গাজীপুরের শ্রীপুরে নিখোঁজের পাঁচ দিন পর গজারি বন থেকে এক স্কুলছাত্রের মাথা বিচ্ছিন্ন অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বনের ভেতরে পাশাপাশি পড়ে ছিল মাথা ও বিচ্ছিন্ন দেহটি। গতকাল রবিবার বিকেলে গোসিংগা ইউনিয়নের পটকা গজারি বনের ভেতর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পাঁচ দিন আগে স্কুলছাত্র বাড়ির পাশ থেকে অপহরণে শিকার হয়েছিল বলে ভাষ্য পরিবারের।
নিহত স্কুলছাত্রের নাম রামিমুল হাসান বিজয় (১৫)। সে মাওনা শতদল কিন্ডারগার্টেন স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র ছিল এবং শ্রীপুর পৌরসভার চন্নাপাড়া গ্রামের রোমান বেপারির ছেলে।
বিজয় নিখোঁজ রয়েছে জানিয়ে তার চাচা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ছয়জনকে আটক করেছে পুলিশ।
মরদেহ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। এ ব্যাপারে আজ সোমবার বিস্তারিত জানিয়ে প্রেস ব্রিফিং করা হবে বলে জানিয়েছেন গাজীপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) আজমীর হোসেন।
নিহতের স্বজনরা বলছেন, গত মঙ্গলবার থেকে বিজয়ের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। স্বজনদের বাড়িতে খোঁজ করেও পাওয়া না যাওয়ায় শ্রীপুর থানায় জিডি করা হয়। পরে অপরিচিত মোবাইল ফোন নম্বর থেকে কল করে জানানো হয় বিজয়কে অপহরণ করা হয়েছে। এ সময় অপহরণকারীরা ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। স্বজনরা বলছেন, তারা মুক্তিপণের টাকাও জোগাড় করেছিলেন বিজয়কে জীবিত উদ্ধারের আশায়। কিন্তু গতকাল গজারি বনে মিলল তার অর্ধগলিত মাথা বিচ্ছিন্ন মরদেহ।
পুলিশ জানায়, বিজয় নিখোঁজের জিডি হওয়ার পরপরই পুলিশের একাধিক দল তাকে জীবিত উদ্ধারে মাঠে নামে। তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রথমে নেত্রকোনা থেকে একজনকে আটক করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও একজনকে আটক করা হয়। দুজনের মিলিত তথ্যের ভিত্তিতে নিহতের এক স্বজনকেও আটক করা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নিহতের এক স্বজন জানান, অপহরণের কাজে ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি (সিম) নিহত স্কুলছাত্র বিজয়ের বাবার নামে রেজিস্ট্রেশন করা। এ ঘটনায় নিহতের চাচা জড়িত বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, পুলিশ দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করলে নিখোঁজ বিজয়কে জীবিত উদ্ধার করা যেত। পুলিশ ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে।
শ্রীপুর মডেল থানার ওসি আবুল ফজল মোহাম্মদ নাসিম বলেন, এলাকাবাসীর কাছ থেকে খবর পেয়ে গজারি বনের ভেতর থেকে নিখোঁজ স্কুলছাত্রের মাথা বিচ্ছিন্ন মরদেহ উদ্ধার করা হয়।