ওরাই গাড়িচালক

ঢাকার গণপরিবহনে অপ্রাপ্তবয়স্ক ও ড্রাইভিং লাইসেন্সবিহীন চালকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ সরকারের পক্ষ থেকে অনেক আগেই দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তা বাস্তবায়িত হয়নি। ২ বছর আগে পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স গ্রহণ কিংবা নবায়নের জন্য প্রার্থীর ডোপ টেস্ট সনদ দাখিল সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছিল বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। সেখানে বলা হয়েছিল প্রার্থীর আবেদনপত্রের সঙ্গে সরকারি হাসপাতাল কর্তৃক সম্পাদিত ডোপ টেস্ট রিপোর্ট/সনদ দাখিল করতে হবে।  ডোপ টেস্ট রিপোর্ট/সনদ পজিটিভ হলে (মাদক সেবনের আলামত পাওয়া গেলে) বা এতে কোনো বিরূপ মন্তব্য থাকলে সেক্ষেত্রে পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স ইস্যু/নবায়ন করা হবে না। কিন্তু সেই পর্যন্তই। এরপর আর কোনো সংবাদ নেই এ বিষয়ে। বর্তমানে আবার জানা যাচ্ছে, দেশের গাড়িচালকদের ৩৬ শতাংশ উচ্চ রক্তচাপ ও ১৭ শতাংশ দৃষ্টিজনিত সমস্যায় ভুগছে। এ ছাড়া প্রায় ৭ শতাংশ চালকের চোখের ছানির সমস্যা রয়েছে। বুধবার একটি জরিপের বরাত দিয়ে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসের এক অনুষ্ঠানে এই তথ্য তুলে ধরেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব এ বি এম আমিন উল্লাহ নুরী।

বাস ড্রাইভারদের বেপরোয়া গাড়ি চালনা এবং কন্ডাক্টর ও হেলপারের স্বেচ্ছাচারিতার কাছে সাধারণ যাত্রী জিম্মি। তাদের উগ্র আচরণে এসব যাত্রী একেবারেই অসহায়। যে কারণে, ইচ্ছামতো তারা পাবলিক বাস নিয়ন্ত্রণ করছে। এ বিষয়ে দেশ রূপান্তরে বৃহস্পতিবার ‘উচ্চ রক্তচাপে ভুগছে ৩৬% গাড়িচালক’ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে চালকদের স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন থাকা গুরুত্বপূর্ণ, এমন মন্তব্য করে সড়ক পরিবহন সচিব বলেন, গত বছর ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন পরিচালিত স্বাস্থ্য ও চক্ষু পরীক্ষা কার্যক্রমে প্রায় ৬০০ চালকের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। সেখানে চালকদের এসব স্বাস্থ্যজনিত সমস্যা উঠে আসে। যানবাহন চালানোর সময় যদি চালকদের স্বাস্থ্য সমস্যা থাকে তাহলে সড়কে দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা থাকে বলে জানান সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে বিআরটিএর চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ মজুমদার বলেন, আমাদের দেশের চালকরা তাদের স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন নয়। বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যা, বিশেষ করে চোখের সমস্যা নিয়ে তারা গাড়ি চালান। এটি সড়ক দুর্ঘটনার একটি অন্যতম কারণ।

এ এক অদ্ভুত পরিস্থিতি। দেশের বিভিন্ন সেক্টরে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা গেলেও সম্ভব হচ্ছে না পরিবহন চালকদের নিয়ন্ত্রণ করা। সেইসঙ্গে আবার তাদের স্বেচ্ছাচারিতাও অনেকটা চরম পর্যায়ে। এ বিষয়ে যেন সাধারণ মানুষের পক্ষে কেউ নেই। এর মধ্যে আবার জানা গেল, ড্রাইভাররা হাইপারটেনশন এবং চোখের ছানির সমস্যায় রয়েছে।

একটি পাবলিক বাসে গড়ে কমপক্ষে ৫০ জন যাত্রী থাকেন। যদি ঢাকার চারপাশে দৈনিক কমপক্ষে ৩০০০ বাস চলাচল করে, তাহলে মোট কত লাখ যাত্রীর জীবন নির্ভর করে একজন ড্রাইভারের ওপর? আবার সেই ড্রাইভার যদি হয় উচ্চ রক্তচাপের রোগী, চোখে ছানি পড়া এবং মাদকাসক্ত তাহলে এর সমাধান কোন কর্তৃপক্ষের হাতে? কেবলমাত্র পরিবহনের জন্যই, দেশে এত এত সরকারি প্রতিষ্ঠান রয়েছে তাদের আসলে কাজটা কী? প্রতিদিন শুধু গাড়ির কিংবা ড্রাইভারের লাইসেন্স দেওয়া! এ ছাড়া তাদের আর কোনো দায়িত্ব নেই? এর মানে হচ্ছে, সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের এই দুর্ভোগ লাঘবে কেউ নেই। তাদের কেবলই বেঁচে থাকতে হবে অদৃষ্টের কাছে নিজেকে সঁপে দিয়ে। কোনো সভ্য দেশে এত ভয়ংকর নৈরাজ্য দীর্ঘদিন ধরে চলছে কি না তা রীতিমতো গবেষণার বিষয়। এটাই এখন জানতে এবং মানতে হবে পাবলিক বাসের অধিকাংশ ড্রাইভারের চোখে ছানি রয়েছে, তারা উচ্চ রক্তচাপে ভুগছে, তারা মাদকাসক্ত। যে কারণে খুব সহজেই তারা যাত্রী সাধারণের সঙ্গে উন্মত্ত, অশালীন আচরণ করে এবং তাদের চলাচলে এক ধরনের ডোন্ট কেয়ার মনোভাব প্রকাশ পায়। এর সমাধান ঠিক কোন কর্তৃপক্ষ করবেন তা কি কেউ জানেন!