কবিরাজ সেজে ডাকাতি, টাকা কম পেয়ে বাসার সবাইকে খুন

বাসা লুট করার সময় টাকা কম পাওয়ায় ঢাকার আশুলিয়ায় একই পরিবারের তিনজনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তার এক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। গ্রেপ্তার দুজনের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে র‌্যাব বলছে, কবিরাজ সেজে ওই বাসায় গিয়েছিলেন তারা। চিকিৎসার নাম করে সেখানে পরিবারের সবাইকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করার পর লুটপাট চালানো হয়।

গ্রেপ্তার দুজন হলেন সাগর আলী (৩১) ও তার স্ত্রী ইশিতা বেগম (২৫)। গতকাল সোমবার রাতে গাজীপুরের শফিপুর এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

সাগর ও ইশিতাকে গ্রেপ্তারের পর আজ মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‍্যাবের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেখানে আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

তিনি বলেন, সাড়ে তিন বছর কারাগারে থাকার পর চলতি বছরের জুনে জামিনে মুক্তি পান সাগর। এর চার মাসের মাথায় এক পরিবারের তিনজনকে খুনের ঘটনা ঘটালেন তিনি।

এর আগে ২০২০ সালে টাঙ্গাইলের মধুপুরে একই কৌশলে একই পরিবারের চারজনকে খুন করা হয়। ওই ঘটনায় সাগর জড়িত ছিলেন। সে সময় র‌্যাব-১২-এর সদস্যরা তাকে গ্রেপ্তার করেন। মাত্র ২০০ টাকার জন্য সাগর ওই খুন করেছিলেন বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, কবিরাজ সেজে আশুলিয়ায় ভুক্তভোগীদের বাসায় গিয়েছিলেন সাগর ও ইশিতা। চিকিৎসার নাম করে পরিবারের সবাইকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করেন তারা। পরে বাসায় লুট করতে গিয়ে মাত্র পাঁচ হাজার টাকা পান এই দম্পতি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তিনজনকে খুন করেন।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর আশুলিয়ার জামগড়া এলাকার একটি বাড়ির চতুর্থ তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে বাবুল হোসেন (৫০), শাহিদা বেগম (৪০) ও তাদের ছেলে মেহেদী হাসান জয়ের (১২) অর্ধগলিত গলাকাটা লাশ উদ্ধার করা হয়। বাবুল ও শাহিদা পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন। তাদের ছেলে মেহেদী হাসান স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ত।

বাবুলের গ্রামের বাড়ি ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার গরুড়া (ফুলবাড়ী) গ্রামে। তার বাবার নাম মৃত সইর উদ্দিন।

র‌্যাব জানায়, গত ২৮ সেপ্টেম্বর বাবুল হোসেন সাভারের বারইপাড়া এলাকায় একটি কবিরাজি ও ভেষজ ওষুধের দোকানে গিয়ে শারীরিক সমস্যা নিয়ে কথা বলেন। এ সময় সাগর পাশের একটি দোকানে চা খাচ্ছিলেন। সাগরের সঙ্গে কবিরাজের কথোপকথন শুনে জানতে পারেন, চিকিৎসায় ১৫-২০ হাজার টাকা খরচ করেও কোনো ফল পাননি বাবুল। পরে কৌশলে বাবুলকে ডেকে নিয়ে কথা বলেন সাগর। কথা বলে সাগর বুঝতে পারেন, ভেষজ চিকিৎসার ওপর আস্থা আছে বাবুলের। তখন সাগর জানান, তার (সাগর) স্ত্রী একজন ভালো কবিরাজ। বাবুলের সমস্যার সমাধান করে দিতে পারবেন। একপর্যায়ে চিকিৎসার জন্য বাবুলের সঙ্গে সাগর ৯০ হাজার টাকার চুক্তি করেন। ওই দিন রাতেই স্ত্রীকে নিয়ে বাবুলের বাসায় যান সাগর।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, মৌখিক ওই চুক্তির পর সাগর তার স্ত্রীকে বিষয়টি জানান। তারা পরিকল্পনা করেন বাবুলের বাসায় গিয়ে ভেষজ ও কবিরাজি চিকিৎসার কথা বলে পরিবারের সবাইকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করবেন। এরপর বাসায় থাকা টাকাপয়সা ও মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করবেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী সাগর গাজীপুরের মৌচাক এলাকার একটি ওষুধের দোকান থেকে এক বাক্স (৫০টি) ঘুমের ওষুধ কেনেন।

তিনি বলেন, শরবতের সঙ্গে ওই ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে ভেষজ ওষুধ বলে পরিবারের সবাইকে খাইয়ে দেন সাগর ও ইশিতা। এতে তিনজনই অচেতন হয়ে পড়েন। এরপর সবার হাত-পা বেঁধে ফেলেন। বাসায় লুটপাট শুরু করেন। কিন্তু মাত্র পাঁচ হাজার টাকা খুঁজে পান তারা। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে তিনজনকে বটি দিয়ে কুপিয়ে খুন করেন এই দম্পতি। খুনের পর তারা আত্মগোপনে চলে যান।