বাংলাদেশ লেদার ফুটওয়্যার অ্যান্ড লেদারগুডস ইন্টারন্যাশনাল সোর্সিং শো (ব্লিস-২০২৩)-এর ৪র্থ সংস্করণ শুভ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
আগামী বৃহস্পতিবার বিকাল ৪ টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রদর্শনীর উদ্বোধন করবেন। লেদারগুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এলএফএমইএবি) এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে চামড়াজাত পণ্য ও পাদুকা শিল্পখাতের এই বৃহত্তম আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীটির আয়োজন হচ্ছে।
ব্লিস-২০২৩ এর অন্যতম লক্ষ্য হলো বাংলাদেশকে বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনে চামড়াজাত পণ্য ও পাদুকা খাতের বিশ্বের অন্যতম সম্ভাবনাময় ও অঙ্গীকারবদ্ধ সোর্সিং হাব হিসেবে তুলে ধরা। এটি ক্রেতা, ব্র্যান্ড এবং সোর্সিং প্রতিনিধিদের সাথে বাংলাদেশের চামড়াজাত পণ্য, পাদুকা প্রস্তুতকারক, রপ্তানিকারক এবং সহযোগী শিল্পের মাঝে সেতুবন্ধন সৃষ্টি করে জাতীয় রপ্তানি সম্প্রসারণে অবদান রাখবে। ব্লিস-২০২৩ এর এবারের থিম্যাটিক ট্যাগলাইন হলো: ‘Possible.In Bangladesh’।
বাণিজ্য মন্ত্রী টিপু মুনশি গত সোমবার (৯ অক্টোবর) প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও ঢাকা হোটেলে আয়োজিত এক প্রেস কনফারেন্সে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এ ঘোষণা প্রদান করেন। উক্ত প্রেস কনফারেন্সের সভাপতিত্ব করেন জনাব সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর, প্রেসিডেন্ট, এলএফএমইএবি ও ব্লিস-২০২৩ ওয়ার্কিং কমিটির আহ্বায়ক।
উক্ত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে জনাব মোহাম্মাদ সায়ফুল ইসলাম, এলএফএমইএবি এর সম্মানিত উপদেষ্টা ও প্রেসিডেন্ট, মেট্রোপলিটন চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (এমসিসিআই), এবং জেমস হো; পরিচালক, এলএফএমইএবি ও উদ্যোক্তা এবং প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, গোল্ডেন চ্যাঙ সুজ (বিডি) লিমিটেড বিশেষ বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও উক্ত প্রেস কনফারেন্সে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (রপ্তানি), মো. আবদুর রহিম খান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা গণ ও এলএফএমইএবি-এর নির্বাহী কমিটির সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত দেশে পরিণত করার অভীষ্ট লক্ষ্যে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি আয়কারী চামড়া, চামড়াজাত পণ্য ও পাদুকা শিল্পখাত এ রূপকল্পটি বাস্তবে পরিণত করার অগ্রযাত্রার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। রপ্তানিমুখী প্রবৃদ্ধি সুসংহতকরণ এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণের লক্ষ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বিদেশী ক্রেতা-ব্র্যান্ডস ও বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে উদ্ভাবনী নীতি প্রনয়ন ও ব্যবসাবান্ধব নীতি সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে বলে তিনি যোগ করেন।
তিনি আরো বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় স্থানীয় পণ্যগুলোর আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিং ও বিপণনে সুনিদৃষ্ট প্রকল্প বাস্তবায়নসহ সময়োপযোগী নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। এ প্রেক্ষিতে, আন্তর্জাতিক এ সোর্সিং প্রদর্শনীটি বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের চামড়াজাত পণ্য ও পাদুকা শিল্পখাতের সুনিপন দক্ষতা এবং সম্ভাবনা প্রদর্শনের একটি চমৎকার সুযোগ হিসেবে আবির্ভুত হবে বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর বলেন, করোনা মহামারী পরবর্তী সময়ে বিশ্ববাণিজ্য বড় পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে, যেখানে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড এবং সোর্সিং প্রতিষ্ঠানসমূহ বিকল্প পরিকল্পনা ও নতুন সম্ভাবনাময় দেশগুলোর দিকে ধাবিত হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে এ আন্তর্জাতিক সোর্সিং শো নতুন ক্রেতা ও ব্রান্ডসমূহ যারা চীন, ভিয়েতনামের বিকল্প হিসেবে বাংলাদেশ, ভারত এবং ইন্দোনেশিয়ার দিকে ধাবিত হচ্ছে তাদের আকৃষ্ট করবে। প্রদর্শনীর পাশাপাশি ৩টি ব্রেকআউট সেশনও অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে ২০০ এর অধিক শিল্প সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, নীতিনির্ধারক এবং দেশী-বিদেশী অতিথিবৃন্দসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নেবেন বলে তিনি অবহিত করেন।
মোহাম্মদ সায়ফুল ইসলাম বলেন, চামড়াজাত পণ্য এবং পাদুকা সরবরাহের জন্য বাংলাদেশ দ্রুত একটি নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে। এ খাতে বাংলাদেশের সক্ষমতা ও সম্ভাবনাসমূহ প্রদর্শনের মাধ্যমে ব্লিস-২০২৩ নতুন ব্যবসার সুযোগ উন্মোচন করে বাণিজ্য ও বিনিয়োগকে ত্বরান্বিত করবে যার ফলে টেকসই প্রবৃদ্ধি এবং মানসম্পন্ন কর্মসংস্থান নিশ্চিত হবে বলে তিনি দৃঢ় অভিমত ব্যক্ত করেন।
চীনা বিনিয়োগকারী ও গোল্ডেন চ্যাঙ সুজ (বিডি) লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান জনাব জেমস হো বলেন, আমরা ইতোমধ্যে বাংলাদেশে ১৩০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেছি যেখানে চারটি কারখানা রয়েছে এবং পঞ্চমটি আসছে। আমাদের জুতা বাংলাদেশের জন্য সেরা রাষ্ট্রদূত, এটি বিশ্বকে দেখায় এখানে কী সম্ভব, তিনি যোগ করেন।