার স্বর্ণপদক অর্জন করেছে। তাকে তিলেতিলে গড়ে তুলেছি, সে দেশের জন্য ভালো কিছু বয়ে আনবে বলে আশা করছি।

জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মোহা. খালিদ হোসেন বলেন, চীনে যাওয়ার জন্য নাঈম পুরোপুরি প্রস্তুত। প্রত্যন্ত গ্রামের নাঈম এতবড় আসরে সুযোগ পেয়েছে, এটা খুবই আনন্দের। নাঈম ভালো করুক, তার জন্য শুভকামনা রইল।