রক্তদানের আগে ও পরে

অনেকেই আছেন স্বেচ্ছায় রক্তদান করেন। আবার অনেক ডোনারও আছেন। সব রক্তদাতাকেই সাধুবাদ জানানো উচিত। কিন্তু প্রত্যেক রক্তদাতারই কিছু বিষয় জানা থাকা দরকার।  রক্তদানের শুরুতেই জেনে নিতে হবে আপনি সুস্থ আছেন তো? কোনো শারীরিক সমস্যা আছে কি? 

ডায়াবেটিস : ধরুন আপনার ডায়াবেটিস আছে। আপনি ডোনার হবেনই। কোনোভাবেই আপনাকে বোঝানো যাচ্ছে না।

কারণ আপনি ইনসুলিন নেন। মুখে খাবার ওষুধ আর জীবনযাত্রায় ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকলে আপনি ডোনার হতে পারবেন। এখানে রোগীর শারীরিক নিরাপত্তা এবং ডোনারের শারীরিক নিরাপত্তা দুটোই খুব মূল্যবান।

ব্লাড প্রেশার : আবার ধরেন একজন রক্ত দিতে চান। অথচ তার উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা আছে। একাধিক ওষুধ খেয়েও নিয়ন্ত্রণে নেই। রক্ত তরলের ওষুধও খাচ্ছেন। তিনি নাছোড়বান্দা ডোনার। ওষুধ খেয়ে ব্লাড প্রেশার নিয়ন্ত্রণে থাকলে আপনি ডোনার হতে পারবেন।

যক্ষ্মা রোগ : একজনের যক্ষ্মা রোগের চিকিৎসা কেবল শেষ হলো। অথচ  আপনি তথ্য গোপন করে ডোনার হলেন। অথবা কেবল জন্ডিস থেকে সুস্থ হয়ে উঠেছেন। জানেনও না যে কোন ধরনের জন্ডিস। আপনি তথ্য গোপন করে ডোনার হলেন।  এতে করে রোগী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। আপনি হয়তো কাউকে রক্ত দিয়ে উপকার করতে চাচ্ছেন। পক্ষান্তরে অপকার করে ফেলছেন। কে কতবার ডোনার?  কত কম সময়ের ব্যবধানে ডোনার? এসব বিষয় অকপটে বলুন যদি রক্ত দিতে চান। ট্রান্সফিউশন মেডিসিন বিভাগ ডোনার এবং রোগী উভয়ের শারীরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।

রক্ত দেওয়ার আগে : আপনার জ্বর বা সর্দি, কাশি আছে কিনা। কোনো অ্যান্টিবায়োটিক বা ইনসুলিন নিচ্ছেন কিনা। হার্টের সমস্যা, হাইপার টেনশন, ক্যানসারের কোনো উপসর্গ, কিডনির অসুখ বা কোনোরকম ক্রনিক অসুখ থাকলে রক্ত দেওয়া থেকে বিরত থাকুন। ছয় মাসের মধ্যে অস্ত্রোপচার হলে রক্ত না দেওয়াই ভালো।