কিম-পুতিনের ঘনিষ্ঠতায় অস্বস্তিতে শি?

রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার সখ্য চীনকে দুশ্চিন্তায় ফেলেছে। রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিষয়ে তাদের ঐকমত্যে পৌঁছানো শিকে ভাবাচ্ছে না। তবে তাদের সামরিক সহযোগিতা উত্তর-পূর্ব এশিয়ায় অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করবে ও চীন সীমান্তে অস্থিরতা বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হবে। লিখেছেন তৃষা বড়ুয়া  

কপালে ভাঁজ

প্রধান শত্রু যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতা চ্যালেঞ্জ করতে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং পশ্চিমাবিরোধী দুই রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। রাশিয়ার সঙ্গে তার অংশীদারত্বের কোনো সীমা নেই এমন ঘোষণা যেমন দিয়েছেন, তেমনি উত্তর কোরিয়ার প্রতি তার সমর্থনে কখনো ভাটা পড়বে না, এই অঙ্গীকারও করেছেন তিনি। তবে রাশিয়ার পূর্বাঞ্চলে প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন ও উত্তর কোরিয়ার শাসক কিম জং উনের সাম্প্রতিক বৈঠক চীনা প্রেসিডেন্টকে ভাবাচ্ছে। উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়ার সম্পর্কের উষ্ণতা দেশ দুটির চীনের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। দক্ষিণ কোরিয়ার ইয়নসেই বিশ্ববিদ্যালয়ের চায়নিজ স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক জন ডেলুরি বলেন, ‘কিম-পুতিনের ঘনিষ্ঠতা দেখে শি আনন্দে আত্মহারা হবেন, এমনটা ভাবার সুযোগ কম। এই ত্রিভুজে সবচেয়ে প্রভাবশালী দেশ চীন। উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়ার দুই নেতা চাইছেন, পারস্পরিক সম্পর্ক শক্তিশালী করার মধ্য দিয়ে বিশ্বরাজনীতির মঞ্চে তারা চীনের প্রভাবমুক্ত হয়ে নিজেদের মতো করে সিদ্ধান্ত নেবেন। তাদের এই চাওয়ার পেছনে কারণও কম নেই। ইউক্রেনে যুদ্ধ আরও তীব্র করার লক্ষ্যে উত্তর কোরিয়া থেকে রাশিয়া অস্ত্রশস্ত্র নেবে, তা সহজেই অনুমেয়। অন্যদিকে উত্তর কোরিয়া রাশিয়ার কাছ থেকে প্রযুক্তিগত সহায়তার পাশাপাশি অন্যান্য সহায়তা নিশ্চিত করার মধ্য দিয়ে তাদের পরমাণু কর্মসূচি আরও বেগবান করতে চাইবে। অধ্যাপক জন ডেলুরি বলেন, ‘এসবই চীনের নাকের ডগায় হবে কিন্তু সে কিছুই করতে পারবে না। কোনো নিয়ন্ত্রণ বা প্রভাব বেইজিং খাটাতে পারবে না।’ চীনের আশঙ্কা, রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার সহযোগিতা বৃদ্ধির ফলে তাদের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড আরও বাড়তে পারে। এসব কারণে পিয়ংইয়ং ও মস্কোর উষ্ণ সম্পর্ক বেইজিংকে স্বস্তি দিচ্ছে না। উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়ার দিক থেকে চাপে পড়তে চাইছে না চীন। প্রতিবেশী দেশগুলো যাতে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ না হয়, সেদিকেও নজর রাখতে হচ্ছে দেশটিকে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের মিত্রতা গড়ে না ওঠার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে চীন। গত মাসে উত্তর কোরিয়ার পরমাণু হুমকি ঠেকানোর জন্য ঐতিহাসিক মতভেদ ভুলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তি করে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান।

বিচ্ছিন্ন চীন

বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, রাজনীতির মঞ্চে চীন অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বর্তমানে নিজেকে অনেক বেশি শক্তিশালী অবস্থানে দাঁড় করিয়েছে। দেশটি মনে করে, গত চার দশকে তার অভাবনীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনীর শক্তিমত্তা বৃদ্ধি তাকে বিকল্প বিশ^ব্যবস্থার এক গুরুত্বপূর্ণ দেশে পরিণত করেছে, যে ব্যবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র কোনোভাবেই একক সুপারপাওয়ার থাকবে না। এ কারণে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্প্রতি উন্নয়নশীল দেশগুলোকে আরও ক্ষমতা দেওয়ার পক্ষে আহ্বান জানায়। উদ্দেশ্য, এর মধ্য দিয়ে বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো। চীন এই আহ্বান জানিয়েছে মূলত গ্লোবাল সাউথকে বিবেচনায় রেখে। গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোর মধ্যে এ মুহূর্তে সামনের সারিতে আছে ব্রাজিল, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, সৌদি আরব, দক্ষিণ আফ্রিকা ও তুরস্ক। এ ছাড়া যেসব দেশ পশ্চিমাদের ওপর নাখোশ, তাদেরও সঙ্গে রাখতে চাইছে বেইজিং। শেষ পর্যন্ত সফল হতে হলে অর্থাৎ বিশ্বব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনতে হলে চীনের আরও বড় পরিসরে সমর্থনের প্রয়োজন পড়বে। এমনকি বিশ^জুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোরও সমর্থন লাগবে তার। এক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত চীনের প্রেসিডেন্ট শিয়ের সফলতা খুব বেশি নয়। ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনে মৌন সমর্থন ও তাইওয়ানের প্রতি ক্রমবর্ধমান আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ চীনা প্রেসিডেন্ট শিকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছে। ১৯৮৯ সালে তিয়েনআনমেন গণহত্যার পর এমনটা দেখা যায়নি। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে চীন সম্প্রতি ইউক্রেন যুদ্ধের বিষয়ে রাজনৈতিক নিষ্পত্তির প্রস্তাব করেছে। যদিও তার ওই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে পশ্চিমারা, কারণ প্রস্তাবটিতে রাশিয়ার স্বার্থরক্ষারই চেষ্টা করেছে চীন।

