বসিলায় সশস্ত্র মহড়া দিয়ে ছিনতাই, গ্রেপ্তার ৯

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বসিলা গার্ডেন সিটি হাউজিং এলাকায় প্রায় অর্ধশত কিশোর ও তরুণের সশস্ত্র মহড়া এবং গণহারে ছিনতাইয়ের ঘটনায় নয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত শনিবার রাত থেকে বিভিন্ন সময়ে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয় বলে গতকাল রবিবার রাতে জানিয়েছে পুলিশ। আটকদের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ বলছে, গত ২৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ৩০-৩৫ জনকে বিভিন্ন ধারালো অস্ত্র নিয়ে তুরাগ নদীর তীরবর্তী ওয়াকওয়ের দিকে যেতে দেখা যায়। গ্রেপ্তার আসামিরা জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, পূর্ব শত্রুতার জেরে তাদের প্রতিপক্ষ একজনকে মারার জন্য তারা ঢাকা উদ্যানের দিকে যাচ্ছিল। যাওয়ার পথে তাদের কয়েকজন ওয়াকওয়েতে থাকা পথচারীদের মারধর ও ভয় দেখিয়ে তাদের মোবাইল ফোন, নগদ টাকা ও অন্যান্য জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেয় এবং ফেরার পথে কয়েকটি দোকানে ভাঙচুর চালায়। একটি মোটরসাইকেল এই কিশোর গ্যাংকে দেখে উল্টো ঘুরিয়ে চলে যেতে চাইলে তাকে দৌড়ে ধরে রামদা দিয়ে কোপ দিতে দেখা গেছে।

এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বসিলা গার্ডেন হাউজিং এলাকায় প্রায়ই ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। তবে গত শুক্রবার সন্ধ্যার ঘটনাটি অভূতপূর্ব। তারা হতভম্ব হয়ে গিয়েছিলেন। ৩০-৪০ জনের দলটি অস্ত্র হাতে বসিলা বাজারের সামনে থেকে ছিনতাই শুরু করে। মহড়া ও ছিনতাই শেষ হয় অন্তত দুই কিলোমিটার দূরে চন্দ্রিমা হাউজিং এলাকায়। এর মধ্যে পথচারী, নদীর পাশের ওয়াকওয়েতে হাঁটতে আসা দর্শনার্থীদের মোবাইল ফোন ও টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। কেউ মোবাইল বা মানিব্যাগ দিতে রাজি না হলে তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। তবে ঘটনার সময় পুলিশ তেমন কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। ছিনতাইয়ের সময় জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করেও তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশের সহায়তা মেলেনি। প্রায় চার ঘণ্টা পর পুলিশের একটি টহল গাড়ি এলেও এ ঘটনায় তারা কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

হামলার শিকার নুসরাত আফরিন বলেন, ‘আমি বাসার পাশে ওয়াকওয়েতে হাঁটতে যাই। হঠাৎ কয়েকটা ছেলে এসে ঘিরে ধরে। গলায় অস্ত্র ধরে বলে, মোবাইল ফোন আর টাকা দিতে। পরে একজন আমার ব্যাগ খুলে মোবাইল নিয়ে যায়। কিন্তু টাকা না থাকায় আমার শরীরে তল্লাশি করার চেষ্টা করে। এর মধ্যে আমার পা ও পিঠে অনেক আঘাত করে।’

পুলিশের সহযোগিতা পাননি অভিযোগ করে আফরিন বলেন, ‘থানায় গিয়ে ঘটনা খুলে বলার পরও আমাকে দীর্ঘ সময় বসিয়ে রাখে। পরে একটা কাগজে অভিযোগ লিখে নেয়। কিন্তু সেটা জিডি না অভিযোগ আমি বুঝতে পারছি না।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মোহাম্মদপুর জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) আজিজুল হক বলেন, ‘এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। এ ছাড়া হেফাজতে নেওয়াদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের গ্রেপ্তারে কয়েকটি টিম কাজ করছে।’

র‌্যাব-২-এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (এএসপি) শিহাব করিম বলেন, ‘ওই ঘটনার পর মোহাম্মদপুর এলাকা নজরদারিতে রাখা হয়েছে। বেশ কিছু ছিনতাইকারীকে আটক করা হয়েছে। আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’