‘সংসদকে কার্যকর করতে জাপার ভূমিকায় ঘাটতি ছিল’

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, ক্ষমতাসীন দলের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে সংসদীয় কার্যক্রমে একতরফা ক্ষমতা চর্চার প্রাধান্য একটি কার্যকর সংসদ প্রতিষ্ঠার অন্যতম প্রধান প্রতিবন্ধকতা। প্রধান বিরোধী দল হিসেবে জাতীয় পার্টি সংসদীয় কর্মকাণ্ডে দ্বৈত ভূমিকা পালন করেছে, সংসদকে কার্যকর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনে তাদের ঘাটতি ছিল।

রবিবার (১ অক্টোবর) টিআইবির কার্যালয়ে ‘পার্লামেন্টওয়াচ: একাদশ জাতীয় সংসদ- ১ম হতে ২২তম অধিবেশন (জানুয়ারি ২০১৯ -এপ্রিল ২০২৩)’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

টিআইবির ওই গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী চলতি একাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম থেকে ২২তম অধিবেশনে কোরাম–সংকটে যে সময় ব্যয় হয়েছে, তার প্রাক্কলিত অর্থমূল্য ৮৯ কোটি ২৮ লাখ টাকা।

টিআইবির গবেষণা প্রতিবেদনে চলতি সংসদের প্রথম থেকে ২২তম অধিবেশনের কার্যক্রম ও সংসদীয় কমিটির কার্যক্রম বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

জাতীয় সংসদের মোট সদস্য ৩৫০। ন্যূনতম ৬০ সদস্যের উপস্থিতিতে সংসদের কোরাম পূর্ণ হয়। কোরাম পূর্ণ না হলে সংসদের বৈঠক চালানো যায় না।

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রথম ২২টি অধিবেশনে কোরাম–সংকটে কেটেছে ৫৪ ঘণ্টা ৩৮ মিনিট, যা সংসদের কাজে মোট ব্যয় হওয়া সময়ের সাড়ে ৬ শতাংশ। অধিবেশন শুরুর তুলনায় বিরতি-পরবর্তী সময়ে কোরাম–সংকট বেশি দেখা গেছে। কোরাম–সংকটের কারণে ৮৪ শতাংশ কার্যদিবসে অধিবেশন দেরিতে শুরু হয়েছে। এ ক্ষেত্রে গড়ে প্রায় পাঁচ মিনিট দেরি হয়েছে। আর বিরতির পর অধিবেশন শুরু হতে শতভাগ কার্যদিবসেই দেরি হয়েছে।

কোরাম–সংকটে ব্যয় হওয়া সময়ে মিনিটপ্রতি ব্যয় প্রায় ২ লাখ ৭২ হাজার ৩৬৪ টাকা উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিদিন গড়ে কোরাম–সংকট ছিল ১৮ মিনিট। অবশ্য অষ্টম, নবম ও দশম জাতীয় সংসদের তুলনায় চলতি সংসদে কোরাম সংকট কমেছে। দশম সংসদে গড়ে ২৮ মিনিট কোরাম–সংকট ছিল। নবম সংসদে যা ছিল গড়ে ৩২ মিনিট।

টিআইবির প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি সংসদে আইন প্রণয়নের কাজে ব্যয় হয়েছে ১৭ শতাংশ সময়। একটি বিল পাসে গড়ে সময় লেগেছে ১ ঘণ্টা ১০ মিনিট। এ দুটি ক্ষেত্রেও গত তিনটি সংসদের তুলনায় উন্নতি হয়েছে। গত দশম সংসদে আইন প্রণয়নে ব্যয় হয়েছিল ১২ শতাংশ সময়। আর প্রতিটি বিল পাসে গড়ে সময় লেগেছিল ৩১ মিনিট।