ময়মনসিংহের নান্দাইলে নির্বাচনী ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দু’পক্ষের সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। সোমবার (৯ অক্টোবর) উপজেলা পরিষদ হল রুমে যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্রলীগের ৩ শতাধিক নেতাকর্মীদের সমন্বয়ে নির্বাচনী ওরিয়েন্টেশন কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসাবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক কবির বিন আনোয়ারের। অনুষ্ঠানের উদ্বোধক ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আবেদীন খান তুহিন।
আহতদের নান্দাইল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া গুরুতর আহত ৮জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে নান্দাইল উপজেলা সদরে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
জানা যায়, অনুষ্ঠান শুরুর কিছুক্ষণ আগে উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী হল রুমের সামনে অবস্থান নেন। একপর্যায়ে এমপি গ্রুপের নেতাকর্মীদের সঙ্গে উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের কথা কাটাকাটি হয়। এ নিয়ে উভয় গ্রুপের মধ্যে দুই ঘণ্টাব্যাপী ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া অব্যাহত থাকে। এতে ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ হাইওয়ে রোডে যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গৌরিপুর সার্কেল মোহাম্মদ সুমন মিয়ার নেতৃত্বে নান্দাইল মডেল থানা ও হাইওয়ে থানার পুলিশ টিয়ার শেল গ্যাস নিক্ষেপ করে সংঘর্ষকারীদের ছত্রভঙ্গ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশের টিয়ার শেল গ্যাসে নিক্ষেপে নান্দাইল পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের ৫ জন ছাত্রী আহত হয়েছে। এসময় উত্তেজিত দুই পক্ষের নেতাকর্মীরা হলরুমের সামনে থাকা মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছে বলে দাবি করেন তারা ।
নান্দাইল উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম শাহান জানান, দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে ওরিয়েন্টেশন হবে অথচ উপজেলা আওয়ামী লীগকে অবহিত করা হয়নি। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অবহিত করা হয়নি কেন জানতে আমরা সেখানে সমবেত হই। এসময় এমপি তুহিনের লোকজন আমাদের উপর হামলা চালায়।
অপরদিকে নান্দাইল উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের সদস্য আবু বক্কর সিদ্দিক বাহার জানান, দলীয় নেতাকর্মীদের অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন করে ওরিয়েন্টেশনে অংশগ্রহণ করতে হয়। তিনি এ হামলার জন্য উপজেলা আওয়ামী লীগকে দায়ী করেন।
নান্দাইল সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুমন মিয়া বলেন, দুই পক্ষের মাঝে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার সাথে সাথে পুলিশ দুই রাউন্ড টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এখন পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আছে। এই ঘটনায় ৪/৫ জন আহত হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।