খুলনায় ইমন হত্যাকান্ডে অস্ত্র-গুলিসহ গ্রেপ্তার ৫

খুলনায় রংমিস্ত্রি মো. ইমন শেখ হত্যা মামলায় অস্ত্র ও গুলিসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার রাতভর নগরীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন নগরীর শেখপাড়া লোহাপট্টি এলাকার সিরাজুল ইসলামের ছেলে নাজমুল সাকিব জাকারিয়া (২৮), একই এলাকার শাহাজাহান মিয়ার ছেলে মো. রিয়াজ (৩২), শেখপাড়া স্টার সিনেমা হলের গলির ভাড়াটিয়া আব্দুল হাই পাটোয়ারীর ছেলে বুলু পাটোয়ারী (৩৫), রেলওয়ে কলোনির সবুজ হাওলাদারের ছেলে আকাশ হাওলাদার (২০) ও হোটেল টাইগার গার্ডেনের পেছনের গলির বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম খাঁর ছেলে আপন খাঁ (২২)।

গতকাল শুক্রবার দুপুরে সোনাডাঙ্গা থানা প্রাঙ্গণে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) উপকমিশনার (দক্ষিণ) মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। এদিকে, ইমন শেখ হত্যাকান্ডের মাস্টারমাইন্ড দুজন এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ব্রিফিংয়ে উপকমিশনার (দক্ষিণ) তাজুল ইসলাম বলেন, গত বৃহস্পতিবার নগরীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে হত্যাকা-ের সঙ্গে জড়িত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের একজনের কাছ থেকে একটি কালো রঙের ওয়ান শুটার গান ও এক রাউন্ড পিস্তলের গুলি উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, যে অস্ত্রটি উদ্ধার করা হয়েছে, সেটি দিয়েই এ হত্যাকা- ঘটতে পারে।

তিনি বলেন, এখনো হত্যাকান্ডের ক্লু উদঘাটন করা সম্ভব হয়নি। তবে হত্যাকান্ডের মাস্টারমাইন্ড মামলার এক ও দুই নম্বর আসামি সৌরভ ও সৈকতকে গ্রেপ্তার করা গেলেই এ হত্যাকান্ডের কারণ উদঘাটন করা সম্ভব হবে। ওই দুই আসামির মধ্যে সৌরভ হচ্ছে মূল শুটার। তাদেরসহ বাকি আসমিদের গ্রেপ্তারের জোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, গ্রেপ্তার আসামিদের রিমান্ডে নিয়ে হত্যাকান্ডের ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এদের কাছ থেকেও হত্যাকান্ডের ক্লু জানা সম্ভব হবে।

সংবাদ সম্মেলনে কেএমপির সহকারী পুলিশ কমিশনার (সোনাডাঙ্গা জোন) মো. আবু নাসের আল-আমিন, সোনাডাঙ্গা থানার ওসি মমতাজুল হকসহ পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মোটরসাইকেলে করে ২০ থেকে ২১ জন সন্ত্রাসী নগরীর সোনাডাঙ্গা থানার গোবরচাকা গাবতলা মোড় ভাজাওয়ালার গলির তালুকদার লেনের মোহাম্মদ খাঁর বাড়ির সামনে এসে এলোপাতাড়ি গুলি করে। এ সময় ইমন শেখের (২২) বুকের বাম পাঁজরের নিচে গুলি লাগে। এতে ঘটনাস্থলেই সে লুটিয়ে পড়েন। স্থানীয়রা আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সোয়া ৮টার দিকে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহত ইমনের পিতা মো. সানোয়ার হোসেন বাদী হয়ে সোনাডাঙ্গা থানায় ১৭ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন।