বৃষ্টিবাদলের সময়টাতে পোকা-মাকড়ের উপদ্রব বেড়ে যায়। বিশেষ করে একটু অযতেœ কাঠের আসবাবে ঘুণ ধরে। কীভাবে যতœ নিলে আসবাব ঠিক থাকবে জেনে নিন।
সাধারণত ঘুণ ভেজা কাঠে বাসা বাঁধে। তাই কাঠের আসবাব কেনার আগে ভালো করে দেখে নিন কাঠ ভেজা বা কাঁচা আছে কি না। বাড়ির কোনো পুরনো আসবাব যদি ভিজে যায়, তা হলে কড়া রোদে শুকিয়ে নিন। লক্ষ রাখুন কোনো স্যাঁতসেঁতে জায়গায় যেন কাঠের তৈরি সামগ্রী না থাকে। এ ছাড়াও এমন অনেক কাঠ থাকে যাতে ঘুণ ধরতে পারে না। সেই ধরনের কাঠের আসবাব কেনাই শ্রেয়।
কাঠের গায়ে কোনো রকম ছিদ্র থাকলে, সেই ছিদ্র পথ দিয়ে ঘুণপোকা প্রবেশ করে। তাই কেনার সময় দেখবেন, এমন কোনো ছিদ্র যেন না থাকে। পুরনো আসবাবের গায়ে যদি কোনো প্রকার ছিদ্র দেখা যায়, তা হলেও তৎক্ষণাৎ তা মোম বা গালা জাতীয় কিছু দিয়ে বন্ধ করে দিন।
রঙ, বার্নিশ বা আলকাতরার প্রলেপ ঘুণ ধরাকে অনেকখানি আটকে দিতে পারে। তাই পেশাদার কাউকে দিয়ে কাঠের সামগ্রীতে এগুলোর প্রলেপ অবশ্যই লাগান।
কাঠের সামগ্রীকে প্রতিদিন পরিষ্কার করুন। নোংরা আসবাবে এই পোকার আক্রমণ বেশি হয়। আসবাব স্যাঁতসেঁতে রাখবেন না।
যদি আক্রমণ হয়ে যায় তাহলে বাজারে ক্লোরপাইরিফসের মতো রাসায়নিক কীটনাশক পাওয়া যায়। তা স্প্রে বোতলে পানির সঙ্গে গুলে ছিটিয়ে দিতে পারেন। স্প্রে হয়ে গেলে ছিদ্রগুলো বন্ধ করে দিন। এ ছাড়াও কেরোসিন তেলেরও ব্যবহার করতে পারেন। নিম পাতাও এক্ষেত্রে বেশ উপযোগী। ফার্নিচারে পোকামাকড়ের উপদ্রব কমাতে প্রতি ছয় মাস অন্তর নিমতেল স্প্রে করুন। নারিকেল তেলের সঙ্গে কর্পূর মিশিয়েও ব্যবহার করতে পারেন।
কোনো আসবাবে ঘুণ ধরে গেলে তা অন্য জায়গায় সরিয়ে রাখুন, যাতে অন্য আসবাবে ঘুণ ছড়িয়ে যেতে না পারে। আসবাবের একটা অংশ যদি সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গিয়ে থাকে, তাহলে পুরোটা ফেলে দেবেন না। ক্ষতিগ্রস্ত অংশটি কেটে ফেলে, সেখানে নতুন কাঠ লাগিয়ে পুনরায় ব্যবহার করতে পারেন।