প্রভাব হ্রাস

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ ও বারাক ওবামা প্রশাসনের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সাবেক পরিচালক পল হেনলে বলেন, ‘২০০৭ সালে উত্তর কোরিয়ার পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ আলোচনার সময় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বন্দ্ব দূরে রাখার বিষয়ে আগ্রহী ছিল চীন। আশা করা হয়েছিল, কোরীয় উপদ্বীপে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের বিষয়ে উত্তর কোরিয়ার ওপর প্রভাব বিস্তার করবে চীন যেহেতু দেশটি ছিল সে সময় উত্তর কোরিয়ার একমাত্র মিত্র। বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহায়তার ওপর বেইজিংয়ের ওপর নির্ভরশীল ছিল পিয়ংইয়ং। এখন পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ ছাড়াও জলবায়ু পরিবর্তন, সামরিক যোগাযোগ, প্রাণঘাতী মাদক ফেন্টানিলসহ অন্যান্য আরও ইস্যু নিয়ে উদ্বিগ্ন বিশ্বনেতারা। চীন এসব ইস্যু নিয়ে মাথা ঘামাতে চায় না যতক্ষণ পর্যন্ত না যুক্তরাষ্ট্র তাকে ছাড় দিচ্ছে। চীন চায়, যুক্তরাষ্ট্র যেন তার উন্নত সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে। পাশাপাশি দেশটি চায়, যুক্তরাষ্ট্র যাতে তাইওয়ানকে সমর্থন দেওয়া বন্ধ করে।’ উদ্ভূত পরিস্থিতি পিয়ংইয়ংয়ের ওপর বেইজিংয়ের প্রভাব স্বাভাবিকভাবেই হ্রাস করেছে। চলতি মাসে উত্তর কোরিয়ার শাসক কিম তিন বছরের বেশি সময় পর বিদেশ সফরে যান। তিনি চীনে যাননি, গেছেন রাশিয়ায়। চীন উদ্বিগ্ন, রাশিয়া হয়তো উত্তর কোরিয়াকে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা দেবে, যা পিয়ংইয়ংয়ের পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচিকে জোরদার করবে। এ বিষয়ে চীনের রাষ্ট্রীয় গবেষণা সংস্থা চায়নিজ অ্যাকাডেমি অব সোশ্যাল সায়েন্সেসের গবেষক সাও বিন বলেন, ‘রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা চীনের ওপর প্রভাব ফেলবে না, কিন্তু সামরিক সহযোগিতা বিশেষ করে পরমাণু অস্ত্রের বিষয়ে দেশ দুটির মধ্যে বোঝাপড়া হলে তা উত্তর-পূর্ব এশিয়ায় অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করবে এবং চীন সীমান্তে অস্থিরতা বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হবে।’

চীনের সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হলেও মাঝেমধ্যে তাদের মতপার্থক্য চরমে পৌঁছায়। ২০১৭ সালে উত্তর কোরিয়ার পরমাণু অস্ত্র ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বন্ধের লক্ষ্যে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ দেশটির ওপর নিষেধাজ্ঞা দিলে তাতে সমর্থন দেয় চীন। দেশটির ওই অবস্থানে ক্ষুব্ধ হয় পিয়ংইয়ং। ঘটনাটির মধ্য দিয়ে চীনের হীন আচরণ প্রকাশ পেয়েছে এবং দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের কথায় নাচছে, এমন অভিযোগও আনে উত্তর কোরিয়া। পরের বছর কিম বেইজিং সফর করলে চীন ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে উত্তেজনা হ্রাস পায়। ওই প্রথম শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছিল কিমের। ২০১৯ সালে তার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠকের আয়োজন করা হলে চাপে পড়ে চীন। যুক্তরাষ্ট্রের জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের গভর্মেন্ট অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স বিভাগের অধ্যাপক ভিক্টর চা বলেন, ‘স্থিতিশীলতা বজায় রাখাই চীনের কৌশলগত লক্ষ্য। তারা সমস্যা সমাধানের বিষয়ে আগ্রহী নয়।’

ঘনিষ্ঠতার কারণ

বিশ্বনেতাদের সঙ্গে নির্ধারিত বৈঠকে দেরিতে হাজির হওয়ার জন্য রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের কুখ্যাতি আছে। কিন্তু উত্তর কোরিয়ার শাসক কিমকে অভ্যর্থনা জানানোর জন্য নির্ধারিত সময়ের আধ ঘণ্টা আগেই হাজির হন পুতিন। এটা ইচ্ছাকৃত নাকি অনিচ্ছাকৃত ছিল, তা নিশ্চিতভাবে বলা না গেলেও পুতিনের এই বিরল সময়ানুবর্তিতায় বোঝা যায়, কিমের সঙ্গে আলোচনা করার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন তিনি। ইউক্রেনে পুতিন সামরিক অভিযান শুরু করার পর হাতেগোনা যে কজন বিশ্বনেতা তার পাশে আছেন, তাদের একজন কিম। পশ্চিমাদের কাছে অচ্ছুত এই দুই নেতার এখন পরস্পরকে প্রয়োজন। পুতিনের কাছে এই প্রয়োজন স্বল্পমেয়াদি। ইউক্রেনে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে তার অস্ত্র দরকার। অন্যদিকে কিমের প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি। অস্ত্র-গোলাবারুদ উন্নত করতে তার প্রযুক্তিগত সহায়তা লাগবে। এ ছাড়া মহাকাশ কর্মসূচি ও দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্যও রাশিয়ার সহযোগিতা সে চায়। দুই নেতার কেউই বৈঠকের পর অস্ত্র চুক্তি নিয়ে কিছু বলেননি। ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নির্দিষ্ট কয়েকটি সংবেদনশীল খাতে দুই দেশের সহযোগিতার বিষয়ে সমঝোতা জনসম্মুখে তুলে ধরা হবে না। এ ছাড়া কোনো যৌথ সংবাদ সম্মেলনেরও আয়োজন করা হবে না। রাশিয়ায় দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক রাষ্ট্রদূত লি জাই-চুন বলেন, ‘পুতিনের কর্মকাণ্ডে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, তিনি কিমকে অনেক গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছেন। পুতিনের দিক থেকে বিশেষ খাতির কিমকে উৎসাহ জোগাবে।’

ইউক্রেন যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় অস্ত্র ও গোলাবারুদের সংকটে পড়েছেন পুতিন। উত্তর কোরিয়ার কাছে পর্যাপ্ত গোলা ও রকেট আছে যেগুলো রুশ সামরিক ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। একসময় সামরিক খাতে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের ওপর নির্ভরশীল ছিল উত্তর কোরিয়া। এখন দেশটির কাছ থেকে সামরিক সহায়তা চাইছে রাশিয়া। রাশিয়া সফরের সময় কিম বলেছিলেন, ‘প্রেসিডেন্ট পুতিন ও রুশ সরকারের সব সিদ্ধান্তে পাশে থাকবেন তিনি। সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তারা এককাতারে দাঁড়িয়েছেন।’    রাশিয়ায় দক্ষিণ কোরিয়ার আরেক সাবেক রাষ্ট্রদূত ওয়াই সাং-লাক বলেন, ‘যে ব্যক্তি বা সত্তা যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জোটের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়, তার কাছ থেকে সুযোগ-সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করে রাশিয়া। কিম জং উনের দুর্নাম থাকলেও পুতিন তাকে উপকারী মনে করছেন। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে বিভিন্ন দেশ রুশ নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়। চলতি মাসে কিমের সঙ্গে রাশিয়া গিয়েছিলেন উত্তর কোরিয়ার দুই কর্মকর্তা, যারা জাতিসংঘের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার আওতায় আছেন। পুতিন ও কিম পশ্চিমাদের এই বার্তা দেন যে, আন্তর্জাতিক নিয়মনীতি ও নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা তারা করেন না।’

রাশিয়া সফরে পুতিনকে পিয়ংইয়ংয়ে আমন্ত্রণ জানান কিম। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়ার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আগামীতে আরও শক্তিশালী হবে। তবে রাশিয়া তার উন্নত প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি উত্তর কোরিয়াকে দেবে কিনা, তা এখনো স্পষ্ট নয়। যদি রাশিয়া দেয়ও, তাহলে তাদের পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে গোপনে কাজটি সারতে হবে। দক্ষিণ কোরিয়ার ইহোয়া ওমেন্স ইউনিভার্সিটির উত্তর কোরিয়া বিষয়ের বিশেষজ্ঞ পার্ক ওয়ান-গন বলেন, ‘ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা যদি বেশি না হতো, তাহলে পুতিন হয়তো কিমের সঙ্গে বৈঠক করার জন্য এতটা মরিয়া হতেন না। উত্তর কোরিয়া জানে, রাশিয়ার সঙ্গে তার সম্পর্কের সাম্প্রতিক অগ্রগতির পুরোটাই লেনদেনভিত্তিক। তাই রাশিয়ার কাছ থেকে যত দ্রুত খাদ্য, জ্বালানি, সারসহ অন্যান্য প্রয়োজন মেটানো যায়, সেই চেষ্টাই করবেন কিম।’