ধর্ষণ ও গর্ভপাত করানোর ঘটনায় বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সহ সভাপতি শাহজাহান ভূইয়া শামীমকে গ্রেপ্তার করেছে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ। রবিবার রাজধানীর মিরপুর ৬০ ফিট এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ডিএমপির তেঁজগাও বিভাগের সহকারী কমিশনার আজিজুল হক দেশ রূপান্তরকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও তিনি সাবেক ছাত্রলীগের নেতা কিনা সেটি জানেন না বলে জানান।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ সেপ্টেম্বর এক নারী ধর্ষণ ও গর্ভপাত করানোর অভিযোগে মামলা করেন। এই মামলায় শামীমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ফেসবুকে শামীমের সঙ্গে পরিচয় হয়। আইইএলটিএস এ কোচিংয়ে ভর্তিতে সহায়তা করবে বলে ওই নারীকে ঢাকায় নিয়ে আসে শামীম। ঢাকা উদ্যানের একটি সাবলেটে তাকে উঠানো হয়। ফ্ল্যাটের অন্য বাসিন্দাদের কাছে ভুক্তভোগীকে স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দিতেন শামীম। এ নিয়ে বিব্রত ছিলেন ভুক্তভোগী নারী। গত জুন মাসের ১৫ তারিখ ওই বাসায় যায় শামীম। ভুক্তভোগীর সঙ্গে পড়াশুনা নিয়ে কথা বলার এক পর্যায়ে জোর করে ধর্ষণ করে। পরবর্তীতে ওই নারীকে বিয়ের আশ্বাস দেন শামীম। এই ঘটনার পরও ওই বাসায় যাওয়া আসা ছিল শামীমের। স্বামী-স্ত্রীর মতো মেলামেশা করছিল তারা। এরই মধ্যে ওই নারী জানতে পারেন তিনি সন্তানসম্ভবা। এই কথা জানানো পর বাচ্চা নষ্ট করার জন্য বলেন শামীম। অবৈধ বাচ্চা রাখার দরকার নেই বলে গর্ভের সন্তান নষ্ট করা হয়। এরপর থেকে ওই নারীর সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন শামীম। কোনোভাবে যোগাযোগ করতে না পেরে মোহাম্মদপুর থানায় ২৮ সেপ্টেম্বর মামলা করেন ওই নারী। পরে শামিমকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, শামীম সাবেক ছাত্রলীগের নেতা। পড়াশুনা করেছে ঢাকা কলেজে। তিনি ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের সর্বশেষ আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের উপ-কর্মসংস্থান বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন।