‘সবুজ সংকেতের’ অপেক্ষায় চট্টগ্রামে বিএনপির বহিষ্কৃত নেতারা

‘সবুজ সংকেতের’ অপেক্ষায় রয়েছেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির বহিষ্কৃত চার নেতা। যেকোনো মুহূর্তে দলে আবার ডাক পড়তে পারে তাদের। চলমান ‘এক দফার’ আন্দোলন ত্বরান্বিত করতে এবং দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দলকে সুসংগঠিত করতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে দলীয় সূত্র। বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের অপেক্ষায় থাকা নেতারা হলেন, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আব্বাস, সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শেখ মহিউদ্দিন, জেলা আহ্বায়ক কমিটির সাবেক সদস্য লিয়াকত আলী ও আনোয়ারা উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব লায়ন হেলাল উদ্দিন। তা এদের মধ্যে প্রথম তিনজনকে পৌনে তিন বছর আগে এবং অন্য জনকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে এক বছর বহিষ্কার করা হয়।

দলীয় সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আওতাধীন বিভিন্ন উপজেলা ও পৌরসভায় পাল্টাপাল্টি কমিটি গঠনের জের ধরে ২০২১ সালের জানুয়ারিতে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আব্বাস, সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শেখ মহিউদ্দিন, জেলা আহ্বায়ক কমিটির সাবেক সদস্য লিয়াকত আলীকে বহিষ্কার করা হয়। আনোয়ারা উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব লায়ন হেলাল উদ্দিনকে বহিষ্কার করা হয় গত বছর ১৮ অক্টোবর।

এর আগে ১৫ অক্টোবর দক্ষিণ জেলা বিএনপি কার্যালয় থেকে প্রতিনিধি সভা শেষে বের হওয়ার সময় আনোয়ারা উপজেলা বিএনপি নেতা হুমায়ুন কবির আনসারের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় লায়ন হেলাল ছাড়াও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্য সচিব গাজী ফোরকান, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি জিয়াউল হক জিয়া, ছাত্রদল নেতা মো. হাসান ও ইসমাইল বিন মনিরকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়। বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের জন্য এসব নেতারা দীর্ঘদিন ধরে নানাভাবে তদবির চালিয়ে এলেও ইতিবাচক কোনো ফল আসেনি। সম্প্রতি তা এদের নেতৃত্বে কয়েকশ নেতাকর্মী দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক গাজী শাহজাহান জুয়েলের বাসায় গিয়ে বৈঠক করেন। এ বৈঠকের পর দলের অভ্যন্তরীণ গ্রুপিং ফের চাঙ্গা হওয়ার আভাস মেলে। জানতে চাইলে বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শামীম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে দল যেকোনো সময় যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারে। শৃঙ্খলা ভঙ্গের জন্য কাউকে বহিষ্কার যেমন করতে পারে তেমনি তা প্রত্যাহারও করতে পারে। এটা সম্পূর্ণ সাংগঠনিক বিষয়।’ তবে দক্ষিণ জেলা বিএনপির বহিষ্কৃত নেতাদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার হচ্ছে কি না এ ব্যাপারে তিনি অবগত নন বলে জানান। পৌনে তিন বছর আগে বহিষ্কৃত দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক আলী আব্বাস দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা জাতীয়তাবাদী দলের কর্মী।

দল থেকে বহিষ্কার করলেও আমরা আদর্শচ্যুত হইনি। আমাদের অবস্থান থেকে দলের জন্য যা করার সুযোগ আগে তা করে যাচ্ছি। কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে আমরা নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে আসছি। আশা করি, খুব শিগগিরই আমাদের বিষয়ে কেন্দ্র ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেবে।’ দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে গত ২১ মে চট্টগ্রাম নগর মহিলা দলের চার নেত্রীকে বহিষ্কার করা হয় কেন্দ্র থেকে। তারা হলেন, নগর মহিলা দলের সাবেক সভাপতি ফাতেমা বাদশা, সাবেক সহসভাপতি জেসমিনা খানম ও আঁখি সুলতানা এবং সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক দেওয়ান মাহমুদা লিটা। গত ২৬ সেপ্টেম্বর তাদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।