বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, আমরা এতদিন অহিংস আন্দোলন করেছি। কিন্তু এখন যেটা দেখতে পাচ্ছি তারা খালেদা জিয়াকে বন্দি করে নেতাকর্মীদের ওপর হামলা-মামলা করছে। আমরা এখনো সহিংসতার দিকে যাইনি; প্রতিবাদ করছি শান্তিপূর্ণভাবে। কিন্তু আগের মতো গ্রেপ্তার, গুম-খুন, বানোয়াট মামলা যদি বন্ধ না করেন, তাহলে প্রতিবাদ নয়, প্রতিরোধ করা হবে।
বৃহস্পতিবার ফেনী জেলা বিএনপি আয়োজিত পথসভায় প্রধান বক্তা হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনার বিপক্ষে বাংলাদেশের মানুষ জেগে উঠে আজ শান্তিপূর্ণভাবে রাজপথ দখল করেছে। এই অহিংস আন্দোলন প্রতিটি গ্রামে ছড়িয়ে দিতে হবে। এই আন্দোলন ১৮ কোটি মানুষের মুক্তির আন্দোলন। শ্লোগান একটাই সবাই মিলে মারো টান, রাজা হবে খান খান।
এ সময় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বিগত ১৫ বছরে সরকার মানুষের ভোটের অধিকারসহ সমস্ত অধিকার কেড়ে নিয়েছে। তাই এবার হাসিনার অধীনে কোনো নির্বাচন করতে দেওয়া হবে না। তলে তলে সমঝোতার কোনো সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, সংসদ ভেঙে দিয়ে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন দিতে হবে। আজ সারা দেশে আওয়াজ উঠেছে, এক দফা এক দাবি হাসিনা তুই কবে যাবি। এই পরিস্থিতি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ভয়ে ভয়ে কাঁপছে, তাই তাদের দলের সাধারণ সম্পাদক অভয় দিচ্ছেন; ভয়ের কিছু নেই, তলে তলে সমঝোতা হয়েছে। কথা পরিষ্কার আজ ডান, বাম সবাই এক হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্রের মা আপোষহীন নেত্রী ফেনীর মেয়ে খালেদা জিয়া আজ হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। বর্তমানে সারাদেশে খুন, গুম ও লুটের রাজত্ব চলছে। দেশের মানুষ এ অবস্থা হতে পরিত্রাণ চাই। তাই রাজপথে নেমে এসেছে। আমরা জনগণের ক্ষমতা জনগণের কাছে তুলে দিতে চাই।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, আজকেও ওবায়দুল কাদেরের বাড়ির সামনে বিএনপি নেতাকর্মীদের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। এই সন্ত্রাস করে তারা ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়। এ আন্দোলনে ৬৭৫ জন গুম হয়েছে, ২৮ জন প্রাণ হারিয়েছে। তাদের পরিবার এখনো ফেরার অপেক্ষায় বসে আছে।
বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, জনগণের অবস্থান সরকারের বিপক্ষে। তারা আজ রোড মার্চে রাস্তায় নেমে এসেছে। দেশকে ও দেশের গণতন্ত্র রক্ষায় আরেকবার লড়াই করতে হবে এবং সরকারের পতন ঘটিয়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে।