এই দিনে

২০১৬ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর মৃত্যুবরণ করেন প্রখ্যাত বাঙালি কবি ও কথাসাহিত্যিক সৈয়দ শামসুল হক। তার জন্ম ১৯৩৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর, কুড়িগ্রামে। কবিতা, উপন্যাস, নাটক, ছোটগল্প তথা সাহিত্যের সব শাখায় সাবলীল পদচারণার জন্য তাকে ‘সব্যসাচী লেখক’ বলা হয়। তিনি মাত্র ২৯ বছর বয়সে বাংলা একাডেমি পুরস্কার পান। সৈয়দ শামসুল হকের প্রথম লেখা প্রকাশিত হয় ১৯৫১ সালে ফজলে লোহানী সম্পাদিত ‘অগত্যা’ পত্রিকায়। তার শিক্ষাজীবন শুরু হয় কুড়িগ্রাম মাইনর স্কুলে। পরে ভর্তি হন কুড়িগ্রাম হাই ইংলিশ স্কুলে। ১৯৫০ সালে গণিতে লেটার মার্কস নিয়ে ম্যাট্রিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। বাবার ইচ্ছা ছিল তাকে তিনি ডাক্তারি পড়াবেন। বাবার এই দাবি এড়াতে তিনি ১৯৫১ সালে মুম্বাইয়ে পালিয়ে যান। সেখানে তিনি বছরখানেকের বেশি এক সিনেমা প্রডাকশন হাউজে সহকারী হিসেবে কাজ করেন। ১৯৫২ সালে দেশে ফিরে এসে জগন্নাথ কলেজে নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী মানবিক শাখায় ভর্তি হন। কলেজ পাসের পর ১৯৫৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে ভর্তি হন। স্নাতক পাসের আগেই ১৯৫৬ সালে পড়াশোনা অসমাপ্ত রেখেই বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে দেন। এর কিছুদিন পর তার প্রথম উপন্যাস ‘দেয়ালের দেশ’ প্রকাশিত হয়। সৈয়দ শামসুল হকের কাব্যগ্রন্থের মধ্যে ‘বৈশাখে রচিত পংক্তিমালা’, ‘পরাণের গহীন ভেতর’, ‘বৃষ্টি ও জলের কবিতা’ তাকে পাঠকপ্রিয় কবিতে পরিণত করে। তার উপন্যাসের মধ্যে ‘খেলারাম খেলে যা’ ও ‘নিষিদ্ধ লোবান’ তুমুল আলোচিত। কবিতা-গল্প-উপন্যাসের পাশাপাশি নাটকে বেশ সাফল্য পান সৈয়দ শামসুল হক। তার উল্লেখযোগ্য নাটকের মধ্যে রয়েছে ‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’, ‘নুরুলদীনের সারাজীবন’, ‘এখানে এখন’ ও ‘নারীগণ’। সাহিত্য সাধনার জন্য তিনি বহু পুরস্কার পেয়েছেন। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য বাংলা একাডেমি পুরস্কার ১৯৬৬, একুশে পদক ১৯৮৪, চিত্রনাট্য, সংলাপ রচনা ও গীতিকার হিসেবে বাংলাদেশের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ইত্যাদি।