সাফল্য পেলে প্রায় সব ক্রীড়াবিদই নিজস্ব ধরনের একটি উদযাপন করেন। অনেকেই প্রিয় তারকার উদযাপন অনুকরণ করেন। যেখানে ফুটবলারদের উদযাপনগুলো বেশি ‘নকল’ করতে দেখা যায়। উইকেট নেওয়ার পর জাসপ্রিত বুমরার নতুন উদযাপনের পেছনের কারণ কী, খতিয়ে দেখা যাক।
উইকেট শিকারের পর ট্রেডমার্ক ‘সিউ’ সেলিব্রেশন করেন ভারতীয় পেসার মোহাম্মদ সিরাজ। বুঝিয়ে দেন, তিনি পর্তুগিজ তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর বড় ভক্ত। দিল্লিতে বুধবার আফগানিস্তানের বিপক্ষে বিশ্বকাপের ম্যাচে ইব্রাহিম জাদরানকে আউট করার পর দুচোখ বন্ধ করে মাথায় আঙুল (তর্জনী) রাখেন বুমরা। এই উদযাপনটা ফুটবল দর্শকদের চেনা।
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ইংলিশ ফরোয়ার্ড মার্কাস র্যাশফোর্ড গোল করার পর এভাবেই উদযাপন করেন। রোনালদোর ‘সিউ’, কিলিয়ান এমবাপ্পের ‘আর্ম ফোল্ড’–এর মতো র্যাশফোর্ডের উদযাপনের একটা নাম আছে—‘টেম্পল পয়েন্ট’। বুমরা গতকাল র্যাশফোর্ডকেই অনুকরণ করেছেন
২০২১–২২ মৌসুমটা বাজে কেটেছিল র্যাশফোর্ডের। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ইউনাইটেডের হয়ে ৩২ ম্যাচে করেছিলেন মাত্র ৫ গোল। তবে ২০২২–২৩ মৌসুমে তার সেরাটা দেখা গেছে। নিজে করেছেন ৩০ গোল, সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন ১১টি। দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর পর থেকে ‘টেম্পল পয়েন্ট’ উদযাপন করে আসছেন র্যাশফোর্ড। মূলত এর মাধ্যমে তিনি মানসিক স্বাস্থ্যকে ইঙ্গিত করেন।
বুমরার গল্পটা একই ধরনের না হলেও কিছুটা মিল আছে। পিঠের চোটে প্রায় ১১ মাস মাঠে বাইরে ছিলেন এই পেসার। গত আগস্টে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ৩২৭ দিন পর ভারতীয় দলে ফিরেই হয়েছিলেন ম্যাচসেরা। সর্বশেষ এশিয়া কাপেও ভালো করেছেন।
ছন্দটা ধরে রেখেছেন বিশ্বকাপেও। চেন্নাইয়ে গত রোববার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ভারতের জয়ে ২ উইকেট নিয়েছিলেন। দিল্লিতে আফগানদের বিপক্ষে তার শিকার ৪ উইকেট। তবে রাশফোর্ডের উদযাপন অনুকরণ করেছেন প্রথম উইকেটটি পাওয়ার পর।
এত ফুটবলার থাকতে র্যাশফোর্ডের উদযাপনের ধরনই কেন, এমন প্রশ্ন উঠতেই পারে। বুমরার ফুটবলপ্রেম সম্পর্কে অনেকেরই কমবেশি জানা। ক্লাব ফুটবলে তিনি র্যাশফোর্ডের দল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের পাঁড় ভক্ত। ২০২১ সালে ভারতীয় দলের ইংল্যান্ড সফরের সময় রেড ডেভিলদের মাঠ ওল্ড ট্রাফোর্ডে গিয়েছিলেন। তাকে সে সময় জার্সিও উপহার দিয়েছিল ইউনাইটেড কর্তৃপক্ষ।
প্রিয় ক্লাবের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়ের উদযাপনকেই তাই নিজের উইকেটপ্রাপ্তির উদযাপনের টেনে এনেছেন বুমরা। হয়তো বার্তা দিতে চেয়েছেন তিনিও এখন মানসিকভাবে অনেক শক্তিশালী।