দু’দিনের টানা বর্ষণে তীব্র জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগে পড়েছেন সিলেট নগরবাসী। নগরীর অনেক সড়কে হাঁটু থেকে কোমর পর্যন্ত পানি জমেছে। বাসা-বাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি স্থাপনায় পানি ঢুকে পড়ায় লোকজনকে দুর্ভোগ পড়েছে। বাসায়-দোকানে পানি ঢুকে মূল্যবান জিনিসপত্র ভিজে নষ্ট হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার রাতের প্রবল বর্ষণে শনিবার (৭ অক্টোবর) সকালে নগরীর বাগবাড়ি, এমএজি ওসমানী মেডিকেলে কলেজ হাসপাতাল এলাকা, কাজলশাহ, সুবিদবাজার, শাহজালাল উপশহর, সাদাটিকর, দরগামহল্লা, কালিঘাট, লালা দিঘিরপাড়, মাছুদিঘিরপাড়, বাদামবাগিচা, পীরমহল্লা, কেওয়াপাড়া, পায়রা, কুয়ারপাড়, যতরপুর, শিবগঞ্জ, মাছিমপুর, কামালগড়, দক্ষিণ সুরমার পিরোজপুর, সিলেট রেলওয়ে স্টেশন এলাকার সড়ক, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বাসাবাড়ি জলাবদ্ধ ছিল। ভুক্তভোগীরা জানান, বৃষ্টি হলেই তাদের বাসা, দোকানের জিনিসপত্র ভিজে নষ্ট হয়। সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষের অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে এই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে বলে তারা দাবি তাদের।
সিলেট সিটি করপোরেশনের ৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফরহাদ চৌধুরী শামীম বলেন, ‘আমার নিজের বাসাও জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। নিচতলায় পানি থৈ থৈ করছে। অনেক আসবাবপত্র ভিজে নষ্ট হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘পানি নিষ্কাশনের খাল-নালা যথাসময়ে পরিষ্কার করার পরও জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে।’ সুরমা নদী খনন না করলে এই ভোগান্তি দূর হবে না বলে তিনি দাবি করেন।’
সিলেট আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ শাহ মো. সজিব হোসাইন জানান, শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে শনিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ৩৫৭ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এছাড়া শনিবার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বৃষ্টি হয়েছে ১০৭ মিলিমিটার।
নগরীর জলাবদ্ধতা বিষয়ে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান বলেন, ‘ভারি বৃষ্টির কারণে নগরের নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। বৃষ্টি কমলে পানি নেমে যাবে। এছাড়াও নগরের কিছু এলাকার ড্রেন ও নালাতে পলিথিন ও ময়লা-আবর্জনার কারণে পানি প্রবাহ বিঘ্নিত হচ্ছে। নিয়মিত পরিষ্কার করার পরও লোকজন ড্রেনে ময়লা-আবর্জনা ফেলেন। এ ব্যাপারে সচেতন ও দায়িত্বশীল হতে হবে।’
এদিকে ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে সিলেট সদর উপজেলার খাদিমনগর চা বাগান এলাকায় টিলা ধসে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত শুক্রবার রাতে খাদিমনগর চা বাগানের বস্তি লাইন এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত শিশু ওই এলাকার বুলবুল ছত্রীর মেয়ে অর্চনা ছত্রী (১১)। এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এয়ারপোর্ট থানার ওসি মঈন উদ্দিন।
খাদিমনগর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আতাউর রহমান শামীম জানান, অর্চনাদের ঘরটি ছিল একটি টিলার পাদদেশে। শুক্রবার রাতের ভারি বৃষ্টিতে টিলা ধসে রাত সাড়ে ৩টার দিকে তাদের ঘরের উপর পড়লে অর্চনা নামের শিশুটি ঘটনাস্থলেই মারা যায়। আজ শনিবার সকালে সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
সিলেট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাছরীন আক্তার জানান, নিহত অর্চনার পরিবারকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষনিক কিছু আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া টিলার পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের অন্যত্র সরে যাওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